শ্রী রামচন্দ্রের সঙ্গে জুড়ে থাকা ভারতের ঐতিহাসিক স্থানগুলি কী কী, এক নজরে দেখে নিন
চলতি মাসেই অযোধ্যার বিতর্কিত জমি 'রামললা'র নামে ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তাতে এই ইস্যুতে আপাত দৃষ্টিকে বিতর্কে দাড়ি পড়ল বলা চলে।
চলতি মাসেই অযোধ্যার বিতর্কিত জমি 'রাম লালা'র নামে ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তাতে এই ইস্যুতে আপাত দৃষ্টিকে বিতর্কে দাড়ি পড়ল বলা চলে। সেই আইনি লড়াইয়ে পাওয়া না পাওয়ার হিসেব ভুলে এক নজরে দেখে নেওয়া যাক শ্রী রামচন্দ্রের পদাঙ্কের চিহ্ন বহনকারী ভারতের কয়েকটি দ্রষ্টব্য স্থান।

অযোধ্যা
যে জমি স্বত্বাধিকার নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিবাদ, সেটি রামের জন্মভূমি বলে পরিচিত। সেই দাবিতে মোহর লাগিয়েছে খোদ দেশের সুপ্রিম কোর্ট। রামের জন্মভূমি ছাড়া অযোধ্যায় রাম, হনুমানের স্মৃতি বিজড়িত বহু দর্শনীয় স্থান রয়েছে। রয়েছে পবিত্র সরযূ নদী।

এলাহাবাদের প্রয়াগরাজ
পুরানে বর্ণিত ও মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী উত্তরপ্রদেশের এই স্থান থেকেই গঙ্গা পেরিয়ে দাক্ষিণাত্যের দিকে অগ্রসর হয়েছিলেন শ্রী রাম, মাতা সীতা ও ভাই লক্ষ্মণ।

চিত্রকোট
মধ্যপ্রদেশের এই এলাকা শ্রী রামচন্দ্রের সঙ্গে বিশেষ ভাবে জড়িত। কথিত, শ্রী রাম নাকি এখানেই এগারো বছরের বনবাস জীবন কাটিয়েছিলেন। এই এলাকা সংলগ্ন রামঘাট, কামাটগিরি, ভরত মিলাপ, স্পাটিকা শীলা, গুপ্ত গোদাবরী, ভরত কূপ, রাম সাইয়া পর্যটকদের আকর্ষণ স্থল।

দণ্ডকারণ্য
ছত্তিশগড়ের অন্তর্গত এই জঙ্গলেই লঙ্কার অধিপতি রাবনের বোন সুর্পনখা শ্রী রামচন্দ্রকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। শ্রী রামকে বিবাহের প্রস্তাবও দিয়েছিলেন ওই রমণী।

পঞ্চবটি
মধ্যপ্রদেশের নাসিকের (তৎকালীন পঞ্চবটি) সঙ্গেও যুক্ত সুর্পণখা কাহিনী। পুরান মতে, লঙ্কার অধিপতি রাবণের বোনের বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন বিবাহিত শ্রী রাম। ক্ষিপ্ত হয়ে শ্রী রামচন্দ্রের স্ত্রী মাতা সীতাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিলেন সুর্পনখা। সেই সময় পঞ্চবটিতেই তাঁর নাক কেটে দিয়েছিলেন শ্রী রামচন্দ্রের ভাই লক্ষ্মণ। সেই ঘটনার অনুসারে ওই এলাকারও নাম হয় নাকি নাসিক। অন্তত এমনটাই স্থানীয়দের বিশ্বাস।

ওয়াকেশ্বর
মুম্বইয়ের অন্তর্গত এই এলাকায় লঙ্কার অধিপতি রাবণের হাতে অপহৃত হওয়া মাতা সীতাকে খুঁজতে এখানেই থেমেছিলেন শ্রী রাম। ওয়েকাশ্বরের রাম মন্দির মুম্বইয়ের অন্যতম সেরা আকর্ষণ। কথিত আছে, কোনও এক কালে কেউ এই মন্দিরের কাছে কোনও এক স্থানে জলকুণ্ড আবিষ্কার করেছিলেন। শ্রী রাম বান মেরে মাটি ভেঙে সেটি তৈরি করেছিলেন বলে স্থানীয়দের বিশ্বাস। ওই জলকুণ্ডের নাম বানগঙ্গা।

কিশকিন্ধা
পুরানে বর্ণিত, কর্নাটকের অন্তর্বতী এই স্থানেই নাকি বানর রাজা বালিকে তির ছুঁড়ে হত্যা করে তাঁর ভাই তথা মিত্র সুগ্রিবকে রক্ষা করেছিলেন শ্রী রাম।

লেপাক্ষি
কথিত আছে, অন্ধ্রপ্রদেশের এই এলাকাতেই, লঙ্কার অধিপতি রাবণের হাত থেকে মাতা সীতাকে উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হওয়া জটায়ুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল শ্রী রামচন্দ্রের।

রামেশ্বরম
কথিত, তামিলনাড়ুর অন্তর্গত স্থান থেকেই সাগর পার হয়ে লঙ্কায় পৌঁছেছিলেন শ্রী রাম ও তাঁর বানর সেনা। সাগর পার হওয়ার জন্য পাথর দিয়ে সেতু তৈরি করেছিলেন রামচন্দ্র। যা রাম সেতু বা ধনুশকোদি হিসেবে পরিচিত।












Click it and Unblock the Notifications