প্রাচীন দুর্গকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তরবঙ্গের এই জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের কেন টানে
প্রাচীন দুর্গকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তরবঙ্গের এই জাতীয় উদ্যান পর্যটকদের কেন টানে
করোনা ভাইরাসের জেরে থমকে থাকা পর্যটন শিল্প ধীরে ধীরে সচল হওয়ার মুখে। তারই অন্যতম অংশ হিসেবে উত্তরবঙ্গ তথা পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠা বক্সা জাতীয় উদ্যানে ভিড় বাড়বে আগের মতোই। সবুজ পাহাড়ের কোলে জঙ্গল ও নদীতে ঘেরা এই স্থানে প্রকৃতির বুকে বাঘ সহ নানা প্রজাতির পশু ও পাখির আনাগোনা। যা পর্যটকদের মুখ্য আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তাই এই স্থানকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাস
২৬০০ বর্গফুটের বক্সা দুর্গকে বেষ্টন করে গড়ে উঠেছিল এই জাতীয় উদ্যান। ১৯৮৩ সালে এখানে বাঘ সংরক্ষণ করা শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে জঙ্গলের ৩১৪.৫২ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। পাঁচ বছর পর আরও ৫৪.৪৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রকল্পে অন্তর্ভূক্ত হয়। আরও এক বছর পর বক্সা অভয়ারণ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় ১১৭.১০ বর্গকিলোমিটার এলাকা। ১৯৯৭ সালে বক্সাকে জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। সেই গর্ব বুকে নিয়ে আজও পর্যটকদের অবাক করে চলেছে এই স্থান।

অবস্থান
বক্সা জাতীয় উদ্যান পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার গর্ব। এই স্থানের উত্তরে রয়েছে ভারত ও ভূটানের আন্তর্জাতিক সীমানা এবং সিঞ্চুলা পর্বতমালা। পূর্বে রয়েছে বাংলা ও অসমের সংযোগসীমা। বক্সা জাতীয় উদ্যানের দক্ষিণে রয়েছে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক। দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের চিলাপাতা বনাঞ্চল ও জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের মধ্যবর্তী স্থানে বন্য হাতির করিডর হিসেবে চিহ্নিত ঐতিহ্যের বক্সা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৫২ থেকে ১৭৫৫ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত এই বনাঞ্চলের আয়তন ৭৬০ বর্গ কিলোমিটার। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহমান পানা, ডিমা, রায়ডাক, বালা, গাবুর বাসরা, সংকোশ নদী।

যাত্রাপথ
কলকাতা থেকে ট্রেন কিংবা প্রাইভেট গাড়িতে আলিপুরদুয়ার কিংবা নিউ আলিপুরদুয়ারে পৌঁছতে হবে। সেখান থেকে সড়কপথে পৌঁছে যাওয়া যায় বক্সা জাতীয় উদ্যান। অনেকে বাসে সওয়ার হয়ে কলকাতা থেকে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

সাফারির মজা আলাদা
নিকটস্থ রাজাভাতখাওয়া কিংবা জয়ন্তী বন দফতরের অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে জিপে বক্সা জাতীয় উদ্যানের অনেকটা ভেতরে প্রবেশ করা যায়। কপাল ভাল থাকলে ঘন জঙ্গলে দেখা মেলে বাঘ, হাতি সহ অন্যান্য বন্য প্রাণীদের। নিরিবিলি গা ছমছমে পরিবেশ বহন করে চলেছে সৌন্দর্য্যের ঐতিহ্য। বন্য হাতির ডাক, সাপের ফোঁসফাঁস শুনে মন বলবে এ কোথায় এলাম।

বন্য রাস্তায় ট্রেকিং
সাঁওতালবাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত বক্সা জাতীয় উদ্যানে পৌঁছনো যায় পায়ে হেঁটে। অন্যদিকে রোভার্স পয়েন্ট ও ভূটানের রূপাম ভ্যালি থেকে ট্রেক করে বক্সায় পৌঁছতে যথাক্রমে ৪ ও ১৪ কিলোমিটার রাস্তা পেরোতে হয়। বক্সা থেকে হাঁটা পথে জয়ন্তীর দূরত্ব ১৩ কিলোমিটার। এই রাস্তা এতটাই নিশ্চুপ ও গহীন যে দলছুট হতে মন চাইবে না। বন্য জন্তুদের মুখোমুখি হলে তো আর কথাই নেই।

কী দেখবেন
১) এই জাতীয় উদ্যানে ৩০০টিরও বেশি প্রজাতির গাছ, ২৫০টি প্রজাতির গুল্ম, ৪০০টি প্রজাতির ওষধি, ৯টি প্রজাতির বেত, ১০টি প্রজাতির বাঁশ, ১৫০টি প্রজাতির অর্কিড, ১০০টি প্রজাতির ঘাস, ১৩০টি প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ দেখা যায়। যারস শোভা মনোরম।
২) বক্সা জাতীয় উদ্যানে এশীয় হাতি, বাঘ, গউর, বুনো শুয়োর, সম্বর হরিণের দেখা মেলে। ২৮৪টি প্রজাতির পাখি, ৭৩টি প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ৭৬টি প্রজাতির সাপ ও ৫টি প্রজাতির উভচর প্রাণী এই স্থানের আকর্ষণ বাড়িয়েছে। ২০০৬ সালের একটি সমীক্ষা থেকে জানা গিয়েছে যে, উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ সংখ্যক মাছের প্রজাতী বক্সা জাতীয় উদ্যানেই দেখা যায়। ভালুক, সিভেট, দৈত্যাকার কাঠবিড়ালী, চিতল, ক্লাউডেড চিতাবাঘ, বুনো মোষ, পাইথন ও অ্যান্টিলোপও এখানকার গৌরব বৃদ্ধি করে চলেছে।
ছবি সৌ:ইউটিউব












Click it and Unblock the Notifications