জলদাপাড়ার রহস্যে হারিয়ে যেতে আপনি কি তৈরি, বানিয়ে ফেলুন ট্যুর প্ল্যান
জলদাপাড়ার রহস্যে হারিয়ে যেতে আপনি কি তৈরি, বানিয়ে ফেলুন ট্যুর প্ল্যান
থার্ড ওয়েভের আশঙ্কার মধ্যে রাজ্য তথা দেশে যে করোনা ভাইরাসের প্রভাব খানিকটা হলেও নিয়ন্ত্রণে, তা বলতে দ্বিধা নেই। তবু সাবধানী সরকার। তাই পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে প্রশাসন। তারই ফাঁকে ঝুঁকি নিয়েই এদিক-ওদিক ঘুরে আসছেন ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি। ফলে রাজ্যের অন্যান্য স্থানের মতো ভিড় বাড়ছে সুন্দরী ডুয়ার্সে। নিরিবিলি গা ছমছমে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান এর অন্যতম আকর্ষণ। ট্যুর প্ল্যান করার আগে ওই স্থান সম্পর্কে এই তথ্যগুলি জেনে নেওয়া ভালো।

অবস্থান ও ইতিহাস
সমুদ্রপৃষ্ঠ ৬১ মিটার উচ্চতায় তোর্সা নদীর তীরে অবস্থিত এই অভয়ারণ্যের সামগ্রিক আয়তন ১৪১ বর্গ কিলোমিটার। পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার অন্তর্গত জলদাপাড়া মূলত নদীকেন্দ্রিক বনাঞ্চলময় একটি সুবিস্তৃত তৃণভূমি। সেখানকার বৈচিত্রময় প্রাণী ও উদ্ভিদ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ১৯৪১ সালে জলদাপাড়া একটি অভয়ারণ্য ঘোষিত হয়েছিল। ২০১২ সালের ১০ মে এই বনভূমিকে জাতীয় উদ্যান বলে ঘোষণা করা হয়।

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে যারা ট্রেনে রওনা হবেন, তাঁদের হয় হাসিমারা কিংবা ফালাকাটা স্টেশনে নামতে হবে। সেখান থেকে জলদাপাড়া যাওয়ার গাড়ি পাওয়া যায় সহজে। হাসিমারা থেকে জলদাপাড়ার দূরত্ব ১১.৮৩ কিলোমিটার। ফালাকাটা থেকে জাতীয় উদ্যানে পৌঁছতে ১৪.৮৩ কিলোমিটার পথ পরোতে হয়। অনেকে আবার ট্রেনে মাদারিহাট স্টেশনে নেমে সেখান থেকেও জলপাড়া পৌঁছনোর গাড়ি ধরেন। কলকাতা থেকে বাসেও জলদাপাড়া পৌঁছন কেউ কেউ। তবে তাতে সময় একটু বেশি লেগে যায়।

সুন্দরী জলদাপাড়া
মূর্তি থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে পৌঁছতে সময় লাগে পাক্কা দেড় ঘণ্টা। সেখানে প্রবেশের জন্য টিকিটের কাউন্টার খোলে সকাল দশটায়। পর্যটক বোঝাাই জিপ ঘন জঙ্গলে হারিয়ে যায় নিমেষে। রহস্যে মোড়া বিশাল জলদাপাড়া অরন্যের সিংহভাগ অংশীদারী বকলমে এক শৃঙ্গী গণ্ডারদের দখলেই রয়েছে। বাকী অংশের পাহারায় গজপতিদের দল। ভূটান পাহাড়ের পাদদেশে এবং তোর্সা নদীর গতিপথের অববাহিকায় জলদাপাড়ার অবস্থান হওয়ায় এই জঙ্গল হাতি ও গণ্ডারদের অত্যন্ত প্রিয় বলে জানা যায়। কাঁটা-ঝোপ, গাছ-গাছালিতে ভরা মেঠো পথ ধরে জাতীয় উদ্যানের মূল আকর্ষণ হলং বাংলোয় পৌঁছতে খুব বেশি সময় লাগে না। বিরাট ওই কাঠের বাংলোর সম্মুখ ভাগে রয়েছে এক মস্ত জলাশয়। তাকে ঘিরে থাকা দিগন্ত বিস্তৃত বনানী যেন বাহুল্যবর্জিত কোলাহলহীন কোনও ভিন গ্রহ। যেখানে রণক্লান্ত শহুরে হৃদয়ে মুক্তির বার্তা বয়ে আনে লাল-নীল বিহঙ্গরা। আশ্চর্য নীরবতা ভেদ করা মত্ত দাদুরি ও ঝিঝির তান সময়ের বেড়াজালও ছিন্ন করে। হলং বাংলোর সামনের জলাশয়ের এক প্রান্তে নুন খেতে আসে হাতি, হরিণ, বাইসনের মতো বন্যপ্রাণীরা। সেখানেই বর্ষার আগে পেখম তুলে ময়ূরের নাচ দেখার দৃশ্যও নাকি বড়ই মনোরম। শাল, শিশু, খয়েরের ঘন জঙ্গল এবং তারই সঙ্গে ফলঙ্গি ও হলং নদীর ধীর গতিপথ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। হাতির পিঠে চেপে আরণ্যে প্রাণী দর্শন জলদাপাড়ার মূল আকর্ষণ।

আর কী দেখার
১) জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান যাওয়ার পথে এক স্থানে পরপর গাছ ও কাঠের গুড়িতে ভর করে মাটি থেকে নিরাপদ উচ্চতায় খড়-বিচুলি, নারকেল পাতা দিয়ে তৈরি ঘরগুলো দেখে অবাক হতে হয়। যে এলাকার নাম টোটো পাড়া। মত্ত হাতির পাল এবং মাংস লোলুপ চিতা-হায়নার হানা থেকে সন্তানদের বাঁচতে মাটি থেকে কিছুটা উপরে ঘর বাঁধেন টোটো সম্প্রদায়ের মানুষ। বন্যপ্রাণী ও মানবজাতির এমন ঐকান্তিক সহাবস্থান দেখে মনে হয়, এ যেন অচেনা এক দেশ।
২) সাউথ খয়েরবাড়ি নেচার পার্ক : কিছু পরেই সাউথ খয়েড়বাড়ি নেচার পার্কে পৌঁছল আমাদের গাড়ি। মূলত বাঘ ও চিতাবাঘের চিকিসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে এই নেচার পার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। যেখানে প্রকৃতির বুকে জীব-জন্তুদের অবাধ বিচরণ দেখতে যেন সুদীর্ঘ লোহার খাঁচায় আটকা থাকেন পর্যটকরাই। ব্যাটারিচালিত গাড়ি করে পার্ক ঘোরার মজাই আলাদা। ভিতরে রয়েছে পিকনিক স্পট। তারই অদূরে জলাশয়ে বোটিংও করেন অনেকে। রাবারের বনের বুক চিড়ে আঁকাবাঁকা পথ ধরে সে স্থানে পৌঁছনোর মজাই আলাদা।

কোথায় থাকবেন
বন্যপ্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটাতে রাজ্য সরকারের ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের সাইটে গিয়ে হলং বাংলো বুক করা যায় আনায়াসে। তবে চাহিদা অত্যধিক হওয়ায় তা আগেভাগে বুকিং করাই ভালো। জাতীয় উদ্যানের বাইরে হোটেল, হোম স্টে পর্যটকদের অপেক্ষায় বসে। চটপট বুকিং না করলে পরে পস্তাতে হবে।
ছবি সৌ :ইউটিউব












Click it and Unblock the Notifications