Travel: মাটির বাড়ির দেওয়াল যেন ক্যানভাস, কয়েকদিনের ছুটিতে ঘুরে আসুন প্রতিবেশী রাজ্যের এই আল্পনা গ্রামে

বাঁকুড়া জেলার আল্পনা গ্রামের কথা সকলেই জানে। কিন্তু জানেন কি আমাদের প্রতিবেশী রাজ্যেই রয়েছে এমন একটি গ্রাম। সেখানেও গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দেওয়াল যেন ক্যানভাস। গ্রামে পা রাখলেই বদলে যায় মন। এতোটাই ছবির মতো সুন্দর সেই গ্রাম।

পাশের রাজ্য ত্রিপুরার লঙ্কামুড়া গ্রাম। আগরতলা থেকে খুব বেশি দূরে নয় সেই গ্রামের অবস্থান। এমনিতেও এই রাজ্যে পর্যটকদের আনাগোনা খুব একটা বেশি নেই। সেখানে গেলেও কয়েকটি জায়গা দেখেই বাঙালি পর্যটকরা ফিরে আসেন। কিন্তু ত্রিপুরার এই লঙ্কামুড়া গ্রামে খুব কম পর্যটকই গিয়েছেন।

village

এই গ্রামের প্রধান আকর্ষণ হল গ্রামবাসীদের শিল্পী সত্ত্বা। গ্রামের প্রতিটি মানুষই শিল্পী। তাঁদের হাতে যেন সরস্বতীর বাস। গ্রামের প্রতিটি মাটির বাড়ির দেওয়ালে রয়েছে রং বাহারি সব আল্পনা। যদিও বাংলার আল্পনার সঙ্গে এই লঙ্কামুড়ার গ্রামের শিল্পীদের আল্পনার ফারাক রয়েছে। এখানে জ্যামিতিক নকশায় আল্পনা দেওয়া হয়। অর্থাৎ আল্পনার টানে রয়েছে জ্যামেতিক নকশা।

আগরতলা শহর থেকে এই গ্রামের দূরত্ব ১০ কিলোমিটারের বেশি নয়। গোটা গ্রামেই কাপাসি সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। গ্রামে ঐশ্বর্যের আস্পালন রয়েছে এমন বাড়ি দেখতে পাবেন না। সকলেই কৃষিজীবী। কারোর নিজের জমি রয়েছে। কেউ আবার অন্যের জমিতে ভাগচাষ করেন। অর্থাৎ গোটা গ্রামেই চাষিদের বাস। সেকারণেই মনে হয় গোটা গ্রামটাই এতোটা লক্ষ্মীশ্রী। একটা সময়ে গ্রামটি কাপালি পাড়া বলে পরিচিত ছিলেও তাঁদের শিল্পীসত্ত্বা তাঁদের গ্রামকে আল্পনা গ্রামে পরিণত করেছে। তবে তাঁদের মধ্যে এই শিল্পী সত্ত্বা জাগিয়ে তোলার নেপথ্যে রয়েছে ত্রিপুরার সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। তাঁরাই প্রথমে এই গ্রামকে সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু করেছিল। ধীরে ধীরে সেটিতে সাফল্য আসে। গ্রামবাসীরাও ধীরে ধীরে তাঁদের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে শুরু করেছিলেন।

এখন নিজেরাই রাঙিয়ে তোলেন নিজেদের ঘরের দেওয়াল -উঠোন। অনিন্দ্য সুন্দর এই গ্রামটি অসাধারণ দেখতে লাগে। কোথাও রামায়ণ মহাভারতের কাহিনী। কোথাও গ্রামীণ জীবনের ছবি ফুটে উঠেছে প্রতিটি মাটির বাড়ির দেওয়ালে। উঠোন জোড়া আল্পনা মন আরও ভরিয়ে দেবে। গ্রামের প্রতিটি কোনায় ছড়িয়ে রয়েছে শিল্পের ছোঁয়া।

ট্রেনে আগরতলা যাওয়ার সুযোগ এখন হয়ে গিয়েছে। অনেকে আবার গুয়াহাটি হয়ে আগরতলা যান। সেখানে পৌঁছে একবেলাতেই ঘুরে আসতে পারেন এই লঙ্কামুড়া গ্রাম। গাড়ি ভাড়া করে। অথবা সেখানকার স্থানীয় পরিবহণ ব্যবহার করে পৌঁছে যেতে পারেন লঙ্কামুড়া গ্রামে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+