বিজেপিকে হটাতে নয়া ফর্মুলা তৃণমূলের, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী-ঐক্য কোন সমীকরণে
বিজেপিকে হটাতে নয়া ফর্মুলা তৃণমূলের, ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী-ঐক্য কোন সমীকরণে
তৃণমূল কংগ্রেস এতদিন বিজেপি বিরোধী প্রধান মুখ হয়ে ওঠার লক্ষ্যে ভিনরাজ্যের বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা তৈরি করেছিল। চেষ্টা করছিল কংগ্রেস ব্যতিরেকে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ে তুলতে। কিন্তু এখন তাঁরা অন্য ফর্মুলায় হাঁটতে চাইছে। তৃণমূল এখন জোর দিয়েছে রাজ্যভিত্তিক বিরোধী জোটের তত্ত্বে। সেটাই সবথেকে বেশি কার্যকর হবে বলে ধারণা তাঁদের।

২০২৪-এ বিজেপি বিরোধী জোট গড়ার লক্ষ্যে
সম্প্রতি বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে নীতীশ কুমারের জেডিইউ। নীতীশ কুমার আবার কংগ্রেসে-আরজেডির সঙ্গে হাত মিলিয়ে বিহারে সরকার গঠনও করেছে। তিনি সক্রিয় হয়েছেন ২০২৪-এ বিজেপি বিরোধী জোট গড়ে তোলার ব্যাপারে। সম্প্রতি তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা টিআরএস সুপ্রিমো কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠকও হয়েছে। তিনি আবার দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করে এসেছেন।

নিজ নিজ রাজ্যে আঞ্চলিক রাজনীতির ফর্মুলা
এই অবস্থায় বিজেপিকে পরাস্ত করতে তৃণমূল অন্য ফর্মুলা নিল। তৃণমূল চাইছে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে নিজ নিজ রাজ্যে আঞ্চলিক রাজনীতির ফর্মুলা মেনে জোট করতে। বিজেপির বিরুদ্ধে কোনও দলেই তাঁদের আপত্তির কথা তাঁরা তুলে ধরতে চাইছে না। কংগ্রেসের প্রতি তাঁরা নমনীয় হওয়ার পাশাপাশি জেডিইই নিয়েও কোনও আপত্তির কথা তাঁরা তুলে ধরছেন না।

এক ও একমাত্র লক্ষ্য হোক বিজেপিকে হারানো
তৃণমূলের বক্তব্য, ২০২৪-এ বিজেপকে হারানোই প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সবার। সেই কারণে মহারাষ্ট্রে যেমন শিবসনেতা, এনসিপি ও কংগ্রেস জোট করে লড়াই করছে, তামিলনাড়ুতে ডিএমকে ও কংগ্রেস জোট করে লড়াই করছে, বিহারেও তেমনই আরজেডি, কংগ্রেস, বামেদের সঙ্গে মহাজোট করে জেডিইউ লড়াই করলেও আপত্তি নেই তৃণমূলের। তাঁরা চাইছে, এক ও একমাত্র লক্ষ্য হোক বিজেপিকে হারানো।

সেক্ষেত্রে বাংলার জোট সমীকরণ কী হবে? প্রশ্ন
কিন্তু এখানে প্রশ্ন প্রতিটি রাজ্যের সমীকরণ মেনে যেমন আঞ্চলিক স্তরে জোট গড়ার কথা বলছে তৃণমূল, সেক্ষেত্রে বাংলার জোট সমীকরণ কী হবে? তৃণমূল কি কংগ্রেস বা সিপিএমকে নিয়ে এই নমনীয়তা দেখাবে? কংগ্রেস বা সিপিএম তথা বামফ্রন্টকে কোনও জমি ছাড়বে? তৃণমূলের সাফাই, যে রাজ্যে যে দল শক্তিশালী সেই লড়াই করবে। বাংলায় বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস বা সিপিএমের লড়াই করে জেতার ক্ষমতা নেই, তা আগেই প্রমাণিত হয়েছে। তাহলে এখানে তৃণমূলকেই ছেড়ে দেওয়া উচিত।

ত্রিমুখী লড়াই সম্ভাবনা প্রবল যে সমস্ত রাজ্যে
বাংলার মতো সমস্যা রয়েছে তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, পাঞ্জাবেও। সেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপি বিরোধী দল টিআরএস, সমাজবাদী পার্টি ও আম আদমি পার্টির সঙ্গে মিলিত হয়ে লড়াই করার সম্ভাবনা নেই। এক্ষেত্রে ত্রিমুখী লড়াই সম্ভাবনা প্রবল। ফলে বিজেপির বিরুদ্ধে যে সমস্ত রাজ্যেই জোট হবে বা একের বিরুদ্ধে এক লড়াই হবে, তার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

সুর চড়ছে, কিন্তু সেইসব সুর সম্মিলিত হচ্ছে না
সম্প্রতি নীতীশ কুমার বলেন, যদি সমস্ত বিরোধী দল একজোট হয়ে লড়াই করতে পারে, তবে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ৫০-এর নীচে নেমে যাবে। তিনি আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর জন্য সুর তোলেন। এদিকে মমতা বন্যো িপাধ্যায় ও তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কেসি রাও-ও সুর চড়িয়েই চলেছেন। কিন্তু সেইসব সুর সম্মিলিত হচ্ছে না। সবাই যে যাঁর মতো সুর চড়িয়েই যাচ্ছেন। আর বিজেপি তার নিজের মতো ঘুঁটি সাজিয়ে চলেছে।

সরকার ভাঙার পাল্টা চালে কিস্তিমাত বিজেপিই
বিজেপি সম্প্রতি রাজ্যে রাজ্যে সরকার ভাঙার খেলা ফের শুরু করেছে। ইতিমধ্যে মহারাষ্ট্রে সরকার ভেঙেছে বিজেপি। শিবসেনাকে ভেঙে তাদেরই একাংশকে নিয়ে বিজেপি সরকারে এসেছে। উল্টে নীতীশ কুমারকে বিহার থেকে সরাতে গিয়ে পাল্টা চালে কিস্তিমাত হয়ে গিয়েছে বিজেপিই। ফলে জোর ধাক্কা খেয়েছে তারা। বিহারের পাল্টা মণিপুরে জেডিইউকে ভাঙিয়ে নিয়েছে তারা।

২০২৪-এর আগে ভাঙাভাঙির এই খেলা বাড়বে
এরপর দিল্লি ও ঝাড়খণ্ডেও সরকার ভাঙার খেলা শুরু করেছিল বিজেপি। কিন্তু দিল্লিতে আম আদমি পার্টি ও ঝাড়খণ্ডে জেএমএম ও কংগ্রেস জোট এককাট্টা থাকায় বিজেপিকে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়। এর আগে কর্নাটক, মধ্যপ্রদেশ সরকার বিজেপি ভাঙিয়ে নেয়। রাজস্থান ও ছত্তিশগড়েও তারা চেষ্টা করেছিল পারেনি। ২০২৪-এর আগে ভাঙাভাঙির এই খেলা বাড়বে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications