Travel: গোটা গ্রামই যেন ক্যানভাস, ঘুরে আসুন ঝাড়গ্রামের খোয়াব গাঁওয়ে
কলকাতা থেকে দুদিনের ছুটিতে কাছে পিঠে কোথাও বেড়াতে যাওয়ার প্ল্যানিং করছেন তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে ঝাড়গ্রামের এই অফবিট লোকেছেন। যেখানে গোটা গ্রামই একটা আস্ত ক্যানভাস। যে গ্রামের নামও একেবারেই অনন্য। খোয়াব গাঁও।
নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই জায়গার অভিনবত্ব। গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দেওয়ার যেন একটি ক্যানভাস। যেখানে আদিবাসী শিল্পীরা তাঁদের শিল্পকলা তুলে ধরেছেন। আক্ষরিক অর্থেই এটি একটি স্বপ্নের গ্রাম। এমন জায়গা রাজ্যে আর কোথাও আছে বলে মনে হয় না।

ঝাড়গ্রামের এই গ্রামটির নাম আগে ছিল লালবাজার। অত্যন্ত দরিদ্র গরিব। আদিবাসী শবর সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। যাঁদের মূল পেশা শিকার করা। কিন্তু এখন আর শিকার কোথায়। তাই কোনও দিন দিন মজুরি করে আধপেটা খেয়েই এই গ্রামের মানুষেরা তাঁদের দিন কাটাতেন। এই লালবাজারকে খোয়াব গাঁও করে গড়ে তোলার নেপথ্যে রয়েছে এক শিল্পী। তাঁর নাম শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিই এই গ্রামের মানুষদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন তিনি। গ্রামের বাড়িগুলির দেওয়াল রাঙিতে তোলেন ছবিতে। কলকাতা থেকে তাঁকর আহ্বানে অনেক শিল্পী এসে পরবর্তী কালে ছবি এঁকে সাজিয়ে দিয়েছিলেন গোটা গ্রামটিকে।
লাল মাটির রাস্তা ধরে এই ঝাড়গ্রামের এই গ্রামে পৌঁছে যেতে হয়। চালচিত্র অ্যাকাডেমির উদ্যোগে এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় গ্রামের মানুষকে। কাটুম কুটুম, পটচিত্র, মেশিনে সেলাই থেকে শুরু করে পটচিত্র শেখানো হয়। গ্রামের মানুষ যাতে শিল্প চর্চার মাধ্যমে স্বপ্ন দেখেন নতুন করে বাঁচতে সেকারণেই এই গ্রামের নাম করণ করেছিলেন শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়।
এখানে এলে মুগ্ধ হয়ে যাবেন আপনি এতোটাই সুন্দর করে সাজিয়ে তোলা হয়েছে গোটা গ্রামটি। পুরোটাই যেন ক্যানভাস। গ্রামবাসীদের হাতে তৈরি সামগ্রিও এখানে বিক্রি হয়। এখান থেকে সেই সব শিল্প সামগ্রি কিনে নিয়ে গেলে গ্রামের মানুষরা উপকৃত হবে। ধীরে ধীরে শিল্পের মাধ্যমে এই গ্রামের মানুষরা এখন সরকারি সুযোগ সুবিধা পেতে শুরু করেছে। তারা নতুন করে বাঁচার কারণ খুঁজে পেয়েছে। সপ্তাহান্তের ছুটিতে ঘুরে আসুন ঝাড়গ্রামের এই খোয়াব গাঁয়ে।












Click it and Unblock the Notifications