সিপিএম কি ফের প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠছে! তৃণমূলের অবস্থান বদলেই উঠছে প্রশ্ন
হঠাৎ অবস্থান বদল করে ফেলেছে তৃণমূল! বিজেপিকে ছেড়ে তারা নিশানা করে চলেছে সিপিএমকে। তবে কি বাংলায় ফের প্রধান বিরোধী দল হয়ে উঠছে সিপিএমই! বিজেপি পিছু হটছে তাদের জায়গা থেকে। অন্তত তৃণমূলের আক্রমণের অভিমুখ বদলে সেই প্রশ্ন উঠে পড়েছে। বিশেষ করে সাগরদিঘি উপনির্বাচনের পর তৃণমূলের এই পরিবর্তন লক্ষ্যণীয়।

বিধানসভায় শূন্য সিপিএমকে গুরুত্ব
একুশের নির্বাচনে শূন্যে নেমে প্রাসঙ্গিকতা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছিল সিপিএম। সিপিএম আবার শূন্য থেকে শুরু করে হারানো জমি ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। সিপিএম শূন্যে নামার পর থেকেই তৃণমূল কমিউনিস্ট পার্টির নাম মুখে করত না। বলত, ওদের কথার আর কী জবাব দেবো, ওরা বিধানসভায় শূন্য লোকসভায় শূন্য, পার্টিটাই তো উঠে গিয়েছে।

আক্রমণের অভিমুখ পুরোপুরি বদল
কিন্তু সাগরদিঘিতে বাম সমর্থিত কংগ্রের প্রার্থীর কাছে তৃণমূলের পরাজয়ের পর কী এমন হল আক্রমণের অভিমুখ পুরোপুরি বদল করে ফেললেন তৃণমূল নেতারা। বিজেপি নিয়ে আর তারা তেমন মুখ খুলছেন না, দুর্নীতি ঢাকতে তাঁরা নিশানা করছেন সিপিএমকে। সিপিএম আমলের কথা তুলে ধরে কাউন্টার করছেন।

এক ঢিলে দুই-পাখি মারার প্রচেষ্টা
অর্থাৎ রাজ্য রাজনীতিতে ফের গুরুত্ব বাড়ছে সিপিএমের। কিন্তু কেন হঠাৎ অভিমুখ বদল করল তৃণমূল? বিজেপিকে ছেড়ে তারা সিপিএমের পিছনে পড়ল। এক ঢিলে দুই-পাখি মারার চেষ্টাও হতে পারে এটি। একদিকে সিপিএমকে ঢাল করে নিজেদের দুর্নীতি চাপা দেওয়া আর দ্বিতীয় কারণ অবস্যই সিপিএমের গুরুত্ব বাড়ানো।

সিপিএমের একটু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাতেই...
সিপিএমের গুরুত্ব বাড়লে বিজেপির যে চাপ বাড়বে, তা বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণে স্পষ্ট। সিপিএমের ভোটব্যাঙ্ককে নিয়ে বিজেপি যে ২০১৯ ও ২০২১-এ ফউলে ফেঁপে উঠেছিল, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। এখন সিপিএম একটু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টাতে বহু ক্ষেত্রে বিজেপি পিছিয়ে পড়েছে। বিজেপির এখন হাতে একটাই অস্ত্র তৃণমূলকে দুর্নীতির হাতিয়ারে জব্দ করা।

একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ বলেই মনে হয়!
আর বিজেপির সেই হাতিয়ারকে ভোঁতা করতে ঢাল হিসেবে তৃণমূলের হাতে উঠে এসেছে সিপিএমের পূর্বকীর্তি। তাই তৃণমূলের হেভিওয়েটরা বারবার সিপিএমকে ঢাল করে যুদ্ধে নেমেছে। সিপিএমকে প্রাসঙ্গিক করে তোলার এটি একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ।

বিরোধী ভোট ভাগ করার কৌশল তৃণমূলের!
পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল বিরোধী ভোট ভাগ করার কৌশল নিয়েছে। তাহলে আখেরে লাভ হবে তৃণমূলের। সাগরদিঘির ফলে দেখা গিয়েছে, বিরোধী ভোট এক জায়গায় হতেই হার হজম করতে হয়েছে তৃণমূলকে। এখন যদি সাগরদিঘি মডেল প্রয়োগ করেন বিরোধীরা, তা তৃণমূলের পক্ষ খারাপ। তাই সিপিএমকে নিশানা করে, তাদের সময়কার কালো দিনের কথাও মনে করে দেওয়া হচ্ছে।

বিজেপিকে গৌণ করে সিপিএমকে মুখ্য করতেই...
আবার কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ বলছেন, তৃণমূল আসলে সিপিএমকে চাইছে বিরোধী হিসেবে। বিজেপিকে গৌণ করে সিপিএমকে মুখ্য করার উদ্যোগ নিয়েছে তারা। তাই বিজেপিকে নিশানা করা করে এখন সিপিএমকে নিশানায় রাজ্যে লাল পার্টির পুনরুত্থান ঘটানো তাদের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যের ফল হতে পারে এই অভিমুখ বদল।












Click it and Unblock the Notifications