যেতে হবে না মার্কিন মুলুকে, একদিনের ছুটিতে দেখে আসুন কলকাতার কাছেই মিনি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের নাম কে না শুনেছেন। কিন্তু সে তো হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে। সুদূর মার্কিন মুলুকে। বিরল এই ভূমিরূপ দেখার ইচ্ছে কার না হয়। কারোর সামর্থ নেই তো কারোর সুযোগ হয়নি। তবে চিন্তা নেই সেই ঘরের কাছেই রয়েছে মিনি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। বা বঙ্গের গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। তার জন্য বেশি দূরে পাড়ি দিতে হবে না। এক দিনের ছুটিতেই বেড়িয়ে আসা যায়।

মিনি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

মিনি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

একটি বিশেষ ধরনের ভূমি রূপ গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। এক মাত্র মার্কিন মুলুকেই তার দেখা মেলে। সেই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখতে অসংখ্য পর্যটক প্রতিবছর ভিড় করেন আমেরিকায়। কিন্তু সকলের তো সেই মার্কিন মুলুকে গিয়ে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখতে যাওয়ার সামর্থ নেই। তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে মিনি গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন। তাও আবার কলকাতার খুব কাছেই। পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতায় রয়েছে এই বিরল ভূমিরূপ। আমেরিকার মত প্রকাণ্ড বিশাল না হলেও একেবারেই নগন্য বলে ফেলে দেওয়ার মতও নয়।

গনগনির গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

গনগনির গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

পশ্চিম মেদিনীপুরের গড়বেতার কাছে শিলাবতী নদীর পাড়ে ৈতরি হয়েছে এই বিরন ভূমিরূপ। স্থানীয়রা যাকে বলে থাকেন গনগনি ডাঙা। আবার বলে থাকেন গনগনি খোলা। লাল কাঁকুড়ে মাটিতে অদ্ভুত সেই ভূমিরূপ দেখতে অনেকেই আসেন। তবে এখনও েসভাবে পর্যটকদের দেখা মেলে না। কাঁকুড়ে মাটির ভূমিরূপগুলি আবার কখনও কখনও বিভিন্ন মূর্তির আকারে তৈরি হয়ে গিয়েছে। স্থানীয়রা বলে থাকেন গনগনির এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়েনের ডাঙাগুলির কোনওটি সিংহের মত আবার কোনটা দেখতে বৌদ্ধ প্যাগোডার মত।

গনগনির লোককাহিনী

গনগনির লোককাহিনী

গনগনির এই বিশেষ ভূমিরূপকে ঘিরে অনেক লোককাহিনী রয়েছে। স্থানীয়দের মুখ থেকেই শুনতে পাবেন েসই সব গল্প। একটি জনপ্রিয় লোককাহিনী আবর্তিত হয়েছে মহাভারতকে কেন্দ্র করে। মনে করা হয় পাণ্ডবরা যখন হস্তিনাপুর থেকে পালিয়ে বেরাচ্ছিলেন তখন এই গনগনিতে এসেছিলেন। মাতা কুন্তিকে নিয়ে তাঁরা এখানে থাকতে শুরু করেছিলেন। সেসময় এই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াত বকাসুর নামে এক রাক্ষস। প্রতিদিন আশপাশের গ্রাম থেকে একজন করে মানুষকে তাঁর খাদ্য হিসেবে পাঠাতেন গ্রামবাসীরা। এক ব্রাহ্মণ বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন পাণ্ডবরা। ঘটনাচক্রে সেই দিন সেই ব্রাহ্মণ বাড়ির এক সদস্যেক বকাসুরের খাদ্য হিসেবে পাঠানো হয়েছিল। ব্রাহ্মণ পরিবারের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে কুন্তি তাঁর দ্বিতীয় পুত্র ভীমকে সেখানে পাঠান। বকাসুরের সঙ্গে ধুন্ধুমার যুদ্ধ হয় ভীমের। সেই যুদ্ধে বকাসুরকে বধ করেন ভীম। কিন্তু তাঁদের যুদ্ধে এই গনগনির ভূমিরূপ গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মত আকার নিয়েছিল।

স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েেছ এখানে

স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসও জড়িয়ে রয়েেছ এখানে

শুধু পৌরাণিক কাহিনী নয় গনগনির এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের সঙ্গে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের চুয়ার বিদ্রোেহর নাম জড়িয়ে রয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দির শেষের দিকে এখানে শুরু হয়েছিল চুয়ার বিদ্রোহ। আর ব্রিিটশদের বিরুদ্ধে এই বিদ্রোহে সামিল হয়েছিলেন কর্নগড়ের রানি শিরোমনি থেকে শুরু করে ঘাটশিলার রাজা রাজা জগন্নাথ সিংও। এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়নেই লুকিয়ে থাকতেন চুয়াড় বিদ্রোহের যোদ্ধরা। কাজেই শুধু গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের মত ভূমিরূপের জন্য নয় এর সঙ্গে নানা ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে।

কীভাবে যাবেন

কীভাবে যাবেন

একদিনের ছুটিতেই বেড়িয়ে আসা যায় গনগনি থেকে। শুষ্ক আবহাওয়াতেই গনগনি বেড়িয়ে আসা ভাল। কারণ সেসময় শিলাবতি নদীর জল বেড়ে যায়। তখন সেখানে দেখা যায় না। সেকারণে গনগনি যাওয়ার সেরা সময় বসন্ত কাল। ট্রেনে, বাসে অথবা নিজের গাড়িতে গনগনি বেড়িয়ে আসা যায় এক দিনের মধ্যেই। সেখানে যাওয়ার পথটাও ভীষণ সুন্দর। ঝাড়গ্রাম থেকে সড়ক পথে গনগনি যেতে সারি সারি কাজু বাজাম গাছের জঙ্গল দেখা যায়। বসন্ত কালে কৃষ্ণচূড়া আর মহুয়া ফুলে ভরে যাতে গড়বেতা ঝাড়গ্রাম।

ছবি সৌ:লাল পিঁপড়ে/ইউটিউব ভিডিও

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+