Travel: ঘরের কাছেই জঙ্গলে ঘুরে আসুন হাতিদের ডেরায়, জমে যাবে পুজোর ছুটি
দুর্গাপুজো চলে এলো বলে। এখন থেকেই বেশ পুজো পুজো তোরজোর শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা রাজ্যে। তার সঙ্গে পুজোর বেড়ানোর প্ল্যানিংও চালু হয়ে গিয়েচে ফুল সুইংয়ে। পুজোর ছুটিতে কোথায় ঘুরতে যাওয়া যায় তার প্ল্যানিং শুরু করে দিয়েছেন সকলেই।
পাহাড়-জঙ্গল-সমুদ্র কোথায় কে যাওয়া যায় তার প্ল্যানিং শুরু হয়ে গিয়েছে। এবারে পুজোর ছুটিতে যারা একটু অন্যরকম ডেস্টিনেশন খুঁজছেন তাঁদের জন্য রইল এমন একটি জায়গার খোঁজ যেখানে গেলে পাহাড়-জঙ্গল-নদী তিনটি সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন।

অনেকেই ভাবছেন উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সের কথা। কিন্তু এই জায়গাটি আমাদের রাজ্যের উত্তরে নয় রয়েছে পশ্চিমে। যেখানে কান পাতলেই শোনা যায় হাতির ডাক। জায়গাটিক নাম দলমা। এই দলমারই অফবিট লোকেশন মাকুলাকোচা।
ছোটনাগপুর মালভূমির অতি পরিচিত একটি জায়গা দলমা। দলমার সঙ্গে বাঙালির পরিচিতি অবশ্য অন্যকারণে। এই জায়গাটি হাতিদের ডেরা। অর্থাৎ উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সে যত না হাতি থাকে তার দ্বিগুণ হাতি থাকে এই দলমার জঙ্গলে। প্রায়ই এখান থেকে হাতির দল ঢুকে পড়ে বাংলার ঝাড়গ্রাম , বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে। পুরুলিয়াতেও হানা দেয় দলমার হাতিরা।
এই দলমার সৌন্দর্য কিন্তু কেবল হাতিদের জন্যই নয় এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও অসাধারণ। ছোটনাগপুর মালভূমির আসল সৌন্দর্য এখানে উপভোগ করতে পারবেন সকলে। দলমার জঙ্গলে সাফারির বন্দোবস্তও রয়েছে। হাতির সঙ্গে পাখিদের বড় আকর্ষণ রয়েছে। এখানে অসংখ্য নাম না জানা সব পাখিদের দেখা মেলে। যাঁরা পাখি দেখতে ভালবাসেন তাঁদের ভাল লাগবে।
এখানে থাকার জায়গাটি অসাধারণ। বনদফতরের বনবাংলো রয়েছে একেবারে দলমা পাহাড়ের নীচে। যেখানে এসি কটেজের ব্যবস্থাও রয়েছে। পাহাড়ের কোলে সুন্দর কটেজে থাকার ব্যবস্থা। সামনে বড় লন। গেস্ট হাউসে বসেই জঙ্গলের একটা ফিল পাওয়া যায়। জঙ্গলের মধ্যে একাধিক জায়গায় ওয়াচ টাওয়ার করা রয়েছে। ভাগ্য ভাল থাকলে সেখান থেকে হাতিদের দেখা মিলতে পারে। জঙ্গলের ওয়াচ টাওয়ার থেকে সানসট অসাধারণ লাগে দেখতে। ছোটনাগপুর মালভূমির বিস্তির্ণ একটা রেঞ্জ এখান থেকে দেখা যায়।
জঙ্গলের মধ্যেই পাহাড়ের টিলায় রয়েছে একটি হনুমান মন্দির এবং একটি শিব মন্দির। ট্রেকিং করে সেখানে পৌঁছে যেতে পারেন। হেঁটেই পৌঁছতে হবে সেখানে। মাকুলাকোচা যাঁরা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসতে চান তাঁদের ক্ষেত্রে আরও সুবিধা। নিজেদের ইচ্ছে মতো ঘুরতে পারবেন। কানে ভেসে আসবে ময়ুরের ডাক। আদিম এক জঙ্গলের অনুভূতি পেতে হলে দলমার মাকুলাকোচা সেরা। রাত যত বাড়বে তত একাধিক অচেনা শব্দ কানে ভেসে আসতে থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications