গোটা গ্রাম যেন একটা ক্যানভাস, বেড়িয়ে আসুন কলকাতার কাছেই আলপনা গ্রাম থেকে
কলকাতার কাছাকাছিই রয়েছে আলপনা গ্রাম
গোটা গ্রাম যেন একটা ক্যানভাস। প্রত্যেকটি ঘর দেখলে মুগ্ধ হয়ে যাবে মন। এমনই সেখানকার গ্রামবাসীদের শিল্পকলা। ঘরে ঘরে যেন শিল্পী রয়েছে। এমনই আশ্চর্য সুন্দর গ্রাম থেকে বেড়িয়ে আসার সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। বিশেষ করে সেটা যখন রয়েছে একেবারে ঘরের কাছেই মানে কলকাতার কাছেই। তাই সপ্তাহান্তের ছুটিতে ব্যাগ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ুন।

আলপনার গ্রাম
কলকাতার কাছেই রয়েছে আলপনার গ্রাম। পূর্ববর্ধমানের একটা ছোট্ট গ্রাম লবন্ধার। সেখানে যেন ঘরে ঘরে শিল্পী। ছোট্ট তিন বছরের শিশু থেকে প্রবীণা সকলের কাছেই তুলির টান যেন ছেলেখেলা। গ্রামের প্রতিটি বাড়ি যেন তাঁদের ক্যানভাস। তাঁদের শিল্পকর্ম সকলকে মুগ্ধ করবে। এই লবন্ধার গ্রামের নাম তাই আলপনা গ্রাম হয়ে গিয়েছে। এই গ্রামের বাসিন্দাদের শিল্পকর্ম দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে সকলের।

কী রয়েছে দেখার
সেরকম দেখার বলতে কিছুই এই শিল্পকর্ম ছাড়া। আমরা তো প্রায়ই শহুরে ব্যস্ততা ছেড়ে কোনও গ্রামীণ রিসর্টে সময় কাটাতে চাই। কিন্তু তাঁদের জন্য এই লবন্ধার গ্রাম আদর্শ বললে ভুল হবে না। একদিকে একেবারে গ্রামীণ পরিবেশ আরেকদিকে শিল্পের সমাহার। দুয়ের মেলবন্ধনে একেবারে মন ভরে যাবে। পূর্ব বর্ধমানেরএই লবন্ধার গ্রামের কথা অনেকেই জানেন না। দুর্গাপুর যাওয়ার পথে পড়বে সেই গ্রাম। যাওয়ার পথে পড়বে মাইলের পর মাইল ধানের খেত। বাসও যায় এই রাস্তায়। গ্রামের ঢুকতে না ঢুকতেই দেখা মিলবে শিল্পীদের কাজ। গ্রামের পাঁচিল, দেওয়াল সবকিছুই তাঁদের ক্যানভাস হয়ে উঠেছে।

ছবির গ্রাম
এই লবন্ধার গ্রামকে ছবির গ্রাম বললে ভুল হবে না। সব বাড়িতেই না না রকমের ছবি রয়েছে সেখানে। খুব গরিব নয় গ্রামটি। সেদিরক থেকে বর্ধিষ্ণু এটি। অসম্ভব সুন্দর সেই সব ছবি। প্রত্যেকটি ছবিতে রয়েছে কোনও কোনও সামাডিক বার্তা। সেটা পরিবেশ দূষণ থেকে শুরু করে শিশু সুরক্ষা সবটাই। দোলের সময় বড় উৎসব হয় এখানে। কাজেই দোলের দিন এই আলপনা গ্রামে বেড়ানো আদর্শ জায়গা হতে পারে।

৩০০ বছরের প্রাচীন মন্দির
৩০০ বছরের প্রাচীণ মন্দির রয়েছে টেরাকোটার কাজের সেই মন্দিরে প্রতিবছর দোলের দিন পুজো হয়। পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে রয়েছে সেই মন্দির। আর আলপনার গ্রামে আসতে হলে গাড়ি নিয়েই আসা ভাল। বাসে করে এলেও সময় লাগবে। তবে বাস চলে। রাস্তা ভালই। গাড়ি নিয়ে অনায়াসেই আসা যায়। এই গ্রামে থাকার ব্যবস্থা এখনও তৈরি হয়নি। এখনও তেমন ভাবে প্রচারের আলোয় সেটা আসেনি। তাই থাকতে হলে বর্ধমান অথবা দুর্গাপুরেই থাকতে হবে। অথবা কলকাতায় ফিরে যেতে পারে রাতের মধ্যে।
ছবি সৌজন্য - ফেসবুক












Click it and Unblock the Notifications