ছবির পাহাড়, রহস্যে ঘেরা এই জায়গা রয়েছে রাজ্যের কাছেই
ছবিমুড়া। বা ছবির পাহাড়। যে পাহাড়ের গা জুড়ে রয়েছে একাধিক দেবদেবীর পাহাড়। ঊনকোটির কাছেই রয়েছে ত্রিপুরার এই রহস্যে ঘেরা জায়গা এই ছবিমুড়া। ত্রিপুরার অমরপুরে রয়েছে এই পাহাড়। গোমতী নদীর তীর জুড়ে রয়েছে এই পাহাড়ি জায়গা।
ছবি আঁকা পাহাড়। পাহাড়ের মধ্যে খোদাই করে রাখা হয়েছে হিন্দু-দেবদেবীর মূর্তি। ত্রিপুরার ঊনকোটিতেও এমন পাথরের দেবদেবীর মূর্তি রয়েছে। সেখানে ৯৯ লক্ষ ৯৯৯ হাজার ৯৯৯ টি দেবদেবীর মূর্তি পাথকে খোদাই করে তৈরি করা হয়েছে। ঊনাকোটিতে মূলত শিবের পুজো হয়ে থাকে। এই জায়গা ঘিরে অনেক পৌরানিক কাহিনী রয়েছে। ছবি মুড়াও এমনমই রহস্যে ঘেরা একটি জায়গা। যার পাহাড় জুড়ে খোদাই করা হয়েছে দেবী মূর্তি।

গোমতী নদীর তীরে রয়েছে এই ছবিমুড়া। পাহাড়ের গায়ে খোদাই করা রয়েছে মহিষাসুরমর্দিনীর মূর্তি। দেবি চাকমারা নামে পরিচিত এখানে। গোমতী নদীর বুকে নোকাবিহারে দেখে নেওয়া যায় এই ছবিমুড়া পাহাড়ের বিভিন্ন মূর্তি। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার জুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে এই ছবিমুড়া। চারটি পাহাড়ের পাথর খোদাই করে মূর্তিগুলি তৈরি করা হয়েছে। শিব-বিষ্ণু, কার্তিক-গণেশ, শক্তি দেবী এবং তাদের বাহনের মূর্তি পাথকের গায়ে খোদাই করা হয়েছে।

এই পাহাড়ের গায়ে ৩৭টি বাদ্যকারের মূর্তি তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিয়ে এই মূর্তি তৈরি করা হয়েছে। দেবী দুর্গার ১৩ ফুট লম্বা মূর্তি রয়েছে পাথরে খোদাই করা। ডমরু হাতে দেখা যাবে শিব ঠাকুরের মূর্তি। সেই সঙ্গে মহিষাসুর, দেবী দুর্গার বাহন সিংহ থেকে শুরু করে সবটাই দেখা যাবে সেখানে। ৯০টি সিঁড়ি রযেছে এই পাহাড়ে।

এই ছবিমুড়া পাহাড়ে রয়েছে আরও এক রহস্যে। এখানে নাকি গুপ্তধন লোকানো রয়েছে। রাজা চিচিঙ্গাফা তাঁর সব গুপ্তধন নাকি কাঠের রথে করে এই পাহা়ড়ের মধ্যে কোনও একটা জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিলেন। সেই গুপ্তধন নাকি রক্ষা করে চলেছে বিশালাকায় এক অজগর। সেকারণে এই গুহার একেবারে ভেতরে কেউ যেতে চান না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন কয়েকজন সেই গুপ্তধনের লোভে গুহার গভীরে ঢোকার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তাঁরা ঢুকতে পারেননি।

এই ছবিমুড়াকে ঘিরে রয়েছে আরও এক কাহিনী। সেই কাহিনী রাজকুমারী হীরাবতীকে নিয়ে। রাজা চিচিংগফার মেয়ে হীরাবতী। এক সাদা হাতি নাকি তাঁকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিল। রাজকন্যেকে উদ্ধার করতে ছুটেছিল তাঁর দুই রাজপুত্র রঙ্গিয়া এবং ফতে। তীর্থমুখে সেই সাদা হাতির সঙ্গে ধুন্ধুমার লড়াই বাঁধে তাঁদের। রাজা খুশি হয়ে হীরাবতীর সঙ্গে ফতেহর বিয়ে দিয়ে দেন। রাজা সেই দুই ভাইকে পাহাড়ের গুহায় গুপ্তধন লুকিয়ে রাখার কথা বলেছিল এবং জানিয়েছিল সন্ধে হওয়ার আগে যেন তাঁরা ফিরে আসে। নাহলে দেবীর রোষে পড়তে হবে। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত অন্ধকার নামার আগেই ছবিমুড়া পাহাড় খালি করে দেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications