গরমে নাজেহাল? ব্যাগপ্যাক কাঁধে নিয়ে ঘুরে আসুন পাহাড়ে, রইল হিমালয়ের অনন্য কিছু জায়গার সুলুক সন্ধান
গরমে নাজেহাল? ব্যাগপ্যাক কাঁধে নিয়ে ঘুরে আসুন পাহাড়ে, রইল হিমালয়ের অনন্য কিছু জায়গার সুলুক সন্ধান
কথায় আছে বাঙালির পায়ের তলায় সর্ষে, ব্যস্ত দুনিয়ায় দু দিনের ছুটি পেলেই ব্যাগ প্যাক করে ঘুরতে যেতে বাঙালির জুড়ি মেলা ভার। বাঙালি হোক বা অবাঙালি, ঘুরতে যেতে সকলেই ভালোবাসে। কারোর পছন্দ পাহাড়ের শ্বেত শুভ্র বরফের হাতছানি, কারোর বা পছন্দ সমুদ্রের বিপুল জলরাশি। পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে মেঘরাশীকে হাতের মুঠোয় পাওয়া যেন স্বপ্নের থেকে কম নয়। শক্ত পাথরের উপর শ্বেত শুভ্র বরফের আচ্ছাদন পাহাড়ের নতুন রূপ দেয়। পাহাড়ের নৈঃশব্দ্যের এক অমোঘ টান রয়েছে। প্রতিমুহূর্তে পাহাড়ের সৌন্দর্যের বদল ঘটে। আমাদের দেশে ছোট-বড় একাধিক পাহাড় রয়েছে যেখানে মানুষ কিছুদিনের জন্য ব্যস্ত সময় কে ভুলে থাকে। পাহাড়ের প্রতি খাঁজে লুকিয়ে থাকে কত অজানা গল্প কথা। আসুন দেখে নেওয়া যাক পর্যটকদের কাছে প্রিয় হিল স্টেশন গুলি।

ডালহৌসি
না, এটি কলকাতার ব্যস্ততম অফিস পাড়ার ডালহৌসি নয়, বরং তুষার ঘেরা হিমাচল প্রদেশের একটি ছোট্ট শৈলশহর ডালহৌসি। তুষারাবৃত পর্বত শৃঙ্গ নিয়ে গঠিত এই শৈলশহরটি। নতুন বিবাহিত দম্পতিদের কাছে এই শহরটি অত্যন্ত পছন্দের। এর সৌন্দর্যের কারণেই একে স্বর্গীয় বলেই অভিহিত করেন পর্যটকরা। সিমলা থেকে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই শহরে। সময় লাগে ৭ ঘণ্টা মত। গাড়িতে ভাড়া পরে প্রায় ৪ হাজার টাকা। বাসে গেলে মাথা পিছু ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা খরচ। এখানে ছোট বড় বাজেট অনুযায়ী সব রকমের থাকার জায়গা আছে। ভাড়া শুরু হয় দিন প্রতি ৯০০ টাকা থেকে।

কৌশানি
উত্তরাখণ্ডের রাজ্যের বাগেশ্বর জেলায় অবস্থিত একটি ছোট পার্বত্য শহর। কোনও কিছুর সঙ্গেই যেন কৌশানির সৌন্দর্য্যের তুলনা হয়না। সৌন্দর্যের কারণে কৌশানিকে ভারতের 'সুইজারল্যান্ড' বলে অভিহিত করা হয়। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬০৭৫ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই শহর। এখানকার সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মোহময়ী রূপ পর্যটকদের মধ্যে আকর্ষণের সৃষ্টি করে। এখান থেকে নন্দাকোট, ত্রিশূল পর্বতের সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। পাশাপাশি পাইন, ওক গাছের সুশীতল ছায়া , শান্ত পরিবেশ কৌশানির অন্যতম আকর্ষণ। এখানথেকে দেখা যায় কূমায়ুন পার্বত্য মেখলার প্রায় সবকটি শৃঙ্গ। যথা, নন্দাদেবী, ত্রিশূল, চায়না পিক, পঞ্চচুল্লী, ইত্যাদি। নৈনিতাল থেকে কৌশানি যেতে হল্ট করতে হয় আল্মোরা, সেখানথেকে পরের দিন সকালেই পৌঁছানো যায় কৌশানি। গাড়িতে ভাড়া লাগে দিন প্রতি ৩৬০০ টাকা। বাসে গেলে ৩৫০ টাকা। থাকার অনেক জায়গা আছে ওখানে। ভাড়া শুরু হয় কম বেশি ৮০০ টাকা থেকে।

সোলান
সোলানে রয়েছে একের পর এক সুউচ্চ পাহাড়। পাহাড়ের সেই অপূর্ব দৃশ্য পর্যটকদের হাতছানি দেয়। মহাভারতের সময়ে এই সোলানের কথা রয়েছে। সোলানের করোল পর্বতের একটি গুহাতে কিছুদিন ছিলেন পাণ্ডবেরা। মহাভারত সূত্রে জানা গিয়েছে এখানে থেকে মোক্ষ লাভের জন্য তপস্যা করেছিলেন যুধিষ্ঠির। শিবালিক হিমালয়ের অপরূপ শোভা দেখা যায় পাহাড়ের কোলের এই শহর সোলানে। হিমাচলের এই শহরে থাকতে গেলে হোটেল ভাড়া গুণতে হবে নূনতম প্রায় ১০০০ টাকা দিন প্রতি।

সোনমার্গ
ভূস্বর্গ কাশ্মীর। কাশ্মীরের রূপ, গন্ধ পর্যটনে সর্বদা অন্যমাত্রা দেয়। বরফ ঘেরা সোনমার্গের রূপ পর্যটকদের কাছে সবসময়ই পছন্দের। একদিকে নদী, অন্যদিকে পাইন ফারের বনাঞ্চল- সবমিলিয়ে যাকে বলে নয়নাভিরাম শোভা। সোনমার্গকে সোনার বাগিচা বলে অভিহিত করা হয়। এখানকার পাহাড়ের চুড়োয় সূর্যের আলো পড়ে তার সোনালী রূপ ধারণ করে। এই সবকিছুই পর্যটকদের হাতছানি দেয়। কাশ্মীরে বেড়াতে গেলে এই এলাকা হল মাস্ট ভিজিট সাইট ডেস্টিনেশন।












Click it and Unblock the Notifications