ঝেঁপে নামবে বৃষ্টি, বর্ষার অঝোর ধারা মনোরম হয়ে ওঠে বাগদার এই নির্জন সৈকতে
ঝেঁপে নামবে বৃষ্টি, বর্ষার অঝোর ধারা মনোরম হয়ে ওঠে বাগদার এই নির্জন সৈকতে
বর্ষা এসে গেলে বলে। অনেকেই হয়তো ভাবছেন এবার ঘরেই থাকতে হবে। বর্ষায় বেড়াবেন কোথায়। কিন্তু বর্ষায় যে সমুদ্র সৈকত আরো মনোরম হয়ে ওঠে সেটা হয়তো অনেকেই জানেন না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে বঙ্গে তো আর লোনাভালা নেই। তাহলে কোথায় যাবেন। বাগদার নির্জন সৈকত হাতছানি দিয়ে ডাকছে। বর্ষা এখানে অসাধারণ উপভোগ্য।

বর্ষায় মনোরম বাগদা
জায়গার নাম অনেকের কাছেই অজানা। আসলে বঙ্গে নয় বাগদা ওড়িশার অংশ। কলকাতা থেকে তার দূরত্ব খুব একটা বেশি নয়। বঙ্গোপসাগরের ঢেউ। সামনে চওড়া সৈকত। তারপরেই ঝাঁউবন। মনোরম পরিবেশ যাকে বলে। বর্ষা কালে আরও বেশি মনোরম হয়ে পরিবেশ হয়ে ওঠে বাগদা। সমুদ্রের জলচ্ছ্বাসের সঙ্গে বর্ষা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় এখানে। তারপরে ঝাউবনের হাওয়া। সমুদ্রের হাওয়ায় দুলতে থাকে ঝাউগাছগুলি।

কীভাবে যাবেন
বাগদা যেতে খুব বেশি সময় লাগে না। হাওড়া, শালিমার বা সাঁতরাগাছি যেকোনো স্টেশন থেকে ট্রেনে ছাড়ে। সকালের ফলকনুমা এক্সপ্রেস ধরলে সুবিধা বেশি হয়। দুপুরের মধ্যে বালেশ্বরে যাওয়া যায়। স্টেশন থেকে বাগদার দূরত্ব ৩১ কিলোমিটার। স্টেশন থেকে অটো মেলে বাগদা যাওয়ার জন্য। ৬০০ টাকা মত ভাড়া লাগে। রিজার্ভ করে চলেগেলেই হল। স্টেশন থেকে অটো বুড়িবালাম নদীর সেতু পেরিয়ে বালিঘাট রোড ধরে সোজা এসে যায় বাগদায়।
রাস্তায় অনেক বাজার, খেত পড়ে। রাস্তা খুব একটা ভাল নয় ঠিকই। এবড়ো খেবড়ো সড়ক।

টেন্টে নিশাযাপন
ঝাউবনের কাছেই সারি সারি টেন্টে থাকার ব্যবস্থা।সেখানে আগে থেকে বুক করে রাখলে ভাল। ঝাউবনের সরু রাস্তা চলে গিয়েছে সৈকতের দিকে। খুব বেশি উত্তাল নয় সমুদ্র। মন্থর গতিতে ঢেউ ভাঙছে সৈকতে। একটার পর একটা। চওড়া সৈকত হাঁটতে অসাধারণ লাগবে। সমুদ্র সৈকত থেকে দেখা যায় সূর্যাস্ত। মনোরম সেই শোভা। সকালে সৈকতে গেলেইদেখা যাবে মাছ ধরা। মৎস্যজীবীরা সব ট্রলার নিয়ে ফিরছেন সৈকতে। আঁধার নামলে টেন্টে ফেরা। আবার বর্ষণ শুরু হলে টেন্টে বসেই ঝাউ বনের ফাঁক গিয়ে দেখা যাবে সমুদ্রের ঢেউ।

বর্ষার মনোরম শোভা
টেন্টের মধ্যে থেকেই বর্ষার মনোরম শোভা উপভোগ করতে পারবেন। সমুদ্র খুব বেশি উত্তাল না হলে স্নানটা সেরে নিতে পারেন ভিজতে ভিজতে। সঙ্গে গরম গরম মাছভাজা। বর্ষার মজা জমে যাবে বাগদার সৈকতে। তবে একটা কথা সব সময় মনে রাখতে হবে এখানে আসার আগে থেকে বুকিং করে আসতে হবে। নইলে জায়গা মেলা কঠিন। সমুদ্র সৈকত দেখেই গাড়ি ঘুরিয়ে বালাসোরে ফিরতে হবে। খুব বেশি উপভোগ্য হবে না সেটা।












Click it and Unblock the Notifications