Travel: বর্ষায় হাতছানি দিয়ে ডাকছে প্রকৃতি, ঘুরে আসুন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতি বিজড়িত এই লোকেশনে
গরমে যেখানে নাজেহাল দশা হয়। সেই পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড বর্ষায় মনোরম হয়ে ওঠে। পাহাড়ে যখন বিপদ আর সমুদ্র যখন ভিড় তখন বাঙালি পর্যটকদের ভরসা হয়ে ওঠে এই ঝাড়খণ্ড। এর রাজ্যের সঙ্গে বাংলার বহু পুরনো আত্মিক পরিচয়।
এই ঝাড়খণ্ড জুড়েই রয়েছে কথা সাহিত্যিক বিভূতিভূষণের স্মৃতি আরণ্যক থেকে শুরু করে একাধিক উপন্যাসের সৃষ্টি করেছিলেন এই ঝাড়খণ্ডের ঘাটশিলা থেকে। কিন্তু শুধু কি ঘাটশিলা। অনেকেই জানেন না ঘাটশিলার কাছে এই ডেস্টিনেশনের কথা। যেখানে পূর্ণিমার রাতে নৌকে করে পৌঁছে যেতেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুবর্ণরেখা নদীতে একটি চরে এসে বসতেন তিনি। আর দূর থেকে ভেসে আসত আদিবাসীদের মাদলের শব্দ। সাহিত্যিক সেই জায়গাটির নাম দিয়েছিলেন রাতমোহনা। ঘাটশিলা তো অনেকবারই গিয়েছেন কিন্তু এই জায়গাটিতে খুব কম জনই এসেছেন।
রাতমোহনায় পৌঁছনো খুব একটা কিন্তু কঠিন নয়। হাওড়া থেকে ট্রেনে ঘাটশিলা পৌঁছে সেখান থেকে অটোতেই পৌঁছে যেতে পারবেন রাতমোহনায়। আগে এখানে তেমন থাকার জায়গা তৈরি না হলেও। এখন অনেক রিসর্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে। ঘাটশিয়া থেকে অটোয় ২০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় রাতমোহনা। একেবারে সুবর্ণরেখা নদীর পাড়েই রয়েছে জায়গাটি।
এখানকার রিসর্টগুলিও মুগ্ধ করবে। একেবারে বাঙালি মেজাজের সঙ্গে তাল মিলিয়েই তৈরি হয়েছে সেগুলি। মাটির ছোট ছোট কটেজ। কটেজের বারান্দা আল্পনা দিয়ে সাজানো। দূর থেকে দেখা যায় সুবর্ণ রেখা নদীর বয়ে যাওয়া। মাঝে মাঝে ছোট টিলা। পূর্ণিমার রাতে এই জায়গাটি সত্যিই যে মোহময় হয়ে উঠবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।
ঘাটশিলা বাঙালির কাছে বরাবরই প্রাণের কাছের জায়গা। আরণ্যকে পড়া সবটাই যেন এখানে এসে মিলে যায়। এখানে জঙ্গলের মধ্যে রয়েছে সিদ্ধেশ্বর শিব মন্দির। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বড় বড় শাল গাছের জঙ্গলের মধ্য দিয়ে চলে গিয়েছে লাল মাটির রাস্তা। এই পাহাড়ের উপর থেকে ঘাটশিলা দেখতে অসাধারণ লাগে।
এখানে আবার কাছেই রয়েছে রঙ্কিনী মাতার মন্দির। এই মন্দিরকে ঘিরে বেশ কিছু গল্প কথা প্রচলিত রয়েছে। মা কালীর আরেক রূপ মাতা রঙ্কিনী। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে অত্যন্ত পবিত্রস্থান এটি। তাঁরা এখানে এসে পুজো দিয়ে যান। কাজেই সপ্তাহান্তের ছুটিতে ঘুরে যান এই অফবিট ডেস্টিনেশন রাতমোগনায়।












Click it and Unblock the Notifications