Travel: বর্ষায় রূপবতী ঝাড়গ্রাম চাক্ষুস করতে চান, সপ্তাহান্তের ছুটিতে চলে আসুন এই অফবিট লোকেশনে
বর্ষায় সুন্দরী হয়ে আমাদের রাজ্যের পশ্চিমের জেলা গুলি। গরমে যেখানে গ্রীষ্মের দহনের রুদ্ররূপ তাণ্ডব চালায় সেই রুক্ষশুস্ক লাল মাটির জেলা গুলি কেমন যেন সুন্দরী হয়ে ওঠে বর্ষার। এবার দেরিতে বর্ষা এসেছে দক্ষি বঙ্গে। কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বেশ মনোরম আবহাওয়া এখন।
সামনেই অগাস্ট মাস বেশ কয়েকটি ছুটি পাওয়া যাহে সপ্তাহান্তে। বিশেষ করে ১৫ অগাস্টে একটা লম্বা ছুটি পাওয়া যাবে। ইতিমধ্যেই পুরী আর দার্জিলিংয়ের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। দিঘা-মন্দামনিতে হোটেল পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না।

এই সময়ে একটু অন্যজায়গায় ঘুরতে যেতে চাইলে চলে আসুন ঝাড়গ্রামে। কেবল যে ঝাড়গ্রাম শহরই রয়েছে দেখার তা নয়। ঝাড়গ্রামের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে রয়েছে অনেক অফবিট লোকেশন। তেমনই একটি অসম্ভব সুন্দর জায়গা খ্যাঁদারানি ড্যাম বা জলাধার। অনেকেই জানেন না এই জায়গাটির কথা।
নামটা শুনে অনেকেই হয়তো অবাক হবেন এটা আবার কেমন জায়গা। কিন্তু সারাদিন যাঁরা শহরের কোলাহলে বাস করেন তাঁরা এখানে এসে মুগ্ধ হবেনই। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপরিসীম। অদ্ভুত সুন্দর এবং শান্ত এখানকার ল্যান্ড স্কেপ। না দেখলে বিশ্বাস করতে পারবেন না।
একদিকে জঙ্গল আরেকদিকে জলাধার। আরেক দিকে নদী। সুবর্ণরেখার নদীর পাড়ে হাতিবাড়ি জঙ্গলের গা ঘেঁসে রয়েছে এই জায়গাটি। জঙ্গলমহলে একসময়ে কুখ্যাত জায়গা ছিল বেলপাহাড়ি। মাওবাদীদের ভয়ে এই এলাকায় পা রাখতেন না স্থানীয়রাই। সেই বেলপাহাড়িতেই এখন পর্যটকের ঢল নামে শীতে আর বর্ষায়।
এই বেলপাহাড়িতেই রয়েছে অচেনা এই ডেস্টিনেশন খ্যাঁদারানি ড্যাম। বেলপাহাড়ি থেকে মাত্র আধঘণ্টা সময় লাগে এখানে পৌঁছতে। চারপাশে শাল-পিয়ালের জঙ্গল আর মাঝখানে স্বচ্ছ জলের হ্রদ একটা। বর্ষায় সেই জলাধার কানায় কানায় ভরে যায়। জলাধারের মাঝে রয়েছে একটি দ্বীপ। প্রায় সারাবছরই এখানে পাখিদের মেলা বসে। মাঝে দ্বীপের মধ্যে পাখিদের ভিড় দেখা যায়। কখনও ডানা ঝাপটাচ্ছে। কখনও জলাধার থেকে মাছ শিকার করছে। কখনও আবার অলস ভাবে বসে রয়েছে। শীতকালে এখানে পরিযায়ী পাখিদের ভিড় বাড়ে।
বর্ষায় আরও সুন্দরী হয়ে ওঠে চারপাশের পাহাড় জঙ্গল। সবুজ রঙের একাধিক ভ্যারিয়েশন দেখা যায় এখানে। হ্রদের জল এতোটাই স্বচ্ছ যে তাতে আকাশের প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। অসম্ভব নিশ্চুপ চারিদিক। নিজের পায়ের শব্দ শুনতে পাবেন।
কলকাতা থেকে গাড়ি নিয়েই সরাসরি এখানে পৌঁছে যেতে পারবেন। তা নাহলে ঝাড়গ্রাম স্টেশন হয়ে পৌঁছকতে পারেন। থাকার জায়গাও রয়েছে বেলপাহাডিতে। না হলে ঝাড়গ্রামেও থাকতে পারেন। সেখান থেকে গাড়িতে করে দেখে নিতে পারেন এই জলাধার।












Click it and Unblock the Notifications