Travel: পাণ্ডবরা নন, এই গ্রামে পূজিত হন কৌরবরা, এমনকী শকুনীর নামেও রয়েছে মন্দির, ঘুরে আসুন পুজোর ছুটিতে
মহাভারতে পাণ্ডবদের মন্দির অনেক রয়েছে। কিন্তু কৌরবদের পুজো হয় এমন মন্দিরও রয়েছে সেকথা জানেন কি। হ্যা এমন রয়েছে আমাদের দেশেই। অনেকেই জানেন না সেই জায়গার কথা। কিন্তু পুজোর ছুটিতে এমন একটা জায়গায় যদি ঘুরে আসতে পারেন তাহলে কেমন হয়।
অনেকেই পৌরাণিক জায়গায় ঘুরতে ভালবাসেন। এমনই একটি জায়গা রয়েছে এই পাহাড়ি গ্রামে। একেবারে পাহাড়ের উপরে রয়েছে কৌরবদের মন্দিরে ঘেরা সেই এলাকা। যেখানে প্রতিবছর শয়ে শয়ে পুণ্যার্থী থান পুজো দিতে। কিন্তু পর্যটন মানচিত্রে সেই জায়গাটি এখনও তেমনভাবে জায়গা পায়নি।

পুজোর ছুটিতে বা অন্য কোনও ছুটিতে অনেকেই হয়তো কেরলে যাচ্ছেন। এই কেরলেই রয়েছে কৌরকবদের মন্দিরে ঘেরা সেই জায়গা। কেরলের কোল্লাম জেলার একটি পাহাড়ের উপরে রয়েছে জায়গাটি। যেখানে ১০০ টি মন্দির রয়েছে। কৌরবদের নামে নামে রয়েছে মন্দিরগুলি। দুর্যোধন, দুঃশাসন থেকে শুরু করে কৌরবদের বোন দুঃশলা এমনকী শকুনির নামেও মন্দির রয়েছে সেখানে। এমনকী কর্ণের নামেও মন্দির রয়েছে সেখানে।
কেরলেরক দক্ষিণ দিকে রয়েছে জায়গাটি। যেখানে নাকি কৌরবদের বংশের লোকেরা বাস করে থাকেন। এই মন্দিরগুলির নেপথ্যে একটি পৌরাণিক কাহিনীও রয়েছে। শোনা যায় পাণ্ডবদের খোঁজে দুর্যোধন এই জায়গায় এসে পড়েছিলেন। এবং প্রচণ্ড ক্লান্ত ও তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়েছিলেন তিনি। তখন গ্রামের বাসিন্দারা জল পান করিয়ে তাঁর তৃষ্ণা মেটান। তাতে ভীষণ প্রসন্ন হয়েছিলেন দুর্যোধন।
সেই গ্রাম থেকে যাওয়ার সময় দুর্যোধন নাকি গ্রামবাসীদের জানিয়েছিলেন তিনি সাত দিনের মধ্যে ফিরে আসবেন এবং যদি ফিরে না আসেন তাহলে যেন তাঁরা দুর্যোধনের শেষকৃত্য করেন। দুর্যোধন আর ফিরে আসেননি। তবে গ্রামবাসীরা নাকি এখনও বিশ্বাস করেন এই গ্রামে রয়ে গিয়েছে দুর্যোধনের আত্মা। সেকারণে প্রতি শুক্রবার এখানে দুর্যোধনের মন্দিরে পুজো হয়।
এবং দুর্যোধনের কারণেই গোটা গ্রামের চাষিরা বিশাল জমি পেয়েছেন। এবং তাতে ফসল ফলাতে পারেন বলে বিশ্বাস করে থাকেন তাঁরা। দুর্যোধনই কেবল নয় শকুনি এবং দুঃশলার মন্দিরও রয়েছে এখানে। গ্রামে কথিত আছে মহাভারতের যুদ্ধে মারা যাওয়ার পরে শকুনির দেহ এই গ্রামে এসে পড়েছিল। দুর্যোধনের মন্দির থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে রয়েছে শকুনির মন্দির। এখানে নাকি শকুনি শিবের উপাসনা করে মোক্ষ পেয়েছিলেন সেই জায়গাও রয়েছে।
শকুনির মন্দির থেকে আবার ৩০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে কর্ণের মন্দির। গোটা গ্রামে এবং তাঁর সংলগ্ন এলাকায় ১০০ টি মন্দির রয়েছে কৌরবদের নামে নামে। নিয়ম করে গ্রামবাসীরা এই মন্দিরে পুজো করে যান। এবারের পুজোর ছুটিতে কেরলে এই অচেনা লোকেশনে ঘুরে আসুন।












Click it and Unblock the Notifications