Bonedi Barir Durga Puja: এখানে আদিবাসী মায়ের হাতেই পূজিত হন দেবী, ছুটি কাটাতে চলে আসুন বাঁকুড়ার এই গ্রামে
আকাশে পেঁজা তুলো মেঘ। ঘাসের আগায় শিশির বিন্দু, বাতাসে শিউলি ফুলের গন্ধ। আর সেই বাতাসে দোলা খাওয়া শ্বেতশুভ্র কাশ ফুল জানান দিচ্ছে পূজো আসছে। এমনই এক মন ভালো করা মুহূর্তে এক ব্যক্তিক্রমী পূজোর সন্ধান দেবো আপনাদের।
বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম ন'নম্বর রাজ্য সড়কের উপর সিমলাপালের বিক্রমপুর মোড় থেকে আমলাশুলী গামী রাস্তা ধরে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার গেলেই সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় দুবরাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ছোট্ট গ্রাম শুকনাখালি। এই গ্রামেই এক আদিবাসী মায়ের হাতে পূজিতা হন দেবী দুর্গা। এই পূজোয় ব্রাহ্মণ্যবাদের কোন ভূমিকা নেই, আলাদা করে কোন পূরোহিত নেই, নেই বৈদ্যিক মন্ত্রোচ্চারণের সুযোগ। বেহুলা সিং সর্দার নামে এক আদিবাসী মহিলাই এখানে পুরোহিতের ভূমিকায়।

কিন্তু কিভাবে এই পূজোর সূচণা? সিং সর্দার পরিবার সূত্রে খবর, বছর তিরিশেক আগে জীবিকার সন্ধানে রানীবাঁধের বেলগেড়িয়া গ্রাম থেকে সিমলাপালের শুকনাখালি গ্রামে আসেন তাঁরা। পরে আজ থেকে বছর সাতাল আগে দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশ পেয়ে বেহুলা সিং সর্দার নিজেই পূজো শুরু করেন। নিত্য পূজার পাশাপাশি দুর্গোৎসবের চারটি দিন বিশেষ পুজা পাঠ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
পুজারি বেহুলা সিং সর্দারের দাবি, একাধিক স্বপ্নাদেশ ও গভীর জঙ্গলে কাঠ কুড়োতে গিয়ে এক বৃদ্ধার ছদ্মবেশ ধারণ করে দেবী দুর্গা তাঁকে দেখা দেন। তাঁর নির্দেশেই পূজা শুরু। একেবারে প্রথম দিকে সিংহবাহিনী অসূর দলনী দেবী দুর্গার পূজো হলেও পরবর্ত্তী সময়ে দৈব নির্দেশেই মহিষাসুর ছাড়াই শিব, দুর্গা ও তাঁদের চার ছেলে মেয়ের মূর্তি তৈরি করে পুজো হয়ে আসছে। তবে তিনি মন্ত্র-তন্ত্র না জানলেও মায়ের কাছে সকলের মঙ্গল কামনা করেই পুজো করেন বলে জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications