জানেন কার হাত ধরে কলকাতায় এসেছিলেন চিনারা? কেমন ছিল টেলিগ্রাম অফিস? কলকাতার কাছেই রয়েছে সেই জায়গা
অছিপুরের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে চায়না টাউনের ইতিহাস
চিনের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের তিক্ততা বাড়লেও একটা সময়ে কিন্তু হিন্দি-চিনি ভাইভাই ছিলেন। সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই বঙ্গের সঙ্গে চিনের যোগ রয়েছে। কলকাতায় তো একটা আস্ত চায়না টাউন রয়েছে। জানেন কি কলকাতায় চায়না টাউনের ইতিহাস। তাহলে আসতে হবে এই অছিপুরে। কলকাতা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে যার অবস্থান।

কোমাগাতামারু বজবজ
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বজবজ। যার নামের আগে রয়েছে কোমাগাতামারু শব্দটি। অছিপুর যেতে হলে এই বজবজ স্টেশনে নামতে হবে। জানেন কি কেন কোমাগাতামারু বজবজ বলা হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে এক মর্মান্তিক ইতিহাস। ব্রিটিশ আমলে একটি জাগাজের নাম কোমাগাতামারু। যে জাহাজের পাঞ্জাবের দরিদ্র প্রায় শ তিনেক মানুষকে কানাডায় নিয়ে হিয়েছিলেন গুরজিৎ সিং। মূলত এই দারিদ্র থেকে মুক্তি দেওয়াই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্ত কানাডায় সেই জাহাজ থেকে কাউকে নামতে দেওয়া হয়নি। প্রায় তিন মাস ধরে সেই জাহাতে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটান সেই শ তিনেক পাঞ্জাবি। আইনের মারপ্যাঁচে তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি কানাডায়। ফেরত পাঠানো হয় কলকাতায়। ব্রিটিশ সরকার সেসময় সেই জাহাজের বাসিন্দাদের অবিলম্বে পাঞ্জাবে ফিরে যেতে বলেন। তাই নিয়ে ব্রিিটশদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। শেষে সেই জাহাজের শতিনেক মানুষ মারা যান গুলিতে। সেই থেকে এই জায়গাটির নাম কোমাগাতামারু বজবজ।

চায়না টাউনের সূত্র রয়েছে এখানে
শুধু জাহাজ নয় এখানে জড়িয়ে রয়েছে কলকাতার চায়না টাউনের ইতিহাস। বজবজের কাছেই রয়েছে অছিপুর। সেই অছিপুর নামটা এসেছে এক চিনা ব্যবসায়ীর নাম থেকে। যার নাম টং অছি। তিনি সুদূর চিন দেশ থেকে এসেছিলেন বঙ্গে। তাঁকেই চিন থেকে বঙ্গে আসা প্রথম চিনা নাগরিক বলে মনে করা হয়। চিনির ব্যবসা করতে তিনি এসেছিলেন এখানে। অছিপুরে বসবাস শুরু করেন। ব্যবসা করে প্রচুর সম্মদের মালিক হয়েছিলেন তিনি। তিনিই তৈরি করেছিলেন চিনা মন্দির। সেটি আজও অক্ষত রয়েছে। এখনও এই জায়গায়টি বলা হয় চিনাম্যান বাজার।

চিনা নববর্ষে উৎসব
সারা বছর ফাঁকা থাকলেও চিনা নববর্ষের দিন অছিপুরের এই চিনাম্যান বাজার একেবারে চিনা পট্টি হয়ে ওঠে। দেখে মনে হবে দ্বিতীয় কোনও চায়না টাউনে রয়েছে। ড্রাগন নাচ থেকে শুরু করে রঙিন লণ্ঠনের নাচ হয় এই মন্দিরে। রাশি রাশি মোবামবাতির আলোয় সাজিয়ে তোলা হয় মন্দিরটি। অসংখ্য চিনা মানুষ আসেন এই মন্দিরে পুজো দিতে। এই মন্দিরের ভেতরেই আবার রয়েছে একটি বনদেবীর মন্দির।

আর কি আছে দেখার
এই অছিপুরে দেখার জিনিয়ের অভাব নেই। রয়েছে ব্রিটিশ আমলে তৈরি টেলিগ্রাম অফিস। রয়েছে বারুদঘর। এই টেলিগ্রাম অফিস আসলে সেসময়ের পোস্ট অফিস। গঙ্গার পাড়ে এই টেলিগ্রাম হাউস থেকে জাহাজে সঙ্কেত পাঠানো হত। যদিও সেটির এখন একেবারেই ভগ্নপ্রায় দশা। আরেকটি যে দেখার মত জিনিস রয়েছে সেটি বারুদ ঘর। আগে কলকাতায় ঢোকার আগে সব জাহাজকে এখানে বারুদ জমা রেখে যেতে হত। মাত্র ৫০০ পাউন্ড বারুদ নিয়ে যেতে পারত তারা। যাওয়ার সময় আবার সেই জমা রাখা বারুদ নিয়ে বেরিয়ে যেত জাহাজগুলি।












Click it and Unblock the Notifications