বসন্তের রং এখানে সত্যিই লাল, হোলির ছুটিতে মন ভরিয়ে দেবে কোঁকরাঝাড়
কলকাতার কাছেই রয়েছে জঙ্গল-পাহাড়ে ঘেরা নতুন পর্যটন কেন্দ্র
বসন্তে আরও রঙ্গিন হয়ে ওঠে রুক্ষ-শুক্ত জঙ্গলমহল। একটা সময়ে মাওবাদীদের উপদ্রবে যেখানে মানুষ যেতে ভয় পেতেন সেই কোঁকরাঝাড়ই এখন হয়ে উঠেছে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র। পাহাড় জঙ্গল মন্দির সমারোগে প্রকৃতি এখানে উজার করে দিয়েছে সৌন্দর্য। বসন্তে এখানকার সৌন্দর্য আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়। দোলের দিনে অনেকেই বেড়াতে যান পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম। তাঁদের জন্য আদর্শ জায়গা কোঁকড়াঝাড়।

কোঁকড়াঝোর
একেবারে ঝাড়খণ্ডের সীমানায় রয়েছে কোঁকড়া ঝাড়। সেকারণে একটা সময়ে এখানে মাওবাদীরা ডেরা তৈরি করেছিল। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহল এলাকায় ভয়ে কেউ পা রাখত না। কিষেণজি নিধন কাণ্ডের পর সেসব পাট চুকে গিয়েছে এখন জঙ্গলমহল মানেই পর্যটন। দক্ষিণবঙ্গের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই জঙ্গলমহল। বেলপাহাড়ি থেকে কোঁকরাঝোড় জঙ্গলের পথ ২২ কিলোমিটার।

কী রয়েছে এখানে
শাল-পিয়ালের জঙ্গল কোঁকড়াঝাড়। যেখানে নাকি অগণিত পাখি দেখা যায়। অনেক রকমের নাম না জানা পাখি ভিড় করে এই জঙ্গলে। অনেক পাখি প্রেমীরা এই পাখি দেখতে আসেন এই জঙ্গলে। তবে তার জন্য অনেকটা সময় দিতে হয়। জঙ্গলের নিস্তব্ধতার মাঝে পাখিদের ডাক শুনতে হয় কান খাড়া করে। গত কয়েকবছরে এই জঙ্গলে পাখিদের আনাগোনা বেড়েছে। এই বসন্তে পলাশ-শিমূলের রঙে লাল হয়ে ওঠে জঙ্গল। সেকারণে আরও সুন্দর লাগে দেখতে।

টেন্ট খাটিয়ে নিশি যাপন
এখানে জঙ্গলের মধ্যে টেন্ট খাটিয়ে থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক রকমের হোম স্টে তৈরি হয়েছে। রাতে জঙ্গলে টেন্ট খাটিয়ে ক্যাম্প ফাটারের আয়োজনও তাকে সেই সব জায়গায়। এই কোঁকড়াঝাড় জঙ্গলের কাছেই রয়েছে কেতকি লেক। সেখানে অনেকেই পিকনিক করতে আসেন। অনেকটা বড় লেক এটি। এখানেও হরেক রকমের পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়। কাছেই রয়েছে রঙ্গিন পাহাড়। জঙ্গলের মধ্যে গাড়ি রেখে পায়ে হেঁটে যেতে হয়। এখানমকার পাথরের রং অন্যরকম সেকারণে এই নাম। রঙিন পাহাড় থেকে ৭-৮ কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে ধাঙ্গিকুসুম ঝরনা। সেখানেও পায়ে হেঁটে যেতে হয়। তবে জঙ্গলের মধ্যে এই ঝরনা মন ভরিয়ে দেয়।

কলকাতার কাছেই
দোলের ছুটিতে যাঁরা পুরুলিয়া বা ঝাড়গ্রাম যাওয়ার কথা ভাবছেন তাঁদের জন্য এটা একটা নতুন জায়গা তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বেলপাহাড়ি থেকে এই সবকটি জায়গার দূরত্ব খুব কাছে। এখান থেকে আবার ঘাটশিলাও ঘুরে আসা যায়। কাজেই আর দেরি না করে ঠিক করে ফেলুন এবার দোলের ছুটিটা কোথায় কাটাবেন।












Click it and Unblock the Notifications