Travel: মহানদীতে নৌকাবিহার, চলে আসুন কলকাতার কাছেই সাতকোশিয়ার জঙ্গলে
জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা হয়ে গিয়েছে। রথের প্রস্তুতি প্রায় শুরু। ওড়িশা মানেই যে কেবল পুরী আর জগন্নাথ দেব দর্শন তা নয়, ওড়িশার ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য সুন্দর সুন্দর সব পর্যটন কেন্দ্র তার মধ্য অন্যতম সাত কোশিয়া। ভূবনেশ্বরের কাছেই সেই সাতকোশিয়া

সাতকোশিয়া
ওড়িশার সাতকোশিয়া। মহানদীর উপকূলে বিস্তৃত জঙ্গল। সাত ক্রোশ ব্যাপী নদীর গিরিখাত। তাই নাম সাতকোশিয়া। মহানদীর এই গিরিখাতে নৌকা বিহারের সুযোগও রয়েছে। কমলডিহির ঘাট থেকে শুরু হয় নৌকা বিহার। বর্ষায় এই নদী খাত আরও ভরে ওঠে। সেসময় জঙ্গলওএ আরও সবুজ হয়ে ওঠে। বর্ষার শুরুর দিকে সাতকোশিয়া বেড়ানো সব থেকে ভাল সময়। তবে বেশি বৃষ্টি হলে নৌকা বিহার বন্ধ থাকে।

নীলমাধব মন্দির
সাতকোশিয়ার আরেকটি দর্শনীয় স্থান নীলমাধব মন্দির। মন্দির জঙ্গলের মধ্যে। তার জন্য প্রায় ৫০টি সিঁড়ি ভাঙতে হয়। নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে মহানদী। বেলেপাথরের তৈরি মন্দিরটি। এখানে বারোমাসে তেরো পার্বন লেগেই রয়েছে। স্নান যাত্রা, ঝুলনযাত্রা, রাসপূর্ণিমা কি হয় না। মাঘ মাসে হয় প্রধান উৎসব। সেসময় মেলা বসে এখানে।

নীলমাধব মন্দিরের কাহিনী
এই নীলমাধব মন্দিরকে কেন্দ্র করে একটি পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে। স্কন্দ পূরাণে বলা হয়ে থাকে শবর রাজা বিশ্ববসু নাকি একটি নীলকান্ত মনিকে বিষ্ণু রূপে পুজো করতেন। পরে সেটিই নীলমাধব নামে পূজিত হন। চন্দ্রবংশীয় মালব্যরাজ ইন্দ্রদ্যুম্ন প্রথম এই নীলকান্ত মনির সন্ধান পান এবং তিনি এই মন্দিরটি স্থাপন করেন। তখন থেকে এই মন্দিরটি নীলমাধব মন্দির নামেই পরিচিত।

সাতকোশিয়ার জঙ্গল
মহানদীর গিরিখাত জুড়ে রয়েছে জঙ্গল। যাকে সাতকোশিয়া রিজার্ভ ফরেস্ট বলা হয়ে থাকে। নীলমাধব মন্দিরের সাত কিলোমিটার পর থেকেই শুরু হয় এই জঙ্গল। এখানে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। ওড়িশা সরকার ইকো টেন্ট তৈরি করেছেন পর্যটকদের জন্য। মহানদীতে নৌকা বিহারের সময় কচ্ছপ থেকে শুরু করে রকমারি মাছের দেখা মেলে। টেনে নিশিযাপন বেশ রোমাঞ্চময় হয়ে উঠবে।
ছবি সৌ:ফেসবুক












Click it and Unblock the Notifications