Kiriteswari Village: ভাগীরথীর পাড়ে মুর্শিদাবাদের একমাত্র সতীপীঠ, বেড়িয়ে আসুন ভারতের সেরা পর্যটন গ্রামে
মুর্শিদাবাদের একমাত্র সতীপীঠ কিরীটেশ্বরী গ্রাম। মুর্শিদাবাদ সাধারণ নবাবী ইতিহাসের কারণেই পরিচিত। কিন্তু সেখানেও যে একটি সতীপীঠ রয়েছে সেটা অনেকেই জানেন না। এখানে নাকি দেবী সতীর মাথার মুকুট বা কিরীট পড়েছিল। সেই থেকে এই গ্রামের নাম নাম হয়েছে কিরীটেশ্বরী।
মুর্শিদাবাদের বৈষ্ণব ক্ষেত্র ডহপাড়ার কাছেই এই অবস্থান। আগে এই গ্রামের নাম ছিল কিরীটকণা। পরে লোকমুখে অপভ্রংশ হতে হতে এর নাম হয় কিরীটেশ্বরী। এই গ্রামকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজির বললে ভুল হবে না। কারণ গ্রামের সিংহভাগ মানুষ মুসলিম। তাঁদের দেওয়া জমিতেই কিরীটেশ্বরী মাতার মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। মন্দির কমিটিতে একজন মুসলিম সদস্যও রয়েছেন।

গতাকাল ভারতের পর্যটন দফতর গ্রামটিকে সেরা গ্রামের মর্যাদা দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেেল সেকথা জানিয়েছেন। মোট ২৭টি আবেদন পত্রের মধ্যে মুর্শিদাবাদের এই গ্রামটিকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। এই গ্রামে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার নবাবী ইতিহাস। পলাশির যুদ্ধের সময় নাকি মির্জাফর তাঁর সঙ্গী রাজা রাজবল্লভকে ডুবিয়ে হত্যা করেছিলেন সেসময় নাকি মন্দিরের শিবলিঙ্গ ফেটে গিয়েছিল। মৃত্যু শয্যায় এই কিরীেটশ্বরী মাতার মন্দিরের চরণামৃত পান করেই নাকি মারা গিয়েছিলেন মীর্জাফর।
১৪০৫ সালে মন্দিরটি প্রায় ভেঙে গিয়েছিল। ১৯ শতকে লালগোলার রাজা দর্পনারায়ণ মন্দিরটি নির্মাণ করেন। মোঘল সম্রাট আকবরের নাকি তাঁকে মন্দিরটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কালীপুজো, দুর্গাপুজো ছাড়ও এই মন্দিরে রটন্তী অমাবস্যায় বিশেষ পুজো হয়। পৌষমাসে প্রতিমঙ্গলবার এখানে মেলা বসে।

এই মন্দিরে আসতে হলে হাজারদুয়ারি হয়ে আসতে হবে। ভাগীরথী নদী পাড় করে তারপরে টোটো করে পৌঁছতে হবে এখানে। আলাদা করে টোটো ভাড়া পাওয়া যায়। আবার শেয়ারেও যেতে পারেন। সপ্তাহান্তের ছুটিতে অনায়াসে এখানে ঘুরে যেতে পারেন। যাঁরা মুর্শিদাবাদ ঘুরতে যাবেন ভাবছেন তাঁদের কাছে এই জায়গাটি একেবারেই নতুন এবং অন্যরকম তাতে কোনও সন্দেহ নেই।












Click it and Unblock the Notifications