বসন্তের রঙে রঙিন হতে চাইলে কলকাতার কাছেই পলাশ-কৃষ্ণচুড়ার রং ভরে অপেক্ষা করছে পাহাড়পুর
পাহাড়পুর কলকাতার কাছেই বসন্তের বেড়ানোর জায়গা
বসন্ত এসে গেছে। আসছে রঙের উৎসব। শান্তিনিকেতনের বসন্তোৎসব বন্ধ হয়ে যাওয়াতে অনেকেই আর সেখানে যেতে চাননি। কিন্তু শুধুই কি রং খেলার মধ্যে দিয়ে হোলি সেলিব্রেশন হয়? তা কিন্তু নয়। প্রকৃতিও এই সময় রঙের হোলি খেলায় মেতে ওঠে। শাল পলাশের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে চারিদিক। কলকাতার কাছেই কয়েছে এমনই একটা মনোরকম জায়গা সেখানে দোলের দিনটা আরও রঙিন হয়ে কাটাতে পারবেন প্রকৃতির সঙ্গে হোলি খেলে।

বসন্তে বেড়িয়ে আসুন পাহাড়পুরে
পাহাড়পুর। একেবারে অন্যরকম একটা নাম। শুনলেই হিলস্টেশন বলে মনে হবে। হিলস্টেশনই বটে। তবে এওই হিলস্টেশন রুক্ষ শুষ্ক। কলকাতার কাছেই রয়েছে এই হিল স্টেশন। যেখানে বসন্ত আরও রঙিন হয়ে ওঠে। শাল, সেগুন, পিয়াল, পলাশ, কৃষ্ণচুড়ার জন্য বিখ্যাত পুরুলিয়া। সেই পুরুলিয়া বসন্তে আরও রঙিন হয়ে ওঠে। সাল সেগুলের সঙ্গে মহুয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে প্রকৃতি। কলকাতার কাছেই এমন এক মনোরম পরিবেশ রয়েছে অনেকেই জানেন না।

পাহাড়ের সামনে টলটলে ঝিল
পুরুলিয়ায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে একাধিক পাহাড়। অযোধ্যা পাহাড়। জয়চণ্ডী পাহাড়। সেরকমই একটি জায়গা পাহাড়পুর। এখানেও একটি পাহাড়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে পর্যটন। পাহাড়ের সামনেই রয়েছে একটা টলটলে ঝিল। যার জলে পাহাড়ের প্রতিচ্ছবি পড়ে। আর সেটা সূর্যাস্তের সময় আরও মনোরম হয়ে ওঠে প্রকৃতি । সূর্যাস্তের আলো পড়ে ঝিলের জলে। পাহাড়ের পিছনে আস্তে আস্তে লুকিয়ে পড়ে সূর্য। ঝুপ করে অন্ধকার নেমে ওঠে।

বসন্ত পূর্ণিমায় মহোময়ী পাহাড়পুর
বসন্ত পূর্ণিমার রাতে আরও মোহময়ী হয়ে ওঠে এই পাহাড়পুর । তাই এখানে যেতে হলে দোলের থেকে ভাল সময় আর হয়না। একদিকে আকাশে টলটলে জ্যোৎস্না। তার উপরে পাহাড় আর হ্রদের সম্মোহন। তার সঙ্গে মহুয়ার গন্ধ বাতাসে। দোল যাপনের একেবারে মোক্ষম জায়গা বললে ভুল হবে না। এমনই একটি অচেনা জায়গা অপেক্ষা করছে কলকাতার কাছেই। প্রকৃতি তার রঙের ডালি নিয়ে অপেক্ষা করছে।

কীভাবে যাবেন
ঘরের কাছেই রয়েছে এই পাহাড়পুর। যাওয়া আসাও খুব সহজ। একদিনের ছুটিতেই বেড়িয়ে আসা যায়। হোলিতে তো আবার হাতে ২টো দিন ছুটি পেয়ে যাবেন সকলে। সপ্তাহান্তের বেস্ট ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন বললে ভুল হবে না। রাতে পুরুলিয়া যাওয়ার চক্রধর পুর লোকালে চড়ে বসুন। নামতে হবে ইন্দ্রবিল স্টেশনে। ভোর ৫টাতেই স্টেশনে নামিয়ে দেবে। সকাল সকাল পৌঁছে যাবেন সেখানে। থাকার জন্য একাধিক রিসর্ট রয়েছে সেখানে।
ছবি সৌ: সোমজিত ভট্টাচার্য/ইউটিউব












Click it and Unblock the Notifications