Karnagarh: চুয়ার বিদ্রোহের নেতৃত্বে ছিলেন এখানকার রানি, বেড়িয়ে আসুন কলকাতার কাছেই সেই ঐতিহাসিক স্থানে
কর্ণগড়। ইতিহাসের পাতায় আজও এই জায়গার নাম পাওয়া যায়। যাঁরা একটু ঐতিহাসিক স্থানে বেড়াতে ভালোবাসেন তাঁদের জন্য অত্যন্ত ভাল জায়গা এই কর্নগড়। কলকাতা থেকে খুব বেশি দূরে নয় এই কর্ণগড়। পশ্চিম মেদিনীপুরের অংশ এটি।
মেদিনীপুর শহর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে এই কর্নগড়। কাজেই বেশি সময় লাগে না সেখানে যেতে। কিন্তু দেখার অনেক কিছু রয়েছে। এই কর্নগড় দুর্গের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে চুয়ার বিদ্রোহের ইতিহাস। ইংরেজদের সঙ্গে প্রথম সশস্ত্র বিদ্রোেহর নেতৃত্বে ছিেলন এই কর্নগড়ের রানি শিরোমণী। যাঁকে বলা হয় মেদিনীপুরের লক্ষ্মীবাই।

১৭৬০ সালে রাজা অজিত িসংহের মৃত্যুর পর রাজ্য শাসনের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন রানি শিরোমণি। প্রায় ৪০ বছর ধরে তিনি রাজ্য শাসন করেছিলেন দক্ষতার সঙ্গে। সেসময় ব্রিডিশদের সঙ্গে তাঁর সংঘাত হয়। ইংরেজদের সঙ্গে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি।
আজও রানি শিরোমণির সেই বীরত্বের ইতিহাসের স্মৃতি রয়ে গিয়েছে এই কর্নগড়ে। দুর্গের অনেকংশ ভগ্নপ্রায় হয়ে গেলেও রাজ পরিবারের কুলদেবতার মন্দির কিন্তু এখনও সুন্দর রয়েছে। এই দুর্গে এলে ওড়িশার শিল্পরীতির ছোঁয়া পাবেন। রানি শিরোমণির আরাধ্যা দেবী ময়ামায়া মন্দির এখনও সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
মন্দিরের ভেতরে রয়েছে একটি পঞ্চমুণ্ডির আসন। শোনা যায় কর্নগড়ের রাজা যশোবন্দ সিংহ এবং শিবায়ন রচনাকার রামেশ্বর ভট্টাচার্য এই পঞ্চমুণ্ডির আসনে বসে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। সেকারণে পর্যটকদের কাছে এই মন্দির বেশি আকর্ষনীয়। অনেকেই এখানে এসে আগে পঞ্চমুণ্ডির সেই আসন দেখতে চান।

তারপরেই রয়েছে চুয়ার বিদ্রোহের ইতিহাস। ১৭৯৮ সালে চুয়ার বিদ্রোহ শুরু হয়। প্রথম ব্রিিটশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোগ করেন। রানি শিরোমনির নেতৃত্বে চুয়ার বিদ্রোহ শুরু হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রানির সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করেন তাঁরই অনুগতরা। শেেষ আত্মাহুতি দিয়ে ইংরেজেদের হাত থেকে নিজের সম্ভ্রম রক্ষা করেছিলেন রানি। তারপরেই ভেঙে গিয়েছিল চুয়ার বিদ্রোহ। কর্নাগড়ের দুর্গ এখনও সেই ইতিহাস বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications