বৃন্দাবনের নিধু বনের মতই সূর্যাস্তের পরে এখানে থাকা নিষেধ, বেড়িয়ে আসুন কলকাতার কাছেই এই অজানা জায়গা থেকে
সপ্তাহান্তে বেড়ানোর জায়গা কলকাতার কাছে পিঠেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। কলকাতার খুব কাছেই এমন একটা জায়গা রয়েছে যা খুব কম লোকই জানেন। রাখাল রাজার মন্দির। অনেকেই সেখানকার কথা জানেনা না। বেশ শান্ত পরিবেশ। বিশাল বিশাল বট গাছের ছায়া রয়েছে এই মন্দিরে।

রাখাল রাজার মন্দির
কলকাতার কাছেই রয়েছে এই রাখাল রাজার মন্দির। অমনেকেই জানেন না সেই মন্দিরের কথা। বৈঁচিতে রয়েছে এই রাখাল রাজার মন্দির। ষোড়শ শতকে তৈরি এই মন্দিরের নেপথ্যে অনেক কাহিনী জড়িয়ে রয়েছে। এই মন্দিরটি তৈরি হয়েছিল ষোড়শ শতকে। রামকানু গোস্বামী নামে কাটোয়ার এক বাসিন্দা স্বপ্নাদেশ পেয়ে মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন।

কী স্বপ্নাদেশ
রামকানু গোস্বামী স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণের। ভাইয়ের সঙ্গে বিবাদের পর বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসে গ্রামের কাছের একটি জঙ্গলে থাকতেন কুটির তৈরি করে। রাখাল রাজার ভক্ত ছিলেন তিনি। স্বপ্নাদেশে রাখাল জানা বৈদ্যপুরের কাছে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে। সেই স্বপ্নাদেশ পেয়েই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন তিনি।

মূর্তি তৈরির নেপথ্যের কাহিনী
রাখাল রাজার মূর্তি ঘিরেও রয়েছে একটি কাহিনী। রাখাল রাজা নাকি রামকানু গোস্বামীকে স্বপ্নাদেশে বলে দিয়েছিলেন কীভাবে তাঁর মূর্তি তৈরি হবে। সেই কাহিনী পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মূর্তি তৈরির কাহিনীর মত। স্বপ্নাদেশে রাখাল রাজা বলেছিলেন, যেখানে তাঁর মন্দির তৈরি হবে সেখানে একটি পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরে একটি কাঠ ভেসে উঠবে। সেই কাঠ দিয়ে তাঁর বিগ্রহ নির্মাণ করে যেন পুজো করা হয়।

বিকেল চারটের পর প্রবেশ নিষেধ
এই মন্দির চত্ত্বরটি অনেকটা বৃন্দাবনের নিধুবনের মত। মন্দিরের সামনে প্রশস্ত মাঠ। যেখানে গরু বাছুর চড়তে পারে। আবার তার কাছেই রয়েছে বড় বড় প্রাচীন বটগাছ। তােদর বয়স কেউ সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেন না। বিকেল চারটে পর্যন্ত খোলা থাকে মন্দির। সূর্যাস্তের পর এই মন্দির চত্ত্বরে কারোর থাকা নিষেধ।

কেন প্রবেশ নিষেধ
সূর্যাস্তের পর এই মন্দির চত্ত্বরে কেউ থাকতে পারেন না। কাউকে থাকতেও দেওয়া হয় না। কারণ কথিত আছে সূর্যাস্তের পরে নাকি রাখাল রাজা এখানে তাঁর ধেনুদের নিয়ে চড়ান। সেকারণে কাউকে থাকতে দেওয়া হয় না। ঠিক যেমনটা বৃন্দাবনের নিধুবনে সূর্যাস্তের পরে কাউকে থাকতে দেওয়া হয় না। ঠিক সেরকমই নাকি দৈবিক কারণে এখানে সূর্যাস্তের পরে কাউকে থাকতে দেওয়া হয়নি।

বড় উৎসব
এখানে দোল পূর্ণিমা থেকে শুরু করে মাঘি পূর্ণিমা এবং জন্মাষ্টমীতে বিশাল উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে। অনেক দর্শনার্থীরা সেখানে আসেন। এখানে ভোগ রান্না হয়। বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয় এখানে। রাখার রাজার মন্দিরের কাছেই রয়েছে জগৎ গৌরী মায়ের মন্দিরও বেড়িয়ে আসতে পারেন।

কীভাবে যাবেন
রাখাল রাজার মন্দির যেতে গেলে হাতে একটা দিন ছুটি থাকলেই হয়। হাওড়া বর্ধমান মেইন লাইনের লোকাল ট্রেনে ধরে যেতে হবে বৈঁচি স্টেশনে। সেখান থেকে কালনাগামী যেকোনও বাসে চড়ে বৈদ্যপুরে নামলেই পৌঁছে যাওয়া যাবে রাখাল রাজার মন্দিরে। এক দিনের ছোট্ট ছুটিতে অনায়াসেই বেড়িয়ে আসা যায়।












Click it and Unblock the Notifications