তৃণমূল রাজ্যে রাজ্যে ইউনিট গড়ছে কংগ্রেস ভেঙে, এভাবে কি ২৪শে বিজেপিকে হারানো সম্ভব
তৃণমূল রাজ্যে ইউনিট গড়ছে কংগ্রেস ভেঙে, এভাবে কি ২৪শে বিজেপিকে হারানো সম্ভব
এভাবে কি বিজেপিকে হারানো সম্ভব? তৃণমূল রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেসকে ভেঙে নিজের আসন তৈরি করছে। ফলে দুর্বল হচ্ছে কংগ্রেস। তাদের শক্তি হরণ করে বিজেপিকে হারানোর পরিকল্পনা করছে তৃণমূল? তাতে কতটা সফল হবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা? বিজেপিকে হারানোর রসদ কি তৈরি করতে পারবেন তাঁরা, নাকি কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়ায় বিজেপির জয়ের পথ আরও সুগম হবে, তা নিয়েই জল্পনা চলছে।

কংগ্রেসকে ভেঙে সংগঠন বাড়াচ্ছে তৃণমূল
ত্রিপুরা ও গোয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস শুধু মেঘালয়-সহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন ছোট রাজ্যে নজর দিয়ে ক্ষান্ত থাকেনি, তাঁরা পা রাখল গো বলয়েও। হিন্দিভাষী রাজ্য বিহার থেকে শুরু করে উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানাতেও সংগঠন বিস্তারে মনোনিবেশ করল তারা। যেখানে যেখানে বিজেপি সরকার এবং কংগ্রেস বিরোধী দলের ভূমিকায়, সেখানেই তৃণমূল সংগঠন বিস্তার করে বিজেপিকে হারানোর ডাক দিচ্ছে।

হঠাৎ ভোলবদল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় বিজেপিকে হারানোর পর দিল্লির রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্য গড়ার ডাক দিয়েছিল। সেইমতো তিনি সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি লিখে বিরোধী ঐক্য গড়ে তোলার ডাক দেন। ভোট মেটার পর তিনি দিল্লিতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকও করেন। বিগত অধিবেশনে যৌথ আন্দোলনও করতে দেখা যায় কংগ্রেস-তৃণমূলকে। কিন্তু তারপরই ভোলবদল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলের পদক্ষেপে বিজেপি মনে মনে উৎফুল্ল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল বিভিন্ন রাজ্যে পা রেখে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জা জানানোর পন্থা নিয়েছেন। সে জন্য তারা দেশের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসকে ভাঙছে। ফলে দুর্বল হচ্ছে কংগ্রেস। বিজেপির বিরোধীরা ভাগ হচ্ছে। ফলে আদতে তৃণমূলের পদক্ষেপে বিজেপি মনে মনে উৎফুল্লই হচ্ছে। এখন শুধু মানুষের মন কোনদিকে ঘোরে তার উপরই নির্ভর করবে ২০২৪-এ বিজেপির ভাগ্য।

বিজেপির জয়ের পথ সুগম হবে তৃণমূলের পদক্ষেপে
সমীকরণ বলছে, কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল দুর্বল করে দেওয়ায় কংগ্রসের পক্ষে অনেক রাজ্যেই দাঁত ফোটানো সম্ভব নয়। ফলে বিজেপির পোয়াবারো বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরিয়ে তৃণমূল বিভিন্ন রাজ্যে সংগঠন বিস্তার করায়। তাতে তাদের লাভই হবে। কেননা বিরোধী ভোট দু-ভাগ হবে, কংগ্রেস দুর্বল হবে। আর তৃণমূল বাংলায় যা পেরেছে, সেটা ভিনরাজ্যে পারবে না। ফলে বিজেপির জয়ের পথ সুগম হবে তৃণমূলের পদক্ষেপে।

বিজেপির পর তৃণমূল ভাঙতে শুরু করেছে কংগ্রেসকে
সম্প্রতি ত্রিপুরা, গোয়া, অসম, মেঘালয়, উত্তরপ্রদেশের পর তৃণমূল হরিয়ানায় পা রাখতে চাইছে। বৃহস্পতিবার হরিয়ানার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায়কে। এবার তাঁর নেতৃত্বে হরিয়ানার পাটিতে পদচারণা শুরু করতে চলেছে তৃণমূল। এখানেও কংগ্রেস তাই আতঙ্কে। বিজেপি যা ভাঙার ভেঙেছে কংগ্রেসকে। এখন আবার তৃণমূল ভাঙতে শুরু করেছে বাংলার পর অন্য রাজ্যেও।

কংগ্রেসের জাতীয় স্তরের নেতারা ভিড়ছেন মমতার দলে
তৃণমূল ভিনরাজ্যের দিকে নজর দিতেই কংগ্র্সের জাতীয় স্তরের নেতারা মমতার দলে ভিড়তে শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন সুস্মিতা দেব, লুইজিনহো ফেলেইরো, অশোক তানওয়ার, কীর্তি আজাদ, ললিতাপতি ত্রিপাঠী প্রমুখ। এছাড়া সুধীন্দ্র কুলকার্নি, পবন বর্মার মতো বিজেপি ও বিজেপির সহযোগী দলের নেতারাও যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। এর আগে বিজেপির প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী যশবন্ত সিনহাও যোগ দিয়েছিলেন তৃণমূল। শত্রুঘ্ন সিনহার দিকেও নজর রয়েছে তৃণমূলের।

তৃণমূলের সংগঠন বাড়ানোর প্রক্রিয়া কংগ্রেস ভেঙে
আর হালে মেঘালয় কংগ্রেসের মুকুল সাংমা-সহ ১২ জন কংগ্রেস বিধায়র তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তার ফলে এক লাফে মেঘালয়ে বিরোধী আসনে উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগে ত্রিপুরাতেও সুদীপ রায় বর্মনস-সহ কংগ্রেসের ৬ বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেওয়ায় শূন্য থেকে বিরোধী আসনে বসেছিল তৃমমূল। তারপর ২০১৮-র ভোটে তারা মুখ থুবড়ে পড়ে। এখন আবার সেই কংগ্রেস ভেঙেই তৃণমূল নতুন করে ইউনিট গড়ে তুলতে চাইছে ত্রিপুরায়। তারপর মেঘালয়েও মুকুল সাংমাকে দিয়ে তৃণমূল সংগঠন বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করবে।

তৃণমূলের সংগঠন, যে নেতাদের দায়িত্ব যে রাজ্যে
তৃণমূলের এখন লক্ষ্য সুস্মিতা দেব ও সুবল ভৌমিককে দিয়ে ত্রিপুরায় সংগঠন বাড়াতে, গোয়ায় লুইজিনহো ফেলেইরো, মেঘালয়ে মুকুল সাংমা, বিহারের কীর্তি আজা, হরিয়ানায় অশোক তানওয়ারকে দিয়ে সংগঠন বাড়িয়ে নিতে। আর প্রথম বড় রাজ্য হরিয়ানার দিকে নজর দিয়ে অশোক তানোয়ারের সঙ্গে স্টেট ইনচার্জ হিসেবে রাখা হল সুখেন্দুশেখর রায়কে।

বিজেপি নড়বড়ে, সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া তৃণমূল
সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরে রাহুল গান্ধী ঘনিষ্ঠ অশোক তানওয়ার কংগ্রেস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন তৃণমূলে। সঙ্গে সঙ্গেই হরিয়ানার দলের সংগঠন তৈরি ও দলীয় প্রচারের দায়িত্ব অশোক তানওয়ারের কাঁধে অর্পণ করেছেন মমতা। মমতা বলেন, আমি অশোক তানওয়ারকে বলেছি এখন থেকেই কাজ শুরু করে দিতে। আমিও প্রয়োজনে যাব। আর ওই রাজ্যের ইনচার্জ করে দেওয়া হয়েছে সুখেন্দু শেখর রায়কে। কৃষক আন্দোলনের ফলে হরিয়ানায় বিজেপি খানিকটা নড়বড়ে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৃণমূল সংগঠন বাড়াতে চাইছে।

জাতীয় রাজনীতিতে নয়া সমীকরণে জল কোনদিকে গড়াবে
গোটা দেশে কংগ্রেসই একমাত্র বিজেপির প্রধান বিরোধী শক্তি। দেশের বেশিরভাগ রাজ্যেই কংগ্রেসের সঙ্গে সরাসরি ফাইট বিজেপির। এখন বেশ কিছু কাছে তৃণমূল কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি ঢুকে বিরোধী ভোটে ভাঙন ধরাতে চাইছে বলে অভিযোগ কংগ্রেসের। অভিযোগ, তৃণমূল বা আপ মুখে বিজেপি বিরোধিতার কথা বললেও আদতে ভিনরাজ্যগুলিতে বিজেপিরই সুবিধা করে দিচ্ছে। এখন দেখার জাতীয় রাজনীতিতে এই নয়া সমীকরণে জল কোনদিকে গড়ায়।












Click it and Unblock the Notifications