লর্ড ক্যানিং নাকি এখনও ঘুরে বেড়ান এই বাংলোয়, কলকাতার কাছেই রয়েছে সেই রহস্য ঘেরা সেই বাড়ি

রাতের অন্ধকারে লর্ড ক্যানিং এবং তাঁর স্ত্রীকে নাকি ঘোরা ফেরা করতে দেখা গিয়েছে এই বাড়িটিতে

অ্যাডভেঞ্জার ট্যুিরজিম অনেকেরই পছন্দ। আর সেটা যদি হয় ভুতুড়ে বা হন্টেড তা হলে তো কথাই নেই। কৌতুহলী মানুষের মন না না করেও গিয়ে হাজির হয়। কলকাতার কাছেই রয়েছে এমনই এক অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিস্ট স্পট। লর্ড ক্যানিংয়ের বাংলো। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে। রেল পথে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় সেখানে।

লর্ড ক্যানিংয়ের বাংলো

লর্ড ক্যানিংয়ের বাংলো

লর্ড ক্যানিং। ব্রিটিশ শাসনে ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ক্যানিং। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে মাতলা নদীর তীরে নিজে একটি বাংলো তৈরি করেছিলেন। সেসময়ের হিসেবে সেটা অট্টালিকার চেয়ে কিছু অংশে কম ছিল না। কিন্তু এখন অনেকেই সেই অট্টালিকা দেখলে চিনতে পারবেন না। এমনই তার অবস্থা। পোড়ো বাড়ি বললে ভুল হবে না। ভেঙে গিয়েছে অধিংশ জায়গা। চুন সুরকির পরত ছেড়ে পড়েছে। কড়ি বরগার অবস্থাও ভীষণই খারাপ। বাড়ির দেওয়াল বেয়ে উঠেছে বট, অশ্বত্থ গাছের চারা। কিন্তু ব্রিটিশ আমলে এই বাড়ি ছিল জমজমাট। চাকর বাকর, খানসামা, পেয়াদা কি ছিল না এখানে।

কেন ভুতুড়ে বাড়ি বলা হয়

কেন ভুতুড়ে বাড়ি বলা হয়

মাতলা নদীর পাড়ে লর্ড ক্যানিং বাড়িটি তৈরি করেছিলেন বাণিজ্যের কাজ দেখা শোনা করার জন্য। এখানে সস্ত্রীক থাকতেন তিনি। লর্ড ক্যানিংয়ে স্ত্রী শার্লট ছিলেন ডাক সাইটে সুন্দরী। খুব ভাল ছবি আঁকতেন তিনি। ক্যানিংয়ে নদীর পাড়ের এই ূবাড়িটি ছিল তাঁর ভীষণ পছন্দের। এখানকার পরিবেশ গ্রামবাংলার প্রকৃতিকে ভাল বেসে ফেলেছিলেন শার্লট। কিন্তু ম্যালেরিয়া মারা যান তিনি। তার পরে বেশিদিন বেঁচে ছিলেন না লর্ড ক্যানিংও। পোড়ো এই বাড়িটি স্থানীয়রা ভুতুরে বাড়ি বলেই জানেন। রাতের অন্ধকারে নাকি প্রায়ই দেখা যায় লর্ড ক্যানিং এবং তাঁর স্ত্রী শার্লটকে।
ক্যানিংয়ের মৃত্যুর পর এই বাড়িটিতে কেউ আর থাকতে পারেননি। এই বাড়ির এক কেয়ার টেকার নাকি একাধিকবার সেই দৃশ্য দেখেছিলেন। তারপরে আর তিনি এই বাড়িটিতে থাকতে পারেননি।

গ্রামবাসীরা কী বলেন

গ্রামবাসীরা কী বলেন

গ্রামবাসীদের মুখে ভুতুড়ে বাড়ির গল্প শোনা যায়। যদিও তারপরে আর কেউ তেমন ভাবে ভুতুড়ে কাণ্ড কারখানার সাক্ষী হননি। মোট ২৭টি ঘর ছিল বাড়িতে। এখন মাত্র ২টি ঘর ঠিক মত রয়েছে। বাকি পুরোটাই ধ্বংসাবশেষ। সংরক্ষণের কেউ ব্যবস্থাও করেনি। গাড়ি বারান্দার অনেকটা অংশ বেঙে গিয়েছে। এমনিতেই বাড়িটি দেখলে গা ছম ছম করবে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাড়িটি অধিগ্রহন করলেও তা সংরক্ষণ করার কোনও উদ্যোগ এখনও নেওয়া হয়নি। এখনও শতবর্ষের ইতিহাস নিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে এই ক্যানিং হাউস।

কীভাবে যাবেন

কীভাবে যাবেন

কলকাতা থেকে ক্যানিংয়ের দূরত্ব খুব বেশি নয়। ৫৫ কিলোমিটার মাত্র গাড়িতেও যাওয়া যায়। শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখা থেকে প্রতি ১ ঘণ্টা অন্তর ছাড়ে ক্যানিং লোকাল। সেই ট্রেনে চেপে পড়লেই হল। পৌঁছে যাবেন ক্যানিংয়ে। ক্যানিংয় স্টেশনে নেমে টোটোয় চেপে চলে আসা যায় মাতলা নদীর পাড়ে এই ক্যানিং হাউসে। নদীর পাড়ে চড়ুইভাতির সঙ্গে ভুতুড়ে বাংলো দেখা দুই হয়ে যাবে অনায়াসে। কয়েক ঘণ্টা সেখানে কাটিয়ে সন্ধের মধ্যে ফিরে যান বাড়িতে।

ছবি সৌ: সাদা কালো অজানার খোঁজে/ ইউটিউব

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+