Travel: জানেন কি কলকাতায় রয়েছে মিনি লখনউ, একবেলা ঘুরে আসুন এই চেনা-অচেনা নবাবি মহল্লায়
কলকাতা শহর জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস। ব্রিটিশ, পর্তুগিজ, ইহুদি, পার্সি, নবাবি বহু সময়ের ইতিহাস বহন করে চলেছে এই শতাব্দী প্রাচীণ শহর। এই শহরের বুকে একদিকে যেমন রয়েছে চার্চ, প্যাগোডা তেমনই রয়েছে নবাবি জমানার ছোঁয়া।
লখনউয়ের নবাবি ইতিহাসের ছোঁয়া রয়ে গিয়েছে এই শহরের বুকে। সেই ইতিহাস মলিন হয়ে গেলেও এখনও জেগে আছে তার অস্তিত্ব। এই শহরেই রয়েছে মিনি লখনউ। অনেকেই জানেন না সেই কথা। অথচ নাম শুনেছেন এলাকার। এখন যার নাম মেটিয়াব্রুজ সেটাই ছিল কলকাতা শহরের মিনি লখনউ। নবাব ওয়াজেদ আলি খাঁ তাঁর জীবনের শেষ একত্রিশ বছর কাটিয়েছিলেন এই মেটিয়াব্রুজেই।

যদিও তাঁর সেই নবাবি ঠাঁট আর তখন ছিল না। ব্রিটিশদের দেওয়া মাসোহারাতেই করতে হতো দিন গুজরান। তবে নবাব তো। পকেটে টাকা না থাকলেও মেজাজটা সেই নবাবিই হয়ে রয়ে গিয়েছিল। সারাদিন নাচ, গানের আসর বসত মেটিয়াব্রুজে গঙ্গার পাড়ের এই নবাবের বাসভবনে। সেই জায়গাটি সেসময় মিনি লখনউয়ে পরিণত হয়েছিল।
নবাবের মনোরঞ্জনের জন্য লখনউ থেকে নিয়ে আসা হতো বাইজিদের। সন্ধে নামলেই মজলিস বসত নবাবের দরবারে। সঙ্গে চলত খানাপিনা। কলকাতার আলু বিরিয়ানি নাকি এই ওয়াজেদ আলি শাহের খানসামারাই প্রথম তৈরি করেন। ব্রিটিশদের দেওয়া মাসোহারায় নবাবি স্বাদের বিরিয়ানি তৈরি করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল তাঁদের। সেকারণে বিরিয়ানিতে মাংসের পরিমাণ কমিয়ে আলু দেওয়া শুরু করেন নবাবের বাবুর্চিরা। আর সেই থেকেই শুরু কলকাতার বিশেষ বিরিয়ানি।
নবাবের মৃত্যুর পর ব্রিটিশরা তাঁর বাড়ি ভেঙে দেয়। এবং সেখানে তৈরি করে নিজেদের পছন্দের ইমারত। তবে নবাবি আমলের মসজিদ এবং ইমামবাড়া এখনও রয়ে গিয়েছে। অনেকেই সেই ইমামবাড়াগুলির সৌন্দর্য জানেন না। বছরের অধিকাংশ সময়ই সেগুলি বন্ধ হয়ে পড়ে থাকে। অনেকগুলির অবস্থা ভগ্নপ্রায়। তবে সেই নবাবি স্থাপত্যের নিদর্শন আজও রয়ে গিয়েছে।
মেটিয়াব্রুজেই ছিল নবাবের নমাজ পড়ার মসজিদ সেটি এখনও রয়েছে। শাহি মসজিদ নাম তার। চারপাশে রয়েছে বাগান ফোয়ারা। এই মেটিয়াব্রুজেই রয়েছে নবাবের সমাধি। যাকে শাহি ইমামবাড়া বলা হয়ে থাকে। মেটিয়াব্রুজের অন্যান্য ইমামবাড়ার থেকে এটি এনেকটা বড়। সাজানো গোছানো। সন্ধে হলেই এখানে জ্বলে ওঠে ঝাড়বাতি। শাহি ইমামবাড়ার পাশেই রয়েছে বেগম উমদা মহল। কলকাতায় আসার পর নবাব বিয়ে করেছিলেন বেগম উমদা। তাঁর সমাধিও রয়েছে এই উমদা মহলে।












Click it and Unblock the Notifications