মনোহরার স্বাদ নিতে নিতে বেড়িয়ে আসুন কলকাতার কাছেই এই ইন্দো-ক্যাথলিক স্থাপত্যের রাজবাড়ি থেকে
মষ্টি ভালবাসে না এমন বাঙালির মেলা কঠিন। আর এমনই একটি মিষ্টি হল মনোহরা। তার স্বাদ কোনও বাঙালিরই অজানা নয়। হুগলির জনপ্রিয় জায়গা জনাই হল এই মিষ্টির আঁতুরঘর। এখানেই মনোহরা তৈরি হয়। তবে এই জনাই আরও অনেক কিছু রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম ২০০ বছরের প্রাচীন জনাই রাজবাড়ি।

জনাইয়ের প্রসিদ্ধ মনোহরা
কলকাতার থেকে মাত্র কয়েকঘণ্টার মধ্যেই বেড়িয়ে আসা যায় এই জায়গা থেকে। পর্যটন সমৃদ্ধ হুগলি জেলাতেই রয়েছে জনাই। কলকাতা থেকে ট্রেনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার পথ। সেই জনাইয়ে মিষ্টি মনোহরা জগৎ বিখ্যাত। এই মনোহরাতেই তৈরি হয় সেই প্রসিদ্ধ মিষ্টি মনোহরা। যার স্বাদ অতুলনীয়। এখানেই একমাত্র পাওয়া যায় মনোহরা। ঘরের কাছে এমন একটি জনপ্রিয় মিষ্টির আঁতুরঘর ঘুরে দেখতে মন ভাল হয়ে যায়। সপ্তাহান্তে অনায়াসেই বেড়িয়ে আসা যায় এখান থেকে।

জনাই রাজবাড়ি
জনাইয়ের আবার রয়েছে ২০০ বছরের প্রাচীন একটি রাজবাড়ি। এই রাজবাড়িটি তৈরি করেছিলেন কালী প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির দেওয়ান ছিলেন তিনি। সরস্বতী নদীর কাছেই এই রাজবাড়িিট তৈরি করেছিলেন তিনি। সেকারণেই এই রাজবাড়িতে ইন্দো-ক্যাথলিক স্থাপত্য শৈলির নিদর্শণ মেলে। কড়ি কাঠের বারান্দা. দুর্গাদালান সবই রয়েছে এই রাজবাড়িতে। রয়েছে একটি নাটমন্দির। এই রাজবাড়িতেই দেখা যায় জোড়া শিবমন্দির। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই রাজবাড়ি অনেকটাই ভেেঙ গিয়েছে।

দুর্গাপুজো হয় এই রাজবাড়িতে
প্রথম থেকেই এই রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর প্রচলন ছিল। কালী প্রসাদ মুখোপাধ্যায় এই রাজবাড়িতে দুর্গাপুজোর আয়োজন করেছিলেন। সেসময় এলাহি আয়োজন হত। ঝাড়বাতির আলো আর নগবগে গমগম করর ঠাকুর দালান। এখনও সেই রাজবাড়িতে এই দুর্গাপুজো হয়। তাঁর বংশধরেররা এই পুজো করে থাকেন। তবে সেই জৌলুস আর এই রাজবাড়ির পুজোয় নেই। সেকারণে নাটমন্দিরের সামান্য রক্ষণাবেক্ষণ হয়ে থাকে। বাকি রাজবাড়ির অবস্থা বড়ই করুন।

কী ভাবে যাবেন
জনাই রাজবাড়ি দেখতে যাওয়ার পথ একেবারেই সরল। হাওড়া থেকে বর্ধমান লোকালে চেপে নামতে হবে জনাই স্টেশনে। স্টেশন থেকে ১০ টাকা টোটো ভাড়া দিয়েই পৌঁছে যাওয়া যায় এই রাজবাড়িতে। সম্প্রতি ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি, ইটাচুনা রাজবাড়ি, বাওয়ালি রাজবাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ করে সেখানে বিলাবহুল হোটেল তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু জনাই রাজবাড়ি ২০০ বছরের প্রাচীন হলেও এখনও সেই আয়োজন করে উঠতে পারেননি এই বাড়ির বংশধররা।
ছবি সৌ:ফেসবুক












Click it and Unblock the Notifications