নিউটাউন থেকে দিঘা, মাইস পর্যটনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ
নিউটাউন থেকে দিঘা, মাইস পর্যটনে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ
ধীরে ধীরে উন্নতির পথে এগোচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। বিশেষ করে পর্যটন শিল্পে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে এ রাজ্য। পর্যটন বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা এবং বাংলার অন্যান্য অংশে উন্নতমানের যোগাযোগ ব্যবস্থা, পাঁচতারা হোটেল এবং বিশ্বমানের সম্মেলন কেন্দ্র গড়ে ওঠায় এ রাজ্যে 'মাইস টুরিসম’ (মিটিংস, ইনসেনটিভস, কনফারেন্স এবং এক্সিবিশনস) জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

পর্যটনে জোর
‘মাইস' পর্যটনের ক্ষেত্রে সব দেশের কাছে অতীতে ভারতই সবচেয়ে পছন্দের দেশ ছিল। আর এখন পশ্চিমবঙ্গকেও সেই পছন্দের তালিকায় রাখা হয়েছে। রাজ্যের পর্যটক বিভাগের সচিব অত্রি ভট্টাচার্য জানান, রাজ্যের পরিকাঠামো এতটাই ভালো যে দেশের শিল্প ও ব্যবসায়ীরা এখানেই সম্মেলন করতে আগ্রহ দেখায়।

মাইস-এর সাফল্য
তিনি বলেন, ‘এখানে মাইস পর্যটনের সম্ভাবনা খুবই সুন্দর এবং তার মৌখিক প্রচারও খুব ভালো হচ্ছে।' এসটিসি ট্রাভেলের প্রেসিডেন্ট তথা দেশের প্রধান এসডি নন্দকুমার জানান, ভারতে মাইস পর্যটনের উন্নয়নের মূল কারণ হল এখানকার উষ্ণ অভ্যর্থনা, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতির ঐতিহ্য, হোটেলের ভালো ব্যবসা এবং পরিকাঠামোর বিকাশ। তিনি জানান, কলকাতায় মাইস পর্যটন ধীরে ধীরে বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে এবং রাজ্যের পর্যটন দফতরও এর পেছনে নিজেদের সময় এবং প্রয়াস বিনিয়োগ করছে। যাতে কলকাতা ও এই রাজ্যও মাইস পর্যটনের জন্য আর একটি গন্তব্য হয়ে ওঠে বিশ্বের কাছে।

আধুনিক পরিকাঠামো
অত্রি ভট্টাচার্য জানান, কলকাতার পাশ্বর্বতী এলাকা নিউটাউনের বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে রয়েছে বেশ কিছু হল ও আধুনিক পরিকাঠামো। ইতিমধ্যেই ২০২০ সালের মধ্যে ৪৬টি অগ্রিম বুকিং করা হয়েছে এবং এই কনভেনশন সেন্টারটি ভালই ব্যবসা করছে। তিনি আরও জানান, শহর এবং তার আশপাশের হোটেলগুলিও মাত্র দু'বছরের মধ্যেই তাদের রুম সংখ্যা ৩,৮০০ থেকে বাড়িয়ে ৫,০০০ করেছে। নন্দতকুমার বলেন, ‘দেশের করিডর হিসাবে পরিচিত কলকাতা অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ, বুদ্ধিমত্তা এবং প্রাণবন্ত শহর যা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ এবং মাইস গন্তব্য হিসাবে এই শহরের বেশ প্রচার হচ্ছে।'

নিউটাউন হতে পারে গন্তব্য
দমদম বিমানবন্দরের নিকট অবস্থিত নিউটাউন সেরকমই একটি মাইস গন্তব্য হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে জনপ্রিয় হতে পারে, জানান তিনি। নন্দকুমারের কথায়, এখানে পরিকাঠামো রয়েছে। পাশাপাশি তথ্য-প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে নিউটাউনে। এখানেই গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম আরবান পার্ক। ৪৮০ একর জুড়ে গড়ে ওঠা এই ইকো পার্ক ব্যবসা ও বিনোদনের মিশ্রন বলা যেতে পারে। এখানে ব্যবসার পাশাপাশি সাইকেলিং, বোটিং ও জোরবিংয়ের অভিজ্ঞতাও লাভ করতে পারবেন।

আকর্ষণ দিঘা
পর্যটন দফতর থেকে জানা গিয়েছে, কলকাতার বড় বড় অনুষ্ঠানও এই বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারেই অনুষ্ঠিত হয়। পর্যটন সচিব জানান, নিউটাউনের পাশাপাশি সৈকত শহর দীঘাতেও গড়ে উঠেছে নতুন কনভেনশন সেন্টার। মুম্বইয়ের পর দিঘাতেই সবচেয়ে বড় কনভেনশন সেন্টার রয়েছে। যা আগামীদিনে মাইস পর্যটনকে আরও সমৃদ্ধ করবে। এর পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলিকেও ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে পর্যটন দফতর।












Click it and Unblock the Notifications