Travel: গা ঘেঁষে রয়েছে ভুটান, সামনে দিয়ে কুলুকুলু বয়ে যাচ্ছে নদী, ঘুরে আসুন ডুয়ার্সের এই অচেনা জায়গায়
তাপপ্রবাহ শুরু হয়ে গিয়েছে কলকাতাতেই তাও আবার এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকেই। বৈশাখ পড়তে না পড়তেই গ্রীষ্মের দহন শুরু হয়ে গিয়েছে। এখনও তো বাকি এতোগুলো মাস। সেসময় কী হবে কে জানে। এদিকে রাজ্য সরকার গরমের ছুটি এগিয়ে নিয়ে এসেছে। আগামী ২২ এপ্রিল থেকে গোটা রাজ্যে দার্জিলিং এবং কালিম্পং জেলা বাদে সর্বত্র গরমের ছুটি পড়ে যাচ্ছে।
কাজেই স্কুলের আর চাপ নেই। ব্যাগ গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়লেই হল। কিন্তু কোথায় যাবেন। এই গরমে উত্তরবঙ্গই একমাত্র ভরসা। তাই চলে আসন উত্তকরবঙ্গেই। সেখানেই অপেক্ষা করে রয়েছে সীমান্ত পারের এই গ্রাম। যার নাম ভুটান ঘাট। ডুয়ার্সের সঙ্গে ভুটান এসে মিশেছে এখানে। একদিকে ভুটান পাহাড় আরেকদিকে ভারতের ছোট্ট গ্রাম। একটা নদী পেরোলেই ভুটানে পৌঁছে যাওয়া যাবে।

ভুটান ঘাটের একটা আলাদা সৌন্দর্য রয়ছে। এখানে বরফের পাহাড় নেই ঠিকই কিন্তু পাহাড়ের পাথরের রং গুলি মুগ্ধ করবে। পাথরের রঙের জন্যই একেকটা পাহাড়ের রং একেক রকম দেখাচ্ছে। কোনওটার রং ধুসর, কোনওটা কালো আবার কোনওটা সাদা। সেএক অপূর্ব রঙের সমাহার। তার সঙ্গে সবুজের ছোঁয়া তো রয়েইছে।
নদী জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য নুড়ি পাথর। সাদা, কালো রকমারি তার রং। এই সময় নদীতে বেশি জল থাকে না। তাই একেবারে নদীর বেডে নেমে গিয়ে স্নানটাও সেরে নিতে পারবেন। পাহাড় থেকে নেমে আসছে নদীটি সেকারণে বেশ ঠান্ডা জল। ভুটান পাহাড়ে বৃষ্টি হলেই কিন্তু এই নদীর দুকূল ছাপিয়ে যায়।
তবে এখানে আসতে গেলে আগে থেকে পারমিট বা অনুমতি নিয়ে আসতে হয়। কারণ এটি সীমান্ত এলাকা। আলিপুরদুয়ার থেকে ৪৫ কিলোমিটার দূরে এই জায়গাটি। এখানে আসার পথটিও অসাধারণ। জঙ্গলের মধ্য দিয়ে আসতে হয় এখানে। সেই জঙ্গলের পথে অসংখ্য ময়ূরের দেখা তো মিলবেই। সেই সঙ্গে একাধিক নাম না জানা অনেক পাখি দেখা যায়। সেকারণে পক্ষী প্রেমী যাঁরা তাঁরা এই জায়গাটি িবশেষ পছন্দ করবেন।
নদীতে নীল সবুজ দুই রঙের জল দেখতে পাবেন। সেটা এরটা অনন্য অভিজ্ঞতা। এতোটাই স্বচ্ছ জল যে জলেন নীচে থাকা নুড়ি পাথরগুলি স্পষ্ট দেখা যায়। সাদা রঙের অসংখ্য নুড়ি পাথর। রকমারি তাদের গড়ন। এই জায়গায় এলে এই গরমের কথা ভুলেই যাবেন। এতোটাই মনোরম এখানকার পরিবেশ। খুব বেশি পর্যটকের আনাগোনা এখানে নেই। সেকারণে আরও ভাল লাগবে এখানে এলে।
যেহেতু চারপাশে জঙ্গল তাই এখানে মাঝে মধ্যেই হাতির দেখা মেলে। জঙ্গল থেকে বেরিয়ে এসে নদীতে জল খায় হাতির দল। সেই সৌভাগ্য হলেও হতে পারে। আবার গন্ডারের দেখাও নাকি পাওয়া যায় এই জায়গায। যদি ভাগ্য সদয় থাকে তাহলে দেখা পেয়ে যেতে পারেন। তাহলে তো কথাই নেই। সবচেয়ে ভাল কাটবে ছুটি।












Click it and Unblock the Notifications