সপ্তাহের শেষে নিরিবিলিতে থাকতে মন চাইছে, চলে আসুন কলকাতার কাছেই চুপির চরে
কলকাতার কাছেই রয়েছে নিরিবিলিতে কাটিয়ে আসার একটি জায়গা
অফিস-বাড়ি-স্কুল কলেজ সারাদিন ছুটোছুটি করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কটাদিন একটু নিরিবিলিতে কাটিয়ে আসতে ইচ্ছে করছে। কলকাতার কাছেই রয়েছে এমন এক শান্ত নিরিবিলি জায়গা যেথানে শুধু শোনা যায় পাখিদের কলতান। চুপির চর। ট্রেনে বাসে অনায়াতে একদিনে বেড়িয়ে আসা যায়। আবার থাকার জায়গাও রয়েছে সেখানে।

নিরিবিলিতে বেড়ানোর জায়গা
কলকাতার শহুরে জীবনে অনেকেই হাঁপিয়ে ওঠেন। মাঝে মধ্যেই ইচ্ছে করে কাছাকাছি কোনও জায়গায় বেড়িয়ে আসতে। অফিসে ছুটি নেই তাই সপ্তাহ শেষের ছুটিতেই বেড়িয়ে আসা যায় এমন জায়গা অনেকেই খুঁজে বেড়ান। কলকাতার কাছেই রয়েছে একেবারে নিরিবিলি এমনই একটা জায়গা। যেখানে পর্যটকদেরও খুব বেশি আনাগোনা নেই। সেই জায়গাটির নাম চুপির চর। কলকাতা থেকে বেশি দূরে নয় সেটি। একদিনেই ঘুরে আসা যায় আবার সপ্তাহান্তে বেড়ানোর আদর্শ জায়গা বললে ভুল হবে না।

চুপুর চর
পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীতে রয়েছে চুপির চর। নবদ্বীপ পেরিয়ে যেতে হয় এখানে। অবশ্যই রেলপথে গেলে। পূর্বস্থলী রেলস্টেশনটি ভরী সুন্দর। চারিদিকে গাছগাছালিতে ভরা। চুপির চরের বিশেষত্ব পাখির জন্য। এই চুপির চরকে বলা হয় পূর্বস্থলীর পখিরালয় বা বার্ড স্যাঞ্চুয়ারি। অসংখ্য পাকি ভিড় করে এই চুপির চড়ে। একটা সময়ে নাকি এই জায়গাটি দিয়ে নদী বয়ে যেত। কিন্তু সেটি দিক পরিবর্তন করায় এখানে একটা সরু জলের ধারা তৈরি হয়েছে। আর সেখানেই পরিযায়ী অসংখ্য পাখি এসে জড়ো হয়। অক্টোবর মাস থেকে ভিড় করতে শুরু করে বিদেশী পাখিরা। মার্চ মাস পর্যন্ত এখানে অসংখ্য পাখির আনাগোনা দেখা যায়।

নৌকা ভ্রমণ
চুপির চড়ের আসল মাধুর্য হল নৌকা বিহার। এখানে নৌকা করে পাখি দেখাতে নিয়ে যান মাঝি ভাইয়েরা। ১৫০ টাকা ভাড়া লাগে। ঘণ্টা খানের এই চুপির চরে তারা ঘুরিয়ে আনেন অসংখ্য পাখি। তাঁরাই বলে দেন সব নাম। এই চুপির চরে নৌকা বিহার করতে করতে দেখতে পাবেন মায়াপুরের একটা দিক। কারণ চুপির চরের কাছেই রয়েছে মায়াপুর-নবদ্বীপধাম। ঘণ্টা খানের নৌকা বিহারেই সময় কেেট যাবে।

থাকার জায়গা
এখানে থাকার জায়গাও রয়েছে। তবে তার সংখ্যা খুবই কম। গোটা ১-তিন রেস্ট হাউস রয়েছে। আগে থেকে বুক করে আসতে হয়। ট্রেনে অথবা গাড়িতে আসা যায়। কাটোয়া লোকালে চড়ে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাওয়া যায় পূর্বস্থলী চুপির চরে। স্টেশন থেকে টোটো করে আসা যায় এই চুপির চরে। কাজেই সুলভে বেড়ানোর একটা আদর্শ জায়গা বললে ভুল হবে না।












Click it and Unblock the Notifications