নরবলির রক্ত দিয়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, কলকাতার কাছেই রয়েছে সেই রহস্যে ভরা কালী মন্দির
এখানে দেবীর যে রূপকে পুজো করা হয় সেই রূপে খুব কম সাধকই কালী আরাধনা করে থাকেন। পুরাণ মতে এখানকার দেবী শতাক্ষীর শরীর থেকে উৎপন্ন অনত্যম মহাশক্তি। সেকারণে এর মূর্তটিও আলাদা রকমের। ইনি নাকি প্রতিদিন শব মাংস ভক্ষণ করেন।
জানেন কোথায় বঙ্গে প্রথম নরবলি দেওয়া হয়েছিল কোন মন্দিরে। বীরভূমের গুহ্য কালী মন্দির। ৩০০০ বছরের প্রাচীন এই কালী মন্দিরে প্রথম নরবলি সেই রক্তে মা কালীর প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। কলকাতার কাছেই রয়েছে সেই মন্দির। অনায়াসেই সপ্তাহান্তে বেড়িয়ে আসা যায় সেখান থেকে। কেন এই মন্দিরকে গুহ্য বা গোপন কালী মন্দির বলা হয়ে থাকে। জেনে নিন তার একাধিক কথা।

কোথায় আছে গুহ্যকালী মন্দির
গুহ্যকালী বা অকালী কালী। বীরভূমের রামপুরহাটের কাছে অন্তঃপাতী অকালীপুরে রয়েছে এই রহস্যেভরা কালী মন্দির। এখানে মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন মহারাজা নন্দকুমার। মন্দিরটি প্রথম থেকেই রহস্যে মোড়া। একাধিক গল্প কথা রয়েছে এই মন্দির ঘিরে। এখানে দেবীর যে রূপকে পুজো করা হয় সেই রূপে খুব কম সাধকই কালী আরাধনা করে থাকেন। পুরাণ মতে এখানকার দেবী শতাক্ষীর শরীর থেকে উৎপন্ন অনত্যম মহাশক্তি। সেকারণে এর মূর্তটিও আলাদা রকমের। ইনি নাকি প্রতিদিন শব মাংস ভক্ষণ করেন। সেকারণে অকালীপুরে ব্রাহ্মণী নদীর তীরে শশ্মানের পাশেই মন্দিরটি তৈরি করেছিলেন রাজা নন্দকুমার। অনেকেই জানেন না এই মন্দিরের কথা।

নরবলি দিয়ে প্রাণ প্রতিষ্ঠা
এখানে লোকমুখে শোনা যায় নরবলি দিয়ে নাকি মায়ের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। গ্রামেরই মেলা থেকে এক শিশুকে বলি দেওয়া হয়েছিল মায়ের প্রাণ প্রতিষ্ঠার পরে। পরে নাকি সেই শিশুকেই জীবন্ত অবস্থায় নদী থেকে উঠে দেখেছিলেন সকলে। প্রায় ৩০০০ বছরের পুরনো এই মন্দির। শোনা যায় মগধরাজ জরাসন্ধ এই কালীর মূর্তিিট ৈতরি করেছিলেন। কাশিতে এক কৃষক জমিটে এই মূর্তিটি পেয়েছিলেন। কাশীর রাজা চৈত সিং মন্দির তৈরি করে সেটি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। ওয়ারেং হেস্টিংস মূর্তিটি ব্রিটেনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তখন চৈত রাজ এটি গঙ্গার পাড়ে লুকিয়ে রেখেছিলে ন। পরে রাজা নন্দকুমার স্বপ্নাদেশ পেয়ে কাশীরাজের কাছ থেকে মন্দিরটি চেয়ে নিয়ে এসে নিজের গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন।

নিশি পুজো হয় না মন্দিরে
সব কালী মন্দিরেই সাধারণত নিশি পুজো হয়ে থাকে। কিন্তু একমাত্র এই গুহ্যকালী মন্দিরে কোনও নিশি পুজো হয় না। এখানকার পুরোহিতরা বলেন সেসময় নাকী শশ্মানে মা নিজের লীলায় মগ্ন থাকেন। সন্ধা আরতির পর আর কেউ মন্দির চত্ত্বরে থাকেন না। কাউকে থাকতেও দেওয়া হয় না। অনেকেই প্রশ্ন করবেন তার প্রমাণ কোথায় এখানকার পুরোহিতরাই দাবি করেন , তাঁদের পূর্ব পুরুষরা নাকি সকালে মায়ের শাড়িতে প্রচুর চোরকাঁটা দেখতে পেতেন। তারপর থেকেই রাতে মন্দির বন্ধ রাখা হয়।

মূর্তিতে বিশেষত্ব
গুহ্যকালীর মূর্তিও কিন্তু একটু অন্যরকমের। এখানে মাকে সাপের কুণ্ডলীর উপরে বসে থাকতে দেখা যায়। আর মাথায় রয়েছে সহস্র ফনা। অর্থাৎ এই কালী মূর্তির কোথাও মহাদেবকে দেখা যায় না। অন্যান্য কালী মূর্তিতে যেমন মায়ের পায়ের নীচে মহাদেবকে দেখা যায় এখানে সেটা দেখা যায় না। বীরভূমে বেড়াতে এসে অনেকেই এই মন্দিরে ঘুরে যেতে পারেন। বীরভূমে একাধিক সতী পিঠ রয়েছে। সেই সব সতীপিঠ ঘিরেও একাধিক কাহিনী রয়েছে। কিন্তু এই গুহ্যকালী মন্দিরের কথা অনেকেই জানেন না।
ছবি সৌ:ট্রেভেল সুটারস/ইউটিউব












Click it and Unblock the Notifications