Travel: পলাশ বনে ট্রি হাউসে নিশিযাপন, সঙ্গে শালপাতা পোড়া চিকেনের স্বাদ নিতে চলে আসুন এই জায়গায়
বসন্ত মানেই রঙের খেলা। তারপরে আবার দোল। তবে এবার যেভাবে তাপমাত্রা বেড়েছে তাতে বসন্ত বলে মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে গরম পড়ে গিয়েছে। কিন্তু কোকিলের ডাক চারপাশে এতোটাই যে বসন্ত এড়িয়ে যায় সাধ্যকার। তার উপরে আবার লালরঙা পলাশ জেগে উঠেছে গাছে গাছে। রুক্ষ শুষ্ক শহরের আনাচে কানাচে উঁকি দিচ্ছে শিমূল, পলাশ।
বসন্ত মানেই পুরুলিয়া যাওয়ার হুজুগ ওঠে বাঙালির। আগে ছিল শান্তিনিকেতন। কিন্তু এবার সেখানে বসন্ত উৎসব বাতিল হয়ে যাওয়ায় আর তেমন ভিড় হয় না। সেকারণে বাঙালি এখন পুরুলিয়ামুখী। আর এই সময় পুরুলিয়ার সৌন্দর্য ভাষায় বর্ণনা করা কঠিন। রাঙা মাটি আর তার সঙ্গে শিমূল, কৃষ্ণচূড়া, পলাশের লাল মিলেমিশে এক হয়ে যায়। তারপরে আবার মহুয়ার মাদকতা।

কাজেই পুরুলিয়া এই সময়ে বেড়ানোর সেরা সময়। পুরুলিয়ার দিকে রাস্তা যত এগোয় তত লাল হতে থাকে চারপাশ। পূর্বমেদিনীপুর পেরিয়ে ঢুকে পড়তে হবে ঝাড়গ্রামে। সেখান থেকে একেবারে শাল-পিয়ালের জঙ্গলের রাস্তা ধরে পৌঁছে যান কুহুবুরু। নামের মধ্যেই কেমন একটা আদিমতা রয়েছে। রাস্তার দুধারে সারি সারি পলাশের গাছ।
পুরুলিয়ার আকাশ-বাতাসে এখন কেবল বসন্তের মাদকতা। আদিবাসী গ্রাম পেরিয়ে চলে আসুন কুহুবুরুর এই অফবিট লোকেশনে। ছোট ছোট কটেজে থাকার বন্দোবস্ত। কুহুবুরু পাহাড়ের কোলে তৈরি হয়েছে পলাশবনী রিসর্ট। সামনেই রয়েছে একটি ঝরনা। তবে বসন্তে সেই ঝরনার দেখা মেলে না। তার জন্য বর্ষায় আসতে হবে। পলাশবনী রিসর্টে ছোট ছোট কটেজের সঙ্গে রয়েছে ট্রি হাউসও।
একটি গাছকে ঘিরে তৈরি হয়েছে সেই ট্রি হাউস। অন্ধকার নামলে এখানকার পরিবেশ মনোরম হয়ে যায়। তখন হালকা হালকা ঠান্ডা বাতাস বইতে শুরু করে। বেশ ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূতি হবে। তার সঙ্গে হোমস্টের লনে বসে খেয়ে নিতে পারবেন শালপাতা পোড়া চিকেন। আদিবাসীদের এক জনপ্রিয় রান্না এটি। কুহুবুরু পাহাড়ে ট্রেকও করা যায়। এখানে উঠতে শুরু করলে চারিদিকে বিস্তীর্ণ প্রান্তর মুগ্ধ করবে।
এই পাহাড়েই রয়েছে মহাদেব বেড়া। রয়েছে একটি শিবলিঙ্গ। গ্রামের আদিবাসীরা এই শিবলিঙ্গকে পুজো করেন। আদিবাসী সহজ সরল জীবনের একটি প্রতিচ্ছবি এখানে থেকে উপভোগ করতে পারবেন। এখান থেকে অনায়াসে দোলপূর্ণিমার জ্যোৎসা উপভোগ করতে পারবেন।












Click it and Unblock the Notifications