শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজরিত মায়াপুরেই রয়েছে সেন রাজাদের তৈরি বল্লাল ঢিবি
শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর স্মৃতি বিজরিত মায়াপুরেই রয়েছে সেন রাজাদের তৈরি বল্লাল ঢিবি
সকলেই বেড়াতে যান মায়াপুরে। কিন্তু জানেন কি মায়াপুরের কাছেই রয়েছে সেন রাজাদের তৈরি বল্লাল ঢিবি। অনেকেই জানেন না সেকথা। সকলেই মায়াপুর দেখে বেরিয়ে চলে আসেন। কিন্তু তার কিছুদূরেই যে রয়েছে বাল্লালজের ঢিবি সেটা অনেকেই জানেন না। শীতের ছুটিতে অনায়াসে বেড়য়ে আসতে পারেন মায়াপুরের েই অফবিট জায়গা থেকে।

বল্লাল ঢিহি
মায়াপুর। সকলেই জানেন এই জায়গার কথা। নবদ্বীপ থেকে কিছু দূরেই রয়েছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর জায়গা মায়াপুর। মূলত ইস্কনের মন্দির দেখতেই মায়াপুরে ভিড় করেন সকলে। কিন্তি এই মায়াপুরেই যে বাংলার ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে সেকথা অনেকেই জানেন না। সেন রাজাদের তৈরি বল্লাল ঢিবি রয়েছে এই মায়াপুরে। টোটো করেই সেখানে পৌঁছে যাওয়া যায়। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এই জায়গাটি সংরক্ষণ করে রেখেছে। এই ঐতিহাসির নিদর্শন দেখতে কোনও টাকা লাগে না।

কী এই বল্লাল ঢিবি
মায়াপুর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরেই রয়েছে বামনপুর বলে একটি জায়গা। সেখানেই রয়েছে সেন রাজাদের তৈরি এই বল্লাল ঢিবি। ইটের সিঁডি বেয়ে উঠতে হয় সেই ঢিবির উপরে। তার প্রাচীরে রয়েছে একটি কুমীরের আদলে তৈরি মুখ। প্রাচীন আমলে জল নিকাশি ব্যবস্থা হিসেবে এই কুমীরের মুখ ব্যবহার করা হত। সেন রাজাদের তৈরি এই ঢিবি। সেই আমলে ১১৫৯ থেকে ১২০৬ খ্রীষ্টাব্দে নবদ্বীপ ছিল সেন রাজাদের রাজধানী। লক্ষ্মণ সেনের রাজধানী ছিল গৌড়। সেই গৌড় থেকে রাজধানী নবদ্বীপে সরিয়ে আনা হয়েছিল। সেই বংশের জনপ্রিয় রাজা বল্লাল সেন তৈরি করেছিলেন এই ঢিবিটি। অষ্টম এবং নবম শতাব্দীতে এটি তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা।

মায়াপুর
বছরের শেষ দিনে বা বছরের শুরুর দিনে মায়াপুর সফর অনেকেই করে থাকেন। অনেকেই ইস্কনের মন্দির দেখতে যান। এখন আবার নতুন একটি মন্দির তৈরি হয়েছে। সেই মন্দিরের আকর্ষণেই ভক্ত এবং দর্শকরা সেখানে যান। সেখানেই খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। যদিও সবটাই নিরামিষ পাওয়া যায় মায়াপুরে। কাজেই সকালে মায়াপুরে খাওয়াদাওয়া করে বেড়িয়ে আসুন বল্লাল ঢিবি বা বল্লাল সেনের ঢিবি থেকে। বাংলা প্রত্নতাত্ত্বিক নিরর্শন।

কীভাবে যাবেন
মাসে বা গাড়িতে পৌঁছে যাওয়া যায় মায়াপুর। সেখানে থেকে টোটো ভাড়া করেই বল্লাল ঢিবি বা বল্লাল সেনের ঢিবি বেড়িয়ে আসা যায়। এক সঙ্গেই দুটি জায়গা দেখা হয়ে যেতে পারে। সকাল ১০টার মধ্যে মায়াপুর পৌঁছে গেলে, দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে বেড়িয়ে পডুন টোটো নিয়ে বা গাড়ি নিয়ে বল্লাল িঢবি দেখতে। বিকেল হওয়ার আগেই আবার মায়াপুরে ফিরে আসতে পারবেন।
ছবি সৌ:ইউটিউব












Click it and Unblock the Notifications