তৃণমূল জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকতে বিপদ ডাকছে! ২৪-এ মসৃণ হচ্ছে বিজেপির পথ

২০২১-এ বাংলার নির্বাচনে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করে প্রভূত আত্মবিশ্বাস পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যা তাঁদের জাতীয় রাজনীতিতে একলা চলার পথে রসদ জুগিয়েছে।

২০২১-এ বাংলার নির্বাচনে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করে প্রভূত আত্মবিশ্বাস পেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। যা তাঁদের জাতীয় রাজনীতিতে একলা চলার পথে রসদ জুগিয়েছে। বাংলায় বিপুল জয়ে দিল্লিতে ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে পেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে মোদী বিরোধী প্রধান মুখ হয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। সেই সুযোগ পেয়ে হারাতে চাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হয়ে ওঠার জন্য বিরোধী ঐক্য ভুলে রাহুলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বসেছেন।

বিজেপির পালেই হাওয়া তুলবে তৃণমূলের সক্রিয়তা

বিজেপির পালেই হাওয়া তুলবে তৃণমূলের সক্রিয়তা

জাতীয় রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সক্রিয় হয়ে উঠেছে ২০২৪-এর নির্বাচনের আগে। ২০২২-এর শুরুতেই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনে তৃণমূল বিজেপির মোকাবিলায় সপ্রিতভ হয়ে উঠছে কংগ্রেসকে পিছনে ফেলে। এই অবস্থার প্রশ্ন উঠেছে, তৃণমূলের এই অতি সক্রিয়তায় কি আদৌ বিজেপি হারবে, নাকি বিজেপির পালেই হাওয়া তুলবে তৃণমূলের সক্রিয়তা।

কংগ্রেসকে সরিয়ে বিজেপির প্রধান বিরোধী হতে চায় তৃণমূল

কংগ্রেসকে সরিয়ে বিজেপির প্রধান বিরোধী হতে চায় তৃণমূল

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তৃণমূল কংগ্রেস ভিনরাজ্যে সংগঠন বিস্তারের মূলে রয়েছে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের আগে নিজেদেরকে জাতীয় রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক করে রাখা। বিজেপিকে রাজ্য নির্বাচনে হারানোর থেকে তৃণমূল নিজেদেরকে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তুলে ধরতে চাইছে প্রধান বিরোধী হিসেবে। সে জন্য তারা কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে নেমে পড়েছে। কংগ্রেসকে সরিয়ে তারা চাইছে বিজেপির প্রধান বিরোধী হয়ে উঠতে।

কংগ্রেস যদি মমতাকে বিরোধী ঐক্যের প্রধান নেত্রী মানে...

কংগ্রেস যদি মমতাকে বিরোধী ঐক্যের প্রধান নেত্রী মানে...

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের আরও পর্যবেক্ষণ, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান বিরোধী দল হয়ে ওঠার থেকেও বেশি চাইছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরতে। কংগ্রেস যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী ঐক্যের প্রধান নেত্রী মেনে নেয়, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে কোনও বিরোধ নেই, কংগ্রেসকে নিয়েই বিরোধী ঐক্য গড়তে রাজি তৃণমূল।

রাহুল গান্ধী নিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরোধী ঐক্যকে

রাহুল গান্ধী নিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরোধী ঐক্যকে

রাহুল গান্ধীকে কিছুতেই বিরোধী ঐক্যের প্রধান মুখ হিসেবে মানতে নারাজ তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার দাবি নিয়ে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর সংসদীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস বিরোধী ঐক্যের নেতৃত্ব নেওয়া শুরু করে। সংসদের বিগত অধিবেশনে রাহুল গান্ধী নিজে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরোধী ঐক্যকে। সেখানে শামিল ছিল তৃণমূলও।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সামনের সারিতে আসা মুশকিল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সামনের সারিতে আসা মুশকিল

এরপরই তৃণমূল মনে করে, কংগ্রেস থাকলে বা রাহুল গান্ধী থাকলে তৃণমূলের পক্ষে বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সামনের সারিতে আসা মুশকিল হয়ে যাবে। তারপরই তৃণমূল এককভাবে চলার পথ তৈরি করতে মনস্থ করে। ভারতের ছোট রাজ্যগুলিকে প্রথমে টার্গেট করে সংগঠন বিস্তারের জন্য। উত্তর-পূর্বের ত্রিপুরার পর পশ্চিমের গোয়াতেও তৃণমূল ইউনিট খোলে। এরপর একে একে অসম, মেঘালয়, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানাকেও টার্গেট করছে তারা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, তৃণমূল কংগ্রেসের একলা চলা বা কংগ্রেস বিরোধিতার পিছনে রয়েছে অন্য এক সমীকরণ। বিজেপির সঙ্গে গোপন আঁতাত করেই তাঁরা কংগ্রেস ভেঙে নতুপন সংগঠন তৈরি করছেন রাজ্যে রাজ্যে। অভিষেক বন্যোঁতপাধ্যায়কে ইডি তলব করতেই খেলা ঘুরে গিয়েছে। মুখে বিজেপি বিরোধিতার কথা বললও তৃণমূলের এখন প্রধান লক্ষ্য কংগ্রেসকে দুর্বল করা। নিজেদের পিঠ বাঁচাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল বিজেপিকে সুবিধা করে দিচ্ছে।

তৃণমূলের ভিনরাজ্যের রাজনীতিতে পসার জমানোর চেষ্টা

তৃণমূলের ভিনরাজ্যের রাজনীতিতে পসার জমানোর চেষ্টা

রাহুল গান্ধী নন, মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তা বোঝাতে তৎপর হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস। বাংলার নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর পর তাই তৃণমূল ভিনরাজ্যের দিকে নজর দিয়ে ইতিমধ্যে ত্রিপুরা ও গোয়ায় সংগঠন বিস্তার শুরু করে দিয়েছে। দুটোই বিজেপিশাসিত রাজ্য। দেশের দুই প্রান্তের দুই ছোট রাজ্যকে টার্গেট করে তৃণমূল ভিনরাজ্যের রাজনীতিতে পসার জমানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

মমতাকে মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব

মমতাকে মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব

তৃণমূল বাংলার নির্বাচনে জেতার পরই প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ট্রেন্ডিং করে টুইট যুদ্ধে নেমেছিল। সেখানে প্রাথমিকভাবে সাড়া পেলেও তা স্থায়ী হয়নি। তখনই তৃণমূল উপলব্ধি করেছে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্ব বাড়াতে শুধু বাংলায় পড়ে থাকলে চলবে না। আরও কিছু রাজ্যে নিজেদের গতিবিধি বাড়াতে হবে। তাহলে নিজেদের সর্বভারতীয় তকমা যেমন ধরে রাখা সম্ভব হবে, জাতীয় রাজনীতিতেও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে তারা। একইসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।

তৃণমূলের বাড়বাড়ন্তে কংগ্রেস কিছুটা হলেও দুর্বল

তৃণমূলের বাড়বাড়ন্তে কংগ্রেস কিছুটা হলেও দুর্বল

তাই তৃণমূল রাজ্যে রাজ্যে ইউনিট গড়ে তুলছে। আর এই লক্ষ্যে তৃণমূল টার্গেট করেছে কংগ্রেসকে। কংগ্রেসকে ভেঙে তারা ত্রিপুরা, গোয়া, মেঘালয়, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানায় ইউনিট গড়েছে বা গড়ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে ২৪শের যুদ্ধে বিজেপিকে হারানো সম্ভব নয়। বরং বিজেপির খানিকটা হলেও সুবিধা হয়ে যাবে তৃণমূলের এই পদক্ষেপে। তৃণমূলের বাড়বাড়ন্তে কংগ্রেস কিছুটা হলেও দুর্বল হবে। তখন বিজেপির জয়ের পথ মসৃণ হয়ে যাবে।

 স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৃণমূল এগনোর পথ তৈরি রাখছে

স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৃণমূল এগনোর পথ তৈরি রাখছে

কংগ্রেসের শক্তি হরণ করে তৃণমূল বিরোধী ঐক্যকেই শেষ করে দিচ্ছে। এর ফলে জাতীয় ক্ষেত্রে তৃণমূল অন্য় বন্ধুদেরও পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে। তৃণমূলের ভূমিকা অনেকটাই বিজেডি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস বা টিআরএসের মতো হয়ে যাচ্ছে। তাঁরা যেমন কখনও বিজেপি বিরোধী, কখনও বিজেপির মিত্র, তেমনই তৃণমূল হয়ে উঠছে। ইস্যুভিত্তিক বিরোধিতা বা মিত্রতার রাস্তা নিচ্ছে তৃণমূল। নিজেদের স্বার্থমতো তৃণমূল এগনোর পথ তৈরি রাখছে বলেই কংগ্রেসের অভিযোগ।

কংগ্রেসকে দুর্বল করলে বিজেপিরই সুবিধা!

কংগ্রেসকে দুর্বল করলে বিজেপিরই সুবিধা!

তৃণমূল কংগ্রেস ভুলে যাচ্ছে কংগ্রেস সমস্ত রাজ্যে রয়েছে। ২৫০-টিরও বেশি আসনে কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির সরাসরি লড়াই। আর এই মুহূর্তে তৃণমূল সরাসরি বিজেপির সঙ্গে লড়বে মাত্র ৪২টি আসনে। বাকি আসনে ত্রিমুখী লড়াই হবে বা কোথাও অন্য আঞ্চলিক দলের সঙ্গে লড়াই বিজেপি বা কংগ্রেসের বা অন্য কোনও আঞ্চলিক দলের। তাহলে কী করে তৃণমূল প্রধান বিরোধী হয়ে উঠবে। কংগ্রেসকে দুর্বল করে তাই বিজেপিরই সুবিধা করে দেওয়া হচ্ছে। তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী মুখ হয়ে কী আর ফায়দা লুটবেন, সব লড়াই-ই নিস্ফলা হবে। বিজেপির হাতেই থাকবে দিল্লির ব্যাটন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+