বসন্তের রঙে রঙিন হয় পুরুলিয়া, ঘুরে আসুন লালমাটি আর শিমুল-পলাশে রাঙা জাজাহাতু
বসন্তের রঙে রঙিন হয় পুরুলিয়া, ঘুরে আসুন লালমাটি আর শিমুল-পলাশে রাঙা জাজাহাতু
বসন্তের আরও রঙিন হয়ে ওঠে রুক্ষ, শুষ্ক পুরুলিয়া। চারিদিকে কেবল রঙের ছড়াছড়ি। শাল, শিমুল পলাশের আভায় লাল হয়ে ওঠে রাস্তাঘাট। তার সঙ্গে কৃষ্ণচূড়া-রাধাচূড়ার রঙিন বসন্ত মন ভরিয়ে দেবে। এই সময় ঘুরে আসতে পারেন পুরলিয়ার একাধিক জায়গা। অনেকেই বসন্তে অযোধ্যা পাহাড়ে ঘুরতে যান। সেই পথেই ঘুরে আসতে পারেন জাজাহাতু। তার আশপাশে রয়েছে অসংখ্য দেখার জায়গা।

কাছেপিঠে জাজাহাতু
পুরুলিয়া যাঁরা গিয়েছেন তাঁরা অনেকেই ঝালদার নাম শুনে থাকবে। খবরের দৌলতে এখন ঝালদা নামটা বেশ শোনা হয়ে গিয়েছে। এই ঝালদা খামার গ্রাম থেকেই মাত্রা ২০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে জাজাহাতু। নামটা অনেকেরই অদ্ভুত মনে হবে। এর একটা অর্থও রয়েছে। জাজা শব্দের অর্থ হল তেঁতুল আর হাতু শব্দের অর্থ হল বসতি। দুয়ে মিলে জাজাহাতু। কারঁএই এলাকায় নাকি অনেক তেঁতুল গাছ ছিল এখনও দেখা যায় অনেক তেঁতুল গাছ। সেকারণে এই নামকরণ হয়েছে গ্রামটির।

কী কী দেখা যাবে এখানে
জাজাহাতু এমনিতেই খুব সুন্দর একটি আদিবাসী গ্রাম। যাঁদেল আদিবাসীদের জীবনযাত্রা টানে তাঁদের খুব ভাল লাগবে এই জাজাহাতু। এই গ্রামে হেঁটে হেঁটেই ঘুরে ফেলা যায় অনেক জায়গা। সিন্ধিয়া, জারিয়া, কীর্তনীয়া টিলা। কাছেই রয়েছে লায়েক জলাধার। আবার জাজাহাতু থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে কুকি গ্রাম। সেখানে রয়েছে কুকি ড্যাম। জাজাহাতু থেকে মুড়ুভাসা জলাধারের দূরত্ব মাত্র ৫ কিলোমিটার। এই জলাধারের যাওয়ার পথেই পড়বে গজাবুরু পাহাড়।

কাছেই নোড়াহাড়া জলাধার
জাজাহাতু থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে নোড়াহাড়া ড্যাম। সেখানে নাকি পাহাড় চূড়ার কালী মন্দিরে একটা সময় নরবলি হত। গা ছমছম করা সব গল্প জড়িয়ে রয়েছে এই জাজহাতুর আনাচে কানাচে। এখান থেকে সূর্যাস্ত দেখতে অসাধারণ লাগে। জাজাহাতুর আরেকটু দূরেই রয়েছে লাকড়াকুঁদি জলাধার। অযোধ্যা পাহাড় থেকে নেমে আসা সাহারজোর নদী এখানে জলাধার তৈরি করা হয়েছে। লাকড়াকুঁদির আবার একটা গল্প রয়েছে। এখানে নাকি একটা সময়ে অসংখ্য নেকড়ে থাকত। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গ্রামবাসীরা নেকড়ের দলনেতাকে মেরে পুঁতে দিয়েছিল। তারপর থেকে এই জায়গাটির নাম হয়েছে লেকড়াকুঁদি। লাকড়া শব্দের অর্থ হল নেকড়ে।

মুরুগুমা জলাধার
জাজাহাতুর ১৯ কিলোমিটার দূরে রয়েেছ মুরুগুমা জলাধার। অযোধ্যা পাহাড় থেকে নেমে আসা নদী সাহারজোড়কে এখানে বেধে ফেলা হয়েছে। তিনদিকে পাহাড় ঘিরে তৈরি হয়েছে একটা সুন্দর হ্রদ। তাতেই বলা হয় মুরগুমা জলাধার। গরমে খুব একটা জল দেখা যায় না এখানে। তবে হ্রদের তিন দিকে পাহার মন ভরিয়ে দেয়। এই হ্রদের কাছেই রয়েছে সাঁওতালি গ্রাম । সেখানেও কেউ চাইলে ঘুরে আসতে পারেন। সাঁওতালি গ্রামের জীবন যাত্রা দেখতে মন্দ লাগবে না।












Click it and Unblock the Notifications