বিজেপির চ্যালেঞ্জার হয়ে ওঠার লড়াই কংগ্রেস বনাম তৃণমূলের, পিকের টিমের সওয়ালে জল্পনা
বিজেপির চ্যালেঞ্জার হয়ে ওঠার লড়াই কংগ্রেস বনাম তৃণমূলের, পিকের টিমের সওয়ালে জল্পনা
কংগ্রেস বা তৃণমূল- উউয়েরই এক লক্ষ্য, বিজেপিকে হারানো। কিন্তু বিজেপিকে হারানোর লক্ষ্যে নেমে হঠাৎই উভয় দলের সমঝোতা উধাও। একে অপরের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছে তারা। যেন বিজেপির চ্যালেঞ্জার হয়ে ওঠার লড়াই চলছে তাদের মধ্যে। কংগ্রেসকে ভেঙে তৃণমূল চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠতে গিয়ে আদতে বিজেপিকে আরও মজবুত জায়গায় দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের অভিযোগ অনেক বেশি যুক্তিপূর্ণ
২০২২-এর ফেব্রুয়ারিতে গোয়া বিধানসভা নির্বাচন। সাকুল্যে আর চার মাসও বাকি নেই ভোটের। তৃণমূল এখন গোয়ায় সংগঠন গড়ে সব আসনে লড়ার পরিকল্পনা করেছে। তাঁদের এই পরিকল্পনার সময় নির্বাচনেই স্পষ্ট বিজেপিকে হারিয়ে সরকার গঠন তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। কংগ্রেসের অভিযোগ সেখানে অনেক বেশি যুক্তিপূর্ণ যে, বিজেপির সরকারকে আরও মজবুত করা এবং বিজেপির জয় সুনিশ্চিত করাই তৃণমূলের লক্ষ্য।

তৃণমূলের পরিকল্পনা বিজেপিকেই সুবিধা করে দেবে : কংগ্রেস
কংগ্রেসের কথায়, তৃণমূল যদি বিজেপির প্রকৃত চ্যালেঞ্জার হয়ে ওঠার চেষ্টা করত, তবে অন্তত দু-তিন বছর আগে সংগঠন বাড়ানোর উদ্যোগ নিত। ভোটের তিন-চার মাস আগে তাঁরা গোয়ায় গিয়ে বিজেপি বিরোধী প্রধান দল কংগ্রেসকে ভাঙাতে যেত না। বিজেপির প্রতি গোয়ার মানুষ তিতিবিরক্ত। এই অবস্থায় তৃণমূলের পরিকল্পনা বিজেপিকেই সুবিধা করে দেবে।

প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন আই প্যাকের বিবৃতিতে জল্পনা
আর তৃণমূলের উদ্দেশ্যে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। প্রশান্ত কিশোরের নেতৃত্বাধীন আই প্যাক এক বিবৃতিতে মঙ্গলবার জানিয়েছিল, দলে দলে কংগ্রেস কর্মীরা এবং কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন পদাধিকারী নেতা যেভাবে গোয়া তৃণমূলে যোগদান করেছেন এবং তাঁদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এটি নিশ্চিত হয়েছে যে গোয়া প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ছে। গোয়া কংগ্রেসের সভাপতি গিরিশ চোদনকর এবং এআইসিসি-র সিনিয়র নির্বাচন পর্যবেক্ষক পি চিদম্বরমের কংগ্রেসকে অক্সিজেন দিতে পারছেন না। ফলে গোয়া এখন 'নতুন ভোরে'র দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী নির্বাচনে তৃণমূলই হয়ে উঠবে গোয়ার শাসকদল বিজেপির মুখ্য চ্যালেঞ্জার।

বিজেপির জয়ের পথ মসৃণ করতেই খেলা চালাচ্ছে তৃণমূল
প্রশান্ত কিশোরের টিমের ওই বিবৃতি কংগ্রেসের অভিযোগকই মান্যতা দিচ্ছে। গোয়ায় কংগ্রেসকে সরিয়ে রাতারাতি তৃণমূল বিজেপির মূল চ্যালেঞ্জার হওয়ার চেষ্টা করলে বিরোধী ভোট ভাগ হবেই। তাহলেই বিজেপির কেল্লাফতে। বিজেপি এটাই চায়, তাঁদের বিরোধী ভোটব্যাঙ্ক যাতে ভাগ হয়ে যায়। তাহলে বিজেপির জয়ের পথ মসৃণ হয়ে যাবে।

বিজেপি পরিকল্পনার অংশ হল আপ ও তৃণমূল, অভিযোগ
ঠিক এই অভিযোগটাই কংগ্রেস করে আসছে। এআইসিসির সদস্য গোয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত দীনেশ গুন্ডু রাও আগেই বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টি রাজ্যে কংগ্রেসকে দুর্বল করার জন্য একটি বড় ষড়যন্ত্র করছে। বিজেপি পরিকল্পনার অংশ হল আপ ও তৃণমূল। বিজেপির বামহাত ও ডানহাত হয়ে তাঁরা কাজ করছে।

বিজেপির জয় নিশ্চিত করতে কংগ্রেসকে ভাঙার খেলা
কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি একটা ফ্যাসিবাদী শক্তি। আর গোয়ায় যা ঘটছে, তাতে স্পষ্ট তৃণমূল ও আপ বিজেপির মতো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে সহায়তা করছে। কোনও এক অদৃশ্য স্বার্থবলে তারা এই কাজে নেমেছে। নিজেদের নিজেদের ক্ষেত্রে তারা জয়লাভ করার পর গোয়ায় এবং অন্যান্য রাজ্যেও তারা বিজেপির জয় নিশ্চিত করতে কংগ্রেসকে ভাঙার খেলায় নেমেছে।।

গোয়ায় যা হচ্ছে, তাতে তৃণমূলের ভূমিকা সন্দেহজনক
কংগ্রেসের সাফ কথা, নিজেরা জেতার জন্য বা ধর্মনিরপেক্ষ ফ্রন্টের জয় নিশ্চিত করার জন্য কাজ করছে না তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি। বিজেপির আধিপত্য নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য। যেমন গোয়ায় কংগ্রেসের উপর দখলদারি চালিয়ে সংগঠন বাড়াচ্ছে তৃণমূল। ত্রিপুরাতেও একই খেলা শুরু করেছে তারা। তবু ত্রিপুরার ক্ষেত্রে একথা বলা যায় যে, এখনও দেড় বছরেরও বেশি সময় বাকি নির্বাচনের। কিন্তু গোয়ায় যা হচ্ছে, তাতে তৃণমূলের ভূমিকা সন্দেহজনক।

প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক, এত টাকা কোথা থেকে আসছে
কংগ্রেসের তরফে আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ আনা হয়েছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। দীনেশ গুন্ডু রাও আরও বলেন, সম্প্রতি গোয়ার ভোটের ময়দানে যে রাজনৈতিক দলগুলি আত্মপ্রকাশ করেছে, তারা কংগ্রেস প্রার্থীদের, কংগ্রেস সদস্যদের, এমনকী কাউন্সিলরদেরও অর্থের প্রস্তাব দিয়েছিল। তাদের নিজেদের কর্মী ও নেতা নেই। তারা কংগ্রেসের উপর দখলদারি চালিয়ে সংগঠন বাড়াতে চাইছে। এই দলগুলো ধর্মনিরপেক্ষ ভোট ভাগ করতে এসেছে। প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক, এত টাকা কোথা থেকে আসছে।

বিজেপির ইচ্ছাতেই গোয়ায় ঘাঁটি গেড়েছে তৃণমূল
গোয়ায় তৃণমূলের সংগঠনের ছিটেফোঁটাও ছিল না, আচমকাই কংগ্রেস ভেঙে সংগঠন বাড়াতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে তৃণমূল। তৃণমূলের এই উপস্থিতি কংগ্রেসকে গভীর চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করে তৃণমূল কংগ্রেস ভাঙছে বলেও অভিযোগ। তৃণমূল জেনে-বুঝেই গোয়ায় ভাঙছে কংগ্রেস। বিজেপির ইচ্ছাতেই তৃণমূল গোয়ায় ঘাঁটি গেড়েছে।

কংগ্রেসের বিরাট ভাঙনের তৃণমূলের পথে যাঁরা
ইতিমধ্যে কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। কংগ্রেসের দুবারের মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফালেইরো-সহ প্রদেশ কংগ্রেসের ১০ সজন হেভিওয়েট নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তারপর প্রতিদিনই কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল একটু একটু করে শক্তি বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি কংগ্রেসের ৯ জন হেভিওয়েট-সহ ২০০ কর্মী যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। ভালভোই ব্লক কংগ্রেস কমিটির সভাপতি দশরথ মান্দ্রেকর ও আরও আটজন পদাধিকারী মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এই দলে ছিলেন রাজ্য মহিলা কংগ্রসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়া রাঠোরও।












Click it and Unblock the Notifications