যেতে হবে না মনিপুর, এবার কলকাতার কাছেই দেখে আসুন মনিপুরী রাজবাড়ির দোলযাত্রা
জানেন কি কলকাতার কাছেই রয়েছে মনিপুরী রাজবাড়ি। যার দোল যাত্রা একেবারে অন্যরকম
ফাগুন এলো বলে। আর মাত্র কয়েকটা দিন। তারপরেই শুরু হয়ে যাবে রঙের উৎসব। শোনা যায় মনিপুরের দোল যাত্রা নাকি খুব জমজমাট। একেবারে অন্যরকম। প্রতিবছর কেবল এই দোলযাত্রা দেখতে মনিপুরে যান দেশি-বিদেশী পর্যটকরা। কিন্তু সেই মণিপুরী দোলের ছোঁয়া মেলে বঙ্গেও। কলকাতার কাছেই রয়েছে মনিপুরী রাজবাড়ি। অনেকেই জানেন না তার সন্ধান। সেখানকার দোলযাত্রা একেবারেই অন্যরকম। একদিনের ছোট্ট ছুটিদে বেরিয়ে আসুন সেখানে।

আসছে রঙের উৎসব
উৎসব প্রিয় বাঙালি। একতই সঙ্গে আবার ভ্রমণ পিপাসু। বেড়ানোর সুযোগ পেলে ছাড়তে চায় না। তা সে যে অজুহাতই হোক না কেন। এক দিনের ছুটি পেলেই বাক্স গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়। দোল মানেই শান্তিনিকেতন পৌঁছে যান সকলে। এখন আর সেই সুযোগ হচ্ছে না। অনেকেই আবার মহিষাদল রাজবাড়িতেও দোলযাত্রা দেখতে যান। কিন্তু বঙ্গে বসেই মণিপুরী দোলযাত্রা দেখার সুযোগ হয়তো খুব কম জনেরই হয়েছে। অনেকেই জানেন না সেই জায়গার কথা। আবার অনেকে শুনলেও গিয়ে উঠতে পারেননি। এবার বেড়িয়ে পড়ুন সেই মণিপুরী দোলউৎসব দেখতে।

কোথায় আছে মণিপুরী রাজবাড়ি
কলকাতার কাছেই যে আস্ত একটা মণিপুর বলে জায়গা রয়েছে সেটা খুব বেশি জন জানেন না। কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার যাত্রা। গাড়ি, ট্রেন, বাস তিন ভাবেই যাওয়া যায়। বঙ্গের জনপ্রিয়তম সাধন ক্ষেত্র নবদ্বীপেই রয়েছে সেই ছোট্ট মণিপুর। আর সেখানেই রয়েছে মণিপুরী রাজবাড়ি। বৈষ্ণব ধর্মের সঙ্গে মণিপুরের যোগ রয়েছে গভীর। মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব নিজে মণিপুরে গিয়েছিলেন। সেই কারণেই মণিপুরীদের অধিকাংশই বৈষ্ণব। সেখানে রীতিমত শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা হয়ে থাকে।

মণিপুরী রাজবাড়ির নেপথ্যের ইতিহাস
শোনা যায় মণিপুরের রাজা ভাগ্যচন্দ্র শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর প্রতি আকৃষ্ণ হয়ে বৈষ্ণব ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। শেষ বয়সে রাজ্যপাট ছেড়ে নবদ্বীপে চলে এসেছিলেন তিনি। সঙ্গে এনেছিলেন নিজের পরিবার রানি রতনমঞ্জরী এবং পুত্র
মধুচন্দ্র ও কন্যা বিম্ববতীকে। বিম্ববতী ছিলেন শ্রীকৃষ্ণের পরম ভক্ত। তাঁকে মণিপুরী মীরাবাঈ বলা হতো। রাজা কাঁঠাল কাঠ দিয়ে গোবিন্দের মূর্তি তৈরি করেছিলেন। কিন্তু রাধারানির মূর্তি কেমন হবে তার নির্দেশ দেননি। শেষে রাজা নিজে তাঁর কন্যা বিম্ববতীকে শ্রীকৃষ্ণের মূর্তির পাশে দাঁড় করিয়ে দিয়ে বলেছিলেন এমন হবে রাধারানি। রাজকন্যা বিম্ববতীর আদলেই শিল্পী তৈরি করেছিলেন রাধারানির মূর্তি।

মণিপুরী দোলযাত্রা
নবদ্বীপের রাজা গিরীশচন্দ্র তখন মণিপুরী রাজকন্যাকে মন্দির তৈরির জন্য নবদ্বীপের তেঘড়ি মৌজাটি দান করেন। তারপর থেকে মণিপুরীদের বসবাস শুরু হয় নবদ্বীপের সেই মণিপুরে। এবং রাজকন্যা বিম্ববতীর জন্য একটি চৌমহলা রাজবাড়ি তৈরি করে দেন। তারপর থেকে এখানে মণিপুরীদের আনাগোনা বাড়ে। বসবাসের সংখ্যা বাড়ে। প্রতিবছরপ এখানে একেবারে মণিপুরী বেশে মণিপুরী নৃত্য এবং কীর্তণ শৈলীর মাধ্যমে দোলযাত্রা উদযাপন করা হয়। মহাসমারোহে উদযাপিত হয় দোলযাত্রা।
ছবি সৌ:ব্লু স্কাই ব্লোগ টিভি/ইউটিউব












Click it and Unblock the Notifications