প্রতিদিন একতিল করে বাড়ে এই শিবলিঙ্গ, বেড়িয়ে আসুন কলকাতার কাছেই এই পাথুরে পাহাড় থেকে
পাহাড়। কিন্তু আর পাঁচটা পাহাড়ের মত নয়। পাথরের সঙ্গে পাথর জুড়ে তৈরি হয়েছে এই পাহাড়। যাকে বলা হয় মামা-ভাগ্নে পাহাড়
মামা-ভাগ্নে পাহাড়। অনেকেই নাম শুনেছেন। সে এক অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন বললে ভুল হবে না। পাথরের সঙ্গে পাথর জুড়ে ব্যালেন্সের খেলা যেন। দুটি বিশালাকৃতি পাথর রয়েছে এখানে যার একটির নাম মামা আরেকটির নাম ভাগ্নে। দুটির উচ্চতা ২ রকম। কীভাবে তারা দাঁড়িয়ে রয়েছে সেটা দেখলেই অবাক লাগে। এই মামা ভাগ্নে পাহাড়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস আর পৌরাণিক কাহিনী।

মামা ভাগ্নে পাহাড়
মামা ভাগ্নে পাহাড়। বীরভূমের দুবরাজপুরে মামা ভাগ্নে পাহাড়ের কথা এনেকেই জানেন। পাথুরে দুটি পাহাড়ের নাম মামা এবং ভাগ্নে। কিন্তু একে কেন্দ্র করে অনেক ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে। সেকথা খুব কম লোকেই জানেন। সকলে এই পাহাড়ের আশ্চর্যজনক ভূমিরূপ দেখতেই ছুটে যান। দুবরাজপুর শহরের একেবারে মধ্যিখানে রয়েছে এই পাহাড়। চারপাশে জঙ্গলে ঘেরা। ছোটনাগপুর মালভূমির সম্প্রসারিত অংশ এটি।

রহস্যে ঘেরা এই পাহাড়
এই মামা ভাগ্নে পাহাড়ে রয়েছে তিলেশ্বর শিব মন্দির। সেই মন্দিরের শিবলিঙ্ক নাকি প্রতিদিন এক তিল বিন্দু করে বড়ো হচ্ছে। সেকারণেই এই মন্দিরের নাম তিলেশ্বর শিবমন্দির। একটি ছোট্ট শিলা থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে বাড়তে শিবলিঙ্গটি বিশালাকার নিয়েছে। পাথুরে পাহাড়ে উঠতে সিঁড়ি তৈরি করা হয়েছে। এই পাহাড় থেকে দেখা যায় হেতমপুর রাজবাড়িও। মামা ভাগ্নে পাহাড় তৈরি হয়েছে আগ্নেয় শিলা দিয়ে।

যোনি পীঠের সন্ধান
এই মামা ভাগ্নে পাহাড়েই রয়েছে একটি যোনি পীঠ। স্থানীয়দের বিশ্বাস কামাখ্যার মতই জাগ্রত সেটি। এই মামা ভাগ্নে পাহাড় গিরে একাধিক পৌরানিক কাহিনীও রয়েছে। শোনা যায় হিমালয় থেকে সেতু বন্ধনের পাথর যখন রামচন্দ্র নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তার কিছু অংশ পড়ে এই মামা ভাগ্নে পাহাড়ের উৎপত্তি হয়েছে। আবার আরেকটি মতে মহাদেবের নির্দেশে বিশ্বকর্মা যখন দ্বিতীয় কাশী তৈরি করছিলেন তখন কিছু পাথর এখানে পড়ে যায় সেই থেকেই মামা ভাগ্নে পাহাড়ে ৈতরি হয়েছে। মামা পাহাড়ের উচ্চতা ১৫ ফুট। আর ভাগ্নে পাহাড়ের উচ্চতা ১২ ফুট।

ব্যালেন্সিং রক
মামা ভাগ্নে পাহাড়কে ব্যালেন্সিং রকও বলা হয়ে থাকে। বিশালাকৃতি দুটি আগ্নেয় শিলা ব্যালেন্সের খেলায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের এই পাথরগুলি কোনও ক্ষতি হয়নি। এই মামা ভাগ্নে পাহাড়ে আবার রঘু ডাকাতের গুহাও রয়েছে। বেশ কিছু দিন নাকি রঘু ডাকাত এই মামা ভাগ্নে পাহাড়ে ডেরা গেরেছিল। এই মামা ভাগ্নে পাহাড়েই হয়েছিল সত্যজিৎ রায়ের গুপি গাইন বাঘাবাইন ছবির শ্যুটিংও। পাহাড়ের একটি অংশে রয়েছে পাহাড়েশ্বর আশ্রম। এই আশ্রমে নাকি তন্ত্র সাধনা করেন। এখানে একটি যজ্ঞকুণ্ডও রয়েছে। সেটি এখানেও জ্বলছে।
ছবি সৌ:ফেসবুক












Click it and Unblock the Notifications