রং-বেরং-য়ের পুতুলের ভিড় এখানে, বেড়িয়ে আসুন কলকাতার কাছেই নতুন গ্রামে
কলকাতার কাছাকাছি বেড়ানোর জায়গা পুলুল গ্রাম
হস্তশিল্প মেলা থেকে দুর্গাপুজো সব জায়গাতেই হরেক রকম কাঠের পুতুলের দোকান অনেকেই দেখেছেন। পেঁচা থেকে শুরু করে রাধা-কৃষ্ণ হরেক রকমের জিনিস তৈরি করে পসরা সাজিয়ে বসেন তাঁরা। জানেন কি কোথায় তৈরি হয় এই সব কাঠের পুতুল। কলকাতার কাছেই কিন্তু রয়েছে সেই জায়গা যাকে বলা হয় পুতুল গ্রাম। সপ্তাহান্তে অনায়াসে সেখানে বেড়িয়ে আসা যায়।

সপ্তাহান্তে বেড়ানোর জায়গা
মাসের শেষে কাজের চাপ। ছুটি ফুরিয়ে এসেছে প্রায়। এখন আর বড় ছুটি পাওয়া দুষ্কর সেকারণে কাছাকাছি একদিনে ঘুরে আসার মত জায়গায় বেড়াতে যেতে চান অনেকেই সেরকমই একটা জায়গা পুতুল গ্রাম। একেবারে কলকাতার কাছেই। একদিনের মধ্যেই সেখান থেকে বেড়িয়ে আসা যায়। ট্রেন, বাস, গাড়ি উভয় পথেই সেখানে যাওয়া যায়। আবার একদিনের মধ্যে বেড়িয়েও আসা যায় সেখান থেকে।

পুতুল গ্রাম
কোথায় রয়েছে এই পুতুল গ্রাম। গাড়িতে বা ট্রেনে মাত্র কয়েক ঘণ্টার পথ পূর্ব বর্ধমানের কায়োটার কাছেই রয়েছে পুতুল গ্রাম। এবার অনেকেই প্রশ্ন করতে পারেন কেন এমন নাম পুতুল গ্রাম। আসলে এখানে ঘরে ঘরে তৈরি হয় পুতুল। মাটির নয়, কাঠের পুতুল। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য যাকে বলা যায়। এই গ্রামে ছোট থেকে বুড়ো সকলেই তৈরি করেন এই কাঠের পুতুল। গোটা রাজ্যে এখান থেকে কাঠের পুতুল সরবরাহ করা হয়। এখানে এলেই দেখতে পাবেন কেমন ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে কাঠের পুতুল। প্যাঁচা এঁদের সিগনেচার পুতুল। এচাড়া লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, রাধা-কৃষ্ণ সবকিছু তৈরি হচ্ছে।

কীভাবে যাবেন
পুতুল গ্রামে যেতে হলে ট্রেনে অথবা সড়ক পথে আসতে হবে। ট্রেনে আসতে হলে কাটোয়া লোকালে চেপে নামতে হবে পাটুলি অথবা অগ্রদ্বীপ স্টেশনে। সেখান থেকে টোটো করে মাত্র ১০ মিনিটেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই পুতুল গ্রাম বা নবগ্রামে। গাড়িতেও আসা যায় এই নবগ্রামে। এখানকার শিল্পীরা এখন আসবাবও তৈরি করছে। তবে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় এঁদের তৈরি লক্ষ্মীর পেঁচা। বিদেশেও নাকি এই গ্রাম থেকে কাঠের পুতুল যায়। এতটাই জনপ্রিয় এখানকার শিল্প।

মন ভাল হয়ে যাবে
নতুন গ্রাম বা পুতুল গ্রামে বেড়ালে মনটা ভাল হয়ে যাবে। হস্তশিল্প মেলায় যাঁদের কাজ দেখেন সেখানে গেলে একেবারে চোখের সামনে দেখতে পাবেন তাঁদে শিল্প। সেখান থেকে বাড়ির জন্য নিয়েও আসতে পারেন একাধিক জিনিস। একেবারে স্বল্পমূল্যে সেখানে শিল্পীরা বিক্রি করেন তাঁদের বহুমূল্য শিল্প। অনেকেই আসেন ব্যবসার স্বার্থে। আপনি না হয় বেড়িয়ে আসবেন সেখান থেকে। কয়েক ঘণ্টা রঙিন পুতুলের মধ্যে থেকে শৈশবে ফিরে যাওয়া যাবেষ আর ছোটরাও আনন্দ পাবে।












Click it and Unblock the Notifications