আলো-আধারির মায়াবী খেলায় আজও অকৃত্রিম শৈল শহর দার্জিলিং
আলো-আধারির মায়াবী খেলায় আজও অকৃত্রিম দার্জিলিং
এই আলো, এই মেঘ, তো এই নামল বৃষ্টি। শনশনে হওয়ার কনকনে ঠান্ডায় এখনও আগের মতোই মায়াবী শৈল শহর দার্জিলিং। পাহাড়ের গায়ে পাইন-ফারের সাম্রাজ্য। তারই বুকভেদী সাদা-কালো মেঘ যখন সবুজে মেশে, তার রূপে মোহিত না হয়ে উপায় বা কী।
কথায় বলে 'একা না বোকা'। শৈল্যরানী দার্জিলিং-এর সৌন্দর্য্য উপলব্ধি করতে দল বাঁধতেই হবে। ভেসে যেতে হবে আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে। আর্দ্র গন্ধ গায়ে মেখে দেখে নেওয়া দার্জিলিং-র রূপ।

হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট
দার্জিলিং-এর গর্ব হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট একাধারে পর্বতারোহীদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও মিউজিয়াম। পর্বতারোহীদের প্রশিক্ষণের সবরকম সুযোগ-সুবিধা আছে এখানে। যা বেশ দৃষ্টিনন্দন ও রোমাঞ্চক।

বাতাসিয়া লুপ
দার্জিলিং শহর থেকে টাইগার হিল যাওয়ার পথে পড়ে এই অপরূপ স্থান। এই স্থানেই টয় ট্রেন ৩৬০ ডিগ্রি ঘুরে ঘুম স্টেশনের দিকে অগ্রসর হয়। ট্রেন না আসা পর্যন্ত এই স্থানে বসে হরেক মালের বাজার। রেল লাইন জুড়ে সাজানো থাকে পসরা। ট্রেন আসার ঠিক আগে সরিয়ে নেওয়া হয় দোকান। ট্রেন চলে গেলে ফের শুরু হয় বিকিকিনি। বাতাসিয়া লুপের অপরূপ এই বাজার বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণ। বহু সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে এই স্থানে।

টাইগার হিল
দার্জিলিং শহর থেকে কিছুটা দূরে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত টাইগার হিল পয়েন্টে পৌঁছতে কাকভোরে বেরোনো আবশ্যক। কারণ এই স্থান থেকে আঁধারভেদী সূর্যোদয় ও কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় অবিকল। সেই শোভা অবর্ণনীয়।

দার্জিলিং ম্যাল
দার্জিলিং শহরের সবচেয়ে উঁচু স্থানের নাম মল চূড়া। এই স্থানকে ঘিরে তৈরি হওয়া ব্যবসায়ীক স্থান সুদৃশ্য। সুদীর্ঘ ও ঐতিহ্যমণ্ডিত দার্জিলিং ম্যাল ঘুরতে ঘোড়ায় সওয়ার হওয়া যায়। এখান থেকে পাবর্ত্য শোভা দেখতে লাগে বেশ। ইচ্ছে করলেই পরে নেওয়া যায় পাহাড়ি পোশাকও। সেই স্থান থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে জাপানিজ প্যাগোডা দেখতে যাওয়ার পথে উজ্জ্বল ও হলুদ বর্ণের আভা আর্ট গ্যালারি পর্যটকদের চোখ টানে।

পদ্মজা নায়ডু জুলজিক্যাল পার্ক
দার্জিলিং ম্যাল থেকে কিছুটা দূরেই অবস্থিত পদ্মজা নায়ডু জুলজিক্যাল পার্ক বা চিড়িয়াখানায় রেড পান্ডা, স্নো লেপার্ড,তিব্বতি নেকড়ে সহ পূর্ব হিমালয়ের বহু বিলুপ্ত প্রাণির দেখা মেলে। এই স্থান পর্যটকদের বিশেষ পছন্দের।

বোটানিক্যাল গার্ডেন
দার্জিলিং-র লাওডস বোটানিক্যাল গার্ডেনে অর্কিড, রডোডেনড্রন, ম্যাগনোলিয়া, প্রিমুলা, ফার্ন সহ নানা প্রজাতির গাছ ও গুল্ম দেখতে পাওয়া যায়। এর সৌন্দর্য্য অতুলনীয়।

লেবং রেস কোর্স
দার্জিলিং-র এই রেস কোর্স বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ও সর্বোচ্চ রেস কোর্স। যদিও বর্তমানে সেই স্থান ভারতীয় সেনার আবাসস্থলে পরিণত।
(শেষ কিস্তি)












Click it and Unblock the Notifications