তৃণমূলের কি ২০১৮-র দশা হবে ত্রিপুরায়! রাজ্য সভাপতির অপসারণে জোর জল্পনা

তৃণমূলের কি ২০১৮-র দশা হবে ত্রিপুরায়! রাজ্য সভাপতির অপসারণে জোর জল্পনা

২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচন দুয়ারে কড়া নাড়ছে। এই নির্বাচনেই ত্রিপুরায় বিজেপি শাসনের অবসান ঘটানোর পরিকল্পনা রয়েছে তৃণমূলের। কিন্তু নির্বাচনের প্রাক্কালে হঠাৎ তৃণমূলে সিঁদুরে মেঘ দেখা দিয়েছে। যার ফলে রাজ্য সভাপতিকেই বরখাস্ত করতে হয়েছে তৃণমূলকে। এই অবস্থায় ২০১৮-র পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

গোটা তৃণমূল ইউনিটই যোগ দিয়েছিল বিজেপিতে

গোটা তৃণমূল ইউনিটই যোগ দিয়েছিল বিজেপিতে

এভাবে ২০১৮ সালেও তৃণমূলের স্বপ্ন চুরমার হয়ে গিয়েছিল ত্রিপুরায়। প্রায় গোটা তৃণমূল ইউনিটই সেবার যোগ দিয়েছিল বিজেপিতে। নিঃশেষিত হয়ে গিয়েছিল তৃণমূল। ২০১৮-র বিধানসভা নির্বাচনে লড়ে মাত্র ২ শতাংশ ভোট পেয়েছিল তৃণমূল। রাজনৈতিক মহলের অভিমত, ২০২৩-এ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের সেই একইরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তৃণমূলে শেষের শুরুর বার্তা শোনা যাচ্ছে

তৃণমূলে শেষের শুরুর বার্তা শোনা যাচ্ছে

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যেকবার কংগ্রেসকে ভেঙে ইউনিট গড়ে তৃণমূল আর সেই তৃণমূল মিশে যায় বিজেপিতে। এর ফলে বিজেপি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আর বিরোধী দলগুলি ভেঙে শক্তপোক্ত অবস্থান তৈরি করে। সৌজন্যে তৃণমূল। তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি অপসারণের পর থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছে। তৃণমূলে শেষের শুরুর বার্তা শোনা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত।

তিলে তিলে গড়ে ওঠা তৃণমূলের সাম্রাজ্যে ভাঙন

তিলে তিলে গড়ে ওঠা তৃণমূলের সাম্রাজ্যে ভাঙন

২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সুদীপ রায় বর্মনের নেতৃত্বে গোটা তৃণমূল কংগ্রেস যোগ দিয়েছিল বিজেপিতে। মুকুল রায়ের হাত ধরে তিলে তিলে গড়ে ওঠা তৃণমূলের কোনও অস্তিত্বই প্রায় ছিল না তারপর। অথচ মুকুল রায় কংগ্রেসকে ভেঙে তৃণমূলকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন। তারপর বাংলায় মুকুল তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে নাম লেখালেন। আর সুদীপ রায় বর্মনরা ত্রিপুরায়।

তৃণমূলের ত্রিপুরা ইউনিটে থাবা বিজেপির

তৃণমূলের ত্রিপুরা ইউনিটে থাবা বিজেপির

সুদীপ রায় বর্মনদের শক্তিকে পাথেয় করে ত্রিপুরায় পরিবর্তনের লড়াই শুরু করেছিল বিজেপি। তারপর বামেদের ২৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। উত্থান হয় বিজেপির। এবার বিজেপির সেই সরকারকে উৎখাত করতে ফের সঙ্ঘবদ্ধ হতে শুরু করেছিল তৃণমূল। ফের কংগ্রেসকে ভেঙে তাঁরা দল তৈরি করেছিল ত্রিপুরায়। চার মাস আগেই তৈরি হয়েছিল তৃণমূলের ত্রিপুরা ইউনিট। কিন্তু সেখানেও থাবা বসাতে চলেছে বিজেপি।

বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা ও সংযোগের প্রশ্নে

বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা ও সংযোগের প্রশ্নে

বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। সুবল ভৌমিক চার মাস যেতে না যেতেই তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি পদ থেকে অপসৃত হলেন। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্য সভাপতি বনে গিয়েছিলেন। তাঁকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল বিজেপির বিরুদ্ধে। কিন্তু সেই বিজেপির সঙ্গে সখ্যতা ও সংযোগের প্রশ্নে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল।

তৃণমূলের সব জারিজুরি শেষ হয়েছিল ২০১৮-য়

তৃণমূলের সব জারিজুরি শেষ হয়েছিল ২০১৮-য়

সুবল ভৌমিক বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন, সেই সম্ভাবনা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। তা বুঝতে পেরেই তৃণমূল আগেভাগে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হল রাজ্য সভাপতির পদ থেকে। নইলে একজন রাজ্য সভাপতির অন্য দলে যোগ দেওয়া পার্টির পক্ষে খুবই খারাপ বার্তা দেয়। ২০১৮-য় সুদীপ রায় বর্মন রাজ্য তৃণমূলের সভাপতি ছিলেন। ছিলেন বিরোধী দলনেতাও। তিনি ৬ বিধায়ক-সহ শীর্ষ নেতৃত্বকে নিয়ে বিজেপিতে ভিড়ে যান। তৃণমূলের সব জারিজুরি শেষ হয়ে যায় সেখানেই।

বিজেপিতেও রয়েছে সাংঘাতিক চোরাস্রোত

বিজেপিতেও রয়েছে সাংঘাতিক চোরাস্রোত

এখন প্রশ্ন, এবারও কি সেই একই ছবি দেখা যাবে? তৃণমূল কি শক্তি হারিয়ে ফেলবে ত্রিপুরায়? রাজনৈতিক মহলের খবর, সুবল ভৌমিক ২৭ অগাস্ট বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তবে তিনি তৃণমূলে ভাঙন ধরাতে পারবেন কি না, তা নিশ্চিত নয়। তাঁর অনুগামী কতজন রয়েছে, সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কেননা সুবল ভৌমিক আর যাই হোক সুদীপ রায় বর্মন নন। তারপর বিজেপি ভাঙানোর খেলা খেললেও, ত্রিপুরায় নিজেরা খুব স্বস্তিতে নেই। বিজেপিতে রয়েছে সাংঘাতিক চোরাস্রোত।

তৃণমূলের ভাঙন সম্ভাবনা রোখাই চ্যালেঞ্জ

তৃণমূলের ভাঙন সম্ভাবনা রোখাই চ্যালেঞ্জ

২০২১-এর পুরসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় বাম ও কংগ্রেসকে সরিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেও, সম্প্রতি চারটি বিধানসভা কেন্দ্রেই তৃণমূলের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল। রাজ্যে ঘাসফুল ফুটতে না ফুটতেই তৃণমূলে শুরু হয়েছিল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। রাজ্য সভাপতি সুবল ভৌমিকের বিরুদ্ধে তোপ দেগেই তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেস যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক বাপ্টু চক্রবর্তী। সম্প্রতি তৃণমূলেও ভাঙন ধরতে শুরু হয়েছিল। তৃণমূলের ভবিষ্যৎ প্রশ্নেই দলে ভাঙন রেখা স্পষ্ট হচ্ছিল। এখন দেখার দল পরিচালনার অন্তর্বর্তী দায়িত্ব নিয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুস্মিতা দেবরা কীভাবে সামলান তৃণমূলের ভাঙন সম্ভাবনাকে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+