Bonedi Barir Durga Puja: মায়ের সন্ধিপুজোয় দেওয়া হয় ১০৮টি অপরাজিতা ফুল, দেখে আসুন কলকাতার এই বনেদি বাড়ির পুজো
২১০ বছর আগে শুরু হয়েছিল মিত্র বাড়ির দুর্গাপুজো। কলকাতার বনেদিবাড়ির পুজোগুলির মধ্যে একটা এটি। মুর্শিদাবাদের নবাব সিরাজ উদ দৌলাকে রত্ন বিক্রি করাই ছিল এই পরিবারের আদি পেশা। যদিও দুর্গাচরণ মিত্রের আরও অনেক ব্যবসাই ছিল। তবে এই ব্যবসার সুবাদেই ধনে মানে বেশ ফুলে ফেঁপে উঠেছিলেন তিনি।
তাঁর ভাইপো নীলমণি মিত্রের হাত ধরে ব্যবসা আরও সমৃদ্ধি পায়। তাঁর নামেই কলকাতার এই রাস্তার নাম হয়েছিল নীলমণি মিত্র স্ট্রিট। সেই নীলমণি মিত্রের নাতি রাধাকৃষ্ণ মিত্রের হাত ধরেই প্রথম এই বাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল। তবে এই বাড়িতে পঞ্চম বংশধর কোনও ছেলে ছিল না। তখন বাড়ির মেয়েরাই পুজোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। তখন থেকে এই বাড়ির মেয়েরাই এই পুজো চালিয়ে আসছেন।

দর্জিপাড়ার মিত্রবাড়ির মায়ের প্রতিমাও একচালার হয়। তবে মায়ের বাহন সাদা রঙের এবং মুখ ঘোড়ার মতো। সব মূর্তির ডাকের সাজের হয়। কেবল কার্তিক-গণেশের পরণে থাকে কোঁচানো ধুতি। এই বাড়ির পুজোর আরেকটি বিশেষত্ব হল ১০৮টি পদ্মের পরিবর্তে ১০৮টি অপরাজিতা ফুল দেওয়া হয়। মাকে অন্নভোগ দেওয়া হয়না। কেবল নৈবেদ্য দেওয়া হয়।
এবং ভোগ হিসেবে যা দেওয়া হয় সেটা সূর্যের তাপে হতে হবে। সোনা মুগডালে ঘি মাখিয়ে রোদে শুকোতে দেওয়া হয়। রোদের তাপে ডাল লাল গয়ে গেলে সেই ডাল চালের উপরে রেখে নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয়। কাঁচা সবজিতে হলুদ মাখিয়ে সেটা সাজিয়ে দেওয়া হয়। কলার পরিবর্তে নৈবেদ্যতে দেওয়া হয় পাঁপড়। নানা রকমের পান মশলাও দেওয়া হয়।
সপ্তমী থেকে শুরু হয় কুমারী পুজো। অষ্টমী এবং নবমীতেও হয় কুমারী পুজো। পরিবারের রীতি মেনে দশমীর দিন বাড়ির ছেলেরা ধুতি পরে লাঠি হাতে খালি পায়ে দেবীকে কাঁধে নিয়ে বিসর্জন দিতে যান। এখানে পুজো দেখতে আসতে হলে চলে আসুন ১৯ সি নীলমণি মিত্র স্ট্রিটে।












Click it and Unblock the Notifications