Travel: জানেন কোথায় রয়েছে রঘুডাকাতের ডেরা? শীতের ছুটিতে বেড়িয়ে আসুন সেই সতীপীঠ থেকে
Travel: জানেন কোথায় রয়েছে রঘুডাকাতের ডেরা? শীতের ছুটিতে বেড়িয়ে আসুন সেই সতীপীঠ থেকে
বাংলা লোককথায় রঘুডাকাতের নাম সকলেরই প্রায় জানা। গা ছমছমে সেই রঘুডাকাতের ডেরা কোথায় রয়েছে জানেন কেই। এই শীতের ছুটিতে বেড়িয়ে পড়ুন সেই রঘুডাকাতের ডেরা দেখতে। বেশি দূরে যেতে হবে না কলকাতা থেকে। গাড়ি অথবা ট্রেন দুই পছেই যাওয়া যায়। বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামেই রয়েছে এই রঘু ডাকাতের ডেরা। রয়েছে এক সতীপীঠও। অনেকেই হয়তো এখনও সেই সতীপীঠের দর্শণ করে উঠতে পারেননি।

অট্টহাস সতীপীঠ
বর্ধমান জেলার কেতুগ্রামে রয়েছে একটি সতীপীঠ। যার নাম অট্টহাস সতীপীঠ। বলা হয়ে থাকে এখানে মায়ের নিম্নওষ্ঠ পড়েছিল। প্রথমে এই সতীপীঠকে বলা হত ওষ্ঠাহাস সতীপীঠ। পরে সেটি নাম হয় অট্টহাস সতীপীঠ। এই মন্দিরে আসল দেবী মূর্তিটি নেই রয়েছে নতুন একটি অষ্টধাতুর মূর্তি। তবে যে উগ্ররূপের মূর্তি এখানে ছিল সেটির একটি ছবি রয়েছে এই সতীপীঠে। সেই মূর্তি ভয়ঙ্কর দেখতে। শোনা যা বঙ্গিয় সাহিত্য পরিষদে রয়েছে সেই প্রাচীন মূর্তি।

কেমন সেই সতীপীঠের মূর্তি।
সেই সতীপীঠের মূর্তি ভয়াবহ। মায়ের চেহারা নাকি কঙ্কালসার। তাঁর বড় বড় কান. বিস্ফোরিত দুটি চোখ, দুটি দাঁত বেরিয়ে আসছে মুখ থেকে মুখে হিংস্রতার ছাপ। বাম হাত মাটিতে রাখা। ডান হাত হাঁটুতে রেখে বসে রয়েছেন। সেই দেবীর দিকে তাকিয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারতেন না কেউ। এই দেবীর নাম এখানে ফুল্লরা। পাথরের তৈরি মূর্তিটি কে তৈরি করেছিলেন সেটা আজও অজানা। ১৯১৫-১৬ সালে বিখ্যাত ইতিহাসবিদ নগেন্দ্রনাথ বসু এখানকার মূর্তিটি সংগ্রহশালায় নিয়ে যান। প্রতিটি সতীপীঠের মতও এখানে কালভৈরবের মন্দিরও রয়েছে। যিনি এখানে পুজিত হন বিল্লেশ্বর নামে।

পাশেই বইছে ইশানী নদী
এই সতীপীঠের পাশেই রয়েছে ইশানী নদী। যেটা ধীরে ধীরে কুণ্ডের জল দিয়েই সতীপীঠে পুজো হয়। এই সতীপীঠে অনেকেই তন্ত্রসাধনা করে থাকেন। রয়েছে পঞ্চমুণ্ডীর আসন। এর কাছেই রয়েছে জঙ্গল। বিশাল একটি মাঠ পেরিয়ে যেতে হত এই সতীপীঠে। মাঠটি পার হওয়ার সময় দুষ্ট লোকেরা দর্শনার্থীদের কোলের সন্তানকে চুরি করে নিয়ে গিয়ে তান্ত্রিকদের কাছে বিক্রি করে দিত। তারপর থেকে সেই মাঠটির নাম হয় গর্দান মারির মাঠ বলে নাম হয়।

এই জঙ্গলেই রয়েছে রঘুডাকাতের ডেরা
এই সতীপীঠের পিছনের জঙ্গলেই ছিল রঘুডাকাতের ডেরা। যার নাম বাংলার লোককথায় বহুল পরিচিত। এই রঘু ডাকাতের নাম শুনলেই নাকি বাঘে গরুতে একঘাটে জল খেত। শোনা যায় প্রতি অমাবশ্যার রাতে নরবলী দিয়ে নাকি রঘু ডাকাত ডাকাতি করতে বেরোতেন। তিনি ছিলেন রটন্তী কালীর ভক্ত। প্রতি মাঘী অমাবস্যায় এই জঙ্গলে রটন্তী কালীপুজো করত সে। তারপর নরবলী দিয়ে সেই বলির মুন্ডু ত্রিশূলে গেঁথে রেখে ডাকাতি করতে বের হতো রঘু ডাকাত।












Click it and Unblock the Notifications