তৃণমূলের নতুন লড়াই শুরুর অপেক্ষা, নতুন কার্যালয় গিয়ে কি কৌশল-বদল ত্রিপুরায়
ত্রিপুরার লড়াই থেকে পিছু হটছে না তৃণমূল। নতুন অফিস করে নতুন উদ্যমে ফের ২০২৩-এর লড়াই শুরু করতে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। উপনির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়লেও ত্রিপুরা নিয়ে লক্ষ্য স্থির রেখেছেন অভিষেকরা।
ত্রিপুরার লড়াই থেকে পিছু হটছে না তৃণমূল। নতুন অফিস করে নতুন উদ্যমে ফের ২০২৩-এর লড়াই শুরু করতে চলেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। উপনির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়লেও ত্রিপুরা নিয়ে লক্ষ্য স্থির রেখেছেন অভিষেকরা। তাই সোমবারই নতুন দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করে ঝাঁপিয়ে পড়তে চলেছে ত্রিপুরা বিজয়ের পরিকল্পনায়।

তৃণমূল কি স্ট্র্যাটেজি বদলাবে ত্রিপুরায়
ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের আর মাত্র মাস সাতেক বাকি। ২০২৩-এর ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে ত্রিপুরায়। এবার ত্রিপুরায় বিজেপি-রাজের অবসান ঘটানোই তৃণমূলের উদ্দেশ্য। সেই উদ্দেশ্যসাধনে তাঁরা তাঁদের লড়াই এবার কোন আঙ্গিকে শুরু করে, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। কেননা উপনির্বাচনে ধাক্কা খাওয়ার পর তৃণমূল স্ট্র্যাটেজি বদলায়, নাকি একইভাবে চলে, তা-ই দেখার।

ত্রিপুরায় এগিয়েও হঠাৎ পদস্খলন তৃণমূলের
বাংলায় বিজেপিকে পর্যুদস্ত করার পর ত্রিপুরাকে টার্গেট করেছিল তৃণমূল। সেইমতো ত্রিপুরার ইউনিটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নামেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। বিজেপির বাধা সত্ত্বেও তৃণমূল তরতরিয়ে এগিয়ে চলছিল। কংগ্রেসকে ভেঙে শক্তিশালী হয়ে উঠছিল। বিগত পুর নির্বাচনেও তৃণমূল ভালো ফল করেছিল। পুর নির্বাচনে নেমেই ২০ শতাংশ ভোট অর্জন করা মুখের কথা ছিল না।

সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের ফলে ধাক্কা তৃণমূলের
কিন্তু উপনির্বাচনে চতু্র্মুখী লড়াইয়ে তৃণমূল পিছু হটে। ২০ থেকে ২ শতাংশে নেমে যায় তৃণমূলের ভোট। তৃণমূল চার দলের লড়াইয়ে চতুর্থস্থান পায়। কংগ্রেস ফের কামব্যাক করে চার কেন্দ্রের উপনির্বাচনে। একটি আসনে জয়ী হয় তারা। একটিতে দ্বিতীয় স্থান পায়। অন্য একটি আসনে টিপ্রা দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। এই আসনে কংগ্রেস সমর্থন করেছিল টিপ্রাকে। আর সিপিএম একটিতে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে।

বিজেপির চ্যালেঞ্জার হওয়ার স্বপ্নে ধাক্কা
কিন্তু তৃণমূল কোনও আসনে লড়াইয়েই আসতে পারেননি। সবথেকে উদ্বেগের, যে আগরতলায় পুরসভা নির্বাচনে ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল, সেখানে কী করে ২ শতাংশ নেমে গেলেন তৃণমূল প্রার্থী। তবে কি যে কংগ্রেসকে ভেঙে তাঁরা ত্রিপুরায় বিজেপির চ্যালেঞ্জার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল, তাঁরা ফিরে গিয়েছেন কংগ্রেসে। যার ফলে তৃণমূলের ভোট ব্যাঙ্ক ফের শূন্যে নেমেছে!

ত্রিপুরায় দলীয় কার্যালয় তৈরি নবোদ্যমে
এই পরিস্থিতিতেও পিছু হাটতে নারাজ তৃণমূল। তাঁরা ত্রিপুরায় দলীয় কার্যালয় তৈরি করে নবোদ্যমে নামতে চলেছে ত্রিপুয়া-যুদ্ধে। সোমবার তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের উদ্বোধন করবেন বাংলার মন্ত্রী মলয় ঘটক ও বঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি সায়নী ঘোষ। তৃণমূল কংগ্রেস এবার ত্রিপুরায় ঘাঁটি গেড়ে নতুন লড়াইয়ে নামতে চলেছে।

পাকাপাকি একটা অফিসের ব্যবস্থা হয়েছে
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্বোধন করার কথা থাকলেও তিনি ২১শে জুলাই নিয়ে ব্যস্ত থাকায় আপাতত মলয়-সায়নী উদ্বোধন করবেন। এতদিন হোটেলে থেকে দল পরিচালনা করছিলেন তৃণমূল নেতারা। তারপর প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা সুবল ভৌমিকের বাড়িতে অস্থায়ী ক্যাম্প করে চলছিল অফিস। এতদিনে পাকাপাকি একটা অফিসের ব্যবস্থা হতে চলেছে।

সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করবে তৃণমূল
ত্রিপুরার সংগঠন ঢেলে সাজানোর তোড়জোড় শুরু করেছে তৃণমূল। জেলা ধরে ধরে বৈঠক করে তাঁরা এগোচ্ছেন। কিন্তু হাতে সময় খুব কম। মাত্র ৬-৭ মাস সময়ের মধ্যে তৃণমূল কতটা প্রতাপশালী হয়ে উঠতে পারে বিজেপির বিরুদ্ধে সেটা যেমন প্রশ্ন, তেমনই প্রশ্ন এই স্বল্প সময়ের মধ্যে কোনও নতুন সমীকরণ তৈরি হয় কি না। নতুন অফিস উদ্বোধনের পর সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু করবে তৃণমূল।












Click it and Unblock the Notifications