জানেন কি দক্ষিণ ভারতেও রয়েছে এক অযোধ্যা, ঘুরে আসুন সেই পবিত্রস্থানে
দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে রাম এবং রামায়ণের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। রামায়ণে বর্ণিত বনবাসের সিংহভাগ সময় এই অযোধ্যাতেই কাটিয়েছিলেন রাম, লক্ষ্মণ এবং সীতা। অর্থাৎ রামায়ণের সিংহভাগ জুড়েই রয়েছে এই দক্ষিণভারত। তারপরে আবার হনুমানের জন্মস্থানও রয়েছে এই দক্ষিণ ভারতে।
সেকারণে অযোধ্যায় রাম মন্দিরের প্রাণ প্রতিষ্ঠার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দক্ষিণভারতের একাধিক মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। এই দক্ষিণভারতেই রয়েছে এমন একটি জায়গা যাকে দক্ষিণের অযোধ্যা বলা হয়। তেলেঙ্গানার একেবারে মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত সেই মন্দির।

তেলেঙ্গানার ভদ্রাচলমে সীতা রামচন্দ্রস্বামী মন্দির রয়েছে। শতাব্দী প্রাচীণ এই মন্দিরটির মূল উপাস্য দেবতা রাম-সীতা। কথিত আছে এই ভদ্রাচলমে বসবাস করতেন রাম ভক্ত ভদ্রাচলা রামাদাসু। সেই ধর্মপ্রাণ ব্রাহ্মণ এবং তাঁর রামের প্রতি ভক্তি এবং সমর্পণ দেখে সেখাকার রাজা এই মন্দিরটি তৈরি করে দিয়েছিলেন।
তেলেঙ্গানার নেলাকোন্ডাপল্লী গ্রামে সাধারণ ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মে ছিলেন রামাদাসু। কৈশোরেই তিনি তাঁর মা-বাবাকে হারিয়েছিলেন। তারপরেই চরম দারিদ্রের মধ্যে দিন যাপন করতে হতো তাঁকে ভক্তি গীতি গেয়ে ভিক্ষে করতেন রামাদাসু। তারপরে তিনি বৈষ্ণব ধর্মে দীক্ষা নিয়েছিলেন। বৈষ্ণব গুরু রঘুনাথ ভট্টাচার্যের কাছে দীক্ষা নেওয়ার পরেই বদলে গিয়েছিল রামাদাসুর জীবন।
ভদ্রাচলমে তহশিলদারে পরিণত হন তিনি। তিনিই এই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন। তারপরকে গোলকোন্ডার শাসক তাঁকে ১২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। কিন্তু সেই কারাদণ্ড তাঁকে বেশিদিন ভোগ করতে হয়নি। কারণ তাঁর ভক্তিগীতিতে মুগ্ধ হয়ে গোলকোণ্ডার রাজা তাঁকে মুক্তি দেন। বলা হয়ে থাকে রাম-লক্ষ্মণ নিজে এসে রামাদাসুর মুক্তি করিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। এবং রামাদাসুকে একটি নেকলেস এবং রামের ছবি দেওয়া একটি স্বর্ণ মূদ্রা দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই দুটি নাকি এখনও সংরক্ষিত রয়েছে মন্দিরের ভেতরে।
সেকারণে এই মন্দিরটিকে দক্ষিণের অযোধ্যা বলা হয়ে থাকে। কাজেই যাঁরা রাম মন্দির দর্শনে যাবেন ভাবছেন তাঁরা একবার দক্ষিণের অযোধ্যায় ঘুরে আসুন মন্দ লাগবে না। অনেকেই জানেন না এই মন্দিরের কথা। এবং তার পৌরাণিক মাহাত্মের কথা।












Click it and Unblock the Notifications