সংখ্যালঘুরা কি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তৃণমূলের থেকে, সাগরদিঘি থেকে শেষের শুরু! জল্পনা
সংখ্যালঘু ও বিরোধী বাম-কংগ্রেসও বলতে শুরু করেছে সাগরদিঘিতে ট্রেলার দেখা গেল, পিকচার আভি বাকি হ্যায়। পঞ্চায়েত আর লোকসভা নির্বাচন তাই তৃণমূলের কাছে অগ্নিপরীক্ষা।
সাগরদিঘি নির্বাচনে বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থীর কাছে হারের পর থেকেই প্রশ্নটা উঠে পড়েছে। সংখ্যালঘুরা কি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন তৃণমূলের থেকে? তা না হলে এমন হার হল কেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিজেপির মোকাবিলা করতে গিযে তৃণমূল এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যাতে সংখ্যালঘুরা মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

সাগরদিঘি থেকে শেষের শুরু!
বিশেষজ্ঞমহল বলতে শুরু করেছে, সাগরদিঘি বিধানসভার উপনির্বাচনে ভরাডুবির পরেও শিক্ষা নেয়নি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। উপনির্বাচনের ফল বেরনোর পর থেকেই তৃণমূল নেতা বিরোধীদের অনৈতিকভাবে আক্রমণ করে চলেছে। তা দেখে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে, এখনও ঘুম ভাঙেনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের।

সংখ্যালঘুরা ভালো চোখে দেখছে না
তৃণমূলের পতনের অশনি সংকেত থেকে যদি তারা এখনই শিক্ষা না নেয়, তবে আসন্ন পঞ্চায়েত এবং ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য তৃণমূল। কেননা বর্তমান শাসক দল সংখ্যালঘুদের চটিয়ে দেওয়া মতো নানা কাজ করছে। আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে চল্লিশ দিন ধরে জেলে আটকে রাখা কোনো সংখ্যালঘু ভালো চোখে দেখছে না।

খানিকটা আঁচ পাওয়া গেল সাগরদিঘিতে
বাংলার মানুষ যে তৃণমূল সরকারের এই কাজ ভালো চোখে দেখেনি, তার খানিকটা আঁচ পাওয়া গেল সাগরদিঘি বিধানসভার উপনির্বাচনে। এ কথা অস্বীকার করার কোনো জায়গা নেই। বিশেষজ্ঞদের একাংশ তো জানা্চ্ছে, যুগে যুগে স্বৈরাচারী শাসকের পতন হয়ে আসছে, ইতিহাস তার সাক্ষ্য বহন করে চলেছে। তাই বাংলার ক্ষেত্রেও যে তা হবে না, তা বলা যায় না।

বাংলার রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়
বাংলার রাজনীতিতে মুসলিম সম্প্রদায়ের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাওয়ার ইতিহাসটা দীর্ঘদিনের। প্রায় সমস্ত দলই মুসলিম নামধারী রাজনৈতিক নেতাদের সামনের সারিতে তুলে এনে তারা বার বার প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে, তারাই মুসলিম সম্প্রদায়ের আসল মুখ, বাকি সব নকল। মুসলিমরাও সেই টোটকা খেয়ে ভোটবাক্স হয়েই থেকে গিয়েছে।

ধর্মকে ঢুকিয়ে দিয়ে ভোটের রাজনীতি
মুসলিম সমাজ এবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেছে। রুখে দাঁড়াচ্ছে। তারই জেরে সাগরদিঘির মতো নিশ্চিত আসন হারাতে হয়েছে শাসকদলকে। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে ক্ষমতায় আসার আগে বাংলার রাজনীতিতে ধর্ম নিয়ে কোনও মাতামাতি ছিল না। ধর্ম মেনে চলা কংগ্রেস সরকার ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করেনি। ধর্ম না-মানা বামফ্রন্ট সরকারও রাজনীতির সঙ্গে ধর্মকে ঢুকিয়ে দিয়ে ভোটের রাজনীতি করেনি।

ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে তৃণমূলও
কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে বলে অভিযোগ। ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে বিজেপির মতো সাম্প্রদায়িক দল। একটা সময় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের শরিক দল ছিল তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে দুইয়ে দুইয়ে চার করতে খুব একটা সমস্যা হয় না। ভোটব্যাঙ্ককে কবজা করে ভোটের বাজারে ফায়দা তোলার কায়দা ভালোই শিখে গিয়েছে তৃণমূল।

সাগরদিঘি কেন তৃণমূলকে ফিরিয়ে দিল, ভাবুন
তৃণমূলের এবার ভাবার সময় এসেছে, এত পরিকল্পনার পরেও সাগরদিঘি কেন তাঁকে ফিরিয়ে দিল! গত পুরভোটে রাজ্যজুড়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় ২৪০০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। সেখানে সাকুল্যে ১৫০ জন মতো প্রার্থী করা হয়েছিল এই সম্প্রদায় থেকে। বহু মুসলিম-প্রধান অঞ্চলে তাদের ওপর হিন্দু প্রার্থী চাপিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

এবার প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন সংখ্যালঘুরা
মুসলিম সমাজ প্রশ্ন তুলছে, 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' চালু করেছেন, গঙ্গার ঘাটে গঙ্গারতি করছেন, দুর্গাপূজায় হাজার হাজার ক্লাবকে সরকারি টাকা অনুদান দিচ্ছেন। তাহলে কেন ইদ উৎসব পালন করার জন্য মসজিদগুলোকে সরকারি অনুদান দেবেন না? কেন ইসলামি জলসার আয়োজন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে অনুদান দিয়ে উৎসাহিত করবেন না? এরকম নানা প্রশ্ন তুলছেন সংখ্যালঘুরা।

মুসলিম সমাজের যদি মোহভঙ্গ হয়...
আরও অভিযোগ, কলকাতা ও তার আশেপাশে অঞ্চলের চার শতাংশ উর্দুভাষী মুসলিমদের নিজের ত্রাতা হিসাবে ভাবছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায। কিন্তু ছাব্বিশ শতাংশ বাঙালি মুসলমানদের কথা তারা ভাবেননি। এখন সেই সমাজের যদি মোহভঙ্গ হয় তবে বাঁধ রক্ষা করা যাবে না।

সংখ্যালঘুরা কেন সরে দাঁড়ালেন, পর্যালোচনা
সংখ্যালঘু ও বিরোধী বাম-কংগ্রেসও বলতে শুরু করেছে সাগরদিঘিতে ট্রেলার দেখা গেল, পিকচার আভি বাকি হ্যায়। পঞ্চায়েত আর লোকসভা নির্বাচন তাই তৃণমূলের কাছে অগ্নিপরীক্ষা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য সাগরদিঘি নির্বাচনের পর কমিটি গড়ে সংখ্যালঘুরা কেন সরে দাঁড়ালেন তা অনুসন্ধানে নেমে পড়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications