জানলা খুললেই শুধু পাহাড়, ছোট্ট ট্যুরে মন ভাল করে দেবে পেডং

জানলা খুললেই শুধু পাহাড়, ছোট্ট ট্যুরে মন ভাল করে দেবে পেডং

জানলা খুললেই রাশি রাশি পাহাড়। ছোট ছোট কাঠের বাড়ির বারান্দা ভরা রং বেরঙের ফুল। আল কাটা সরু রাস্তা দন্ডি বেয়ে উঠে গেছে। প্রকৃতি যেন সব সৌন্দর্য ঢেলে দিয়েছে এখানে। কালিম্পংয়ের কাছে ছোট্ট জনপদ পেডং। নামিদামি যেকোনও পর্যটন কেন্দ্রকে এক লহমায় কাত করতে পারে এর সৌন্দর্য। গত কয়েক বছর ধরে পেডংয়ে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনও তেমন ভিড় দেখা যায় না। করোনা আবহে ফাঁকায় ফাঁকায় ঘুরে আসার একেরবারে মোক্ষম জায়গা যাকে বলে।

জানলা খুললেই শুধু পাহাড়, ছোট্ট ট্যুরে মন ভাল করে দেবে পেডং

পেডং যে শুধু ছোট্ট একটা জনপদ তাই নয় এর গুরুত্বও রয়েছে। পেডংয়ের কাছ দিয়েই চলে গিয়েছে ওল্ড সিল্ক রুট। অনেকেই হয়তো ওই পুরনো বা ওল্ড সিল্ক রুটের কথা জানেন না। তবে যাঁরা জানেন তাঁরা এর গুরুত্ব জানেন। এই পেডং হয়েই গিয়েছে ওল্ড সিল্ক রুেট যাওয়ার রাস্তা। আর সেই সুবাদেই পেডং জুড়ে দেখা মিলবে অসংখ্য পুরনো চার্চ আর বৌদ্ধ গুম্ফার। আবার চা বাগানও রয়েছে এখানে অনেক। পেডং জুড়ে ছড়িয়েছিটিয়ে রয়েছে অনেক রকমের জিনিস। প্রাচীণ বৌদ্ধ গুম্ফা থেকে শুরু করে চা বাগান। যাঁর খোঁজে পর্যটকরা দার্জিলিংয়ের আনাচে কানাচে ঘুরে বেড়ান তার সবকিছু এই একটি ছোট্ট জায়গার মধ্যে রয়েছে। তবে পাড়ের রানির মত জৌলুজ এবং জমক নেই কেবল। সাদামাটা আম আদমির মত পাহাড়ে কোলে চুপ করেই জেগে থাকে পেডং।

জানলা খুললেই শুধু পাহাড়, ছোট্ট ট্যুরে মন ভাল করে দেবে পেডং

সেকারণে বড় হোেটল-বহুতল এখানে নেই। রয়েছে ছোট ছোট হোমস্টে। পেডংয়ের বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে রয়েছে হোম স্টে। সেখানে ঘরের লোকের মতই মিলবে আরাম আর আপ্যায়ন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিথিদের সেবায় নিয়োজিত তাঁদের প্রাণ। কনকনে ঠান্ডায় গরম গরম দার্জিিলং টি থেকে গরম কফি। সকালের ধোঁয়ৌ ওঠা ব্রেকফাস্ট। ব্রেড অমলেট থেকে পুরি তরকারি কোনও কিছুরই অভাব রাখবেন না তাঁরা। সেই সঙ্গে দুপুরে ধোঁয়া ওঠা গরম ভাত সবই রয়েছে। চিকেন, স্যালাড। আর কি চাই। রসনা তৃপ্তির সব উপকরণই দিয়ে দেবেন পেডংয়ের হোম স্টে গুলির বাসিন্দারা। নেকটা অতিথি দেব ভব-র মতই মিলবে আপ্যায়ণ।

জানলা খুললেই শুধু পাহাড়, ছোট্ট ট্যুরে মন ভাল করে দেবে পেডং

কালিম্পং থেকে আলগরা হয়ে যেতে হয় পেডংয়ে। উচ্চতা চার হাজার ফুটের থেকে সামান্য বেশি। ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে কনকনে ঠান্ডা কাঁপিয়ে দেবে। বছরের অন্যান্য সময় বেশ আরামদায়ক আবহাওয়া থাকে। খুব গরমও নয় আবার খুব ঠান্ডাও নয়। মার্চ-এপ্রিল মাসে পেডং সবচেয়ে মনোরম হয়ে ওঠে। রংবেরঙের ফুল আর পাতা বাহারি গাছে ভরে যায় পেডং। পেডংয়ে একাধিক মিশনারি স্কুল রয়েছে। যেখানে পড়াশোনা করতে ঈসে নেপাল-ভুটানের ছেলেমেয়েরা। এখানকার চার্চগুলিই মূলত এই শিক্ষার বিস্তারে সহযোগিতা করেছে।

পেডংয়ের আরেকটি বিশেষত্ব হল এর বাজার। ছোট্ট হলেও বেশ জমজমাট। আরও ভাল বিষয় হল এর একেবারে অরগ্যানিক সবজি। কোনও রকম রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয় না এমন সবজি বিক্রি হয় পেডংয়ের বাজারে। কাজেই মনের স্বাস্থ্য উদ্ধারের পাশাপাশি শরীরও ভাল উঠবে এই সব একেবারে নিখাদ সবজি দেখে। সেই সবজিই খেয়ে থাকেন পেডংয়ের বাসিন্দারা। তাঁরা নিজেরাই জানিয়েছেন যতটা সম্বভ রাসায়নিক কম প্রয়োগ করে নিজেদের জমিতে চাষ করেন। কাজেই করোনা একটু ঝিমিয়ে গেলেই অনায়াসেই ৫ দিনের ছোট্ট ট্যুরের ডেস্টিনেশন হয়ে উঠতে পারে পেডং। তবে তার জন্য হোমস্টে-র বুকিং আবশ্যিক। খোঁজ নিতে অবশ্য গুগলই ভরসা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+