তৃণমূল নমনীয় হচ্ছে কংগ্রেসের প্রতি! অভিষেকের ব্যাখ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে নয়া জল্পনা
তৃণমূল নমনীয় হচ্ছে কংগ্রেসের প্রতি! অভিষেকের ব্যাখ্যায় জাতীয় রাজনীতিতে নয়া জল্পনা
২০২৪-এর আগে বহু রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনই স্থির করে দেবে জাতীয় রাজনীতির প্রেক্ষাপট। কোন সমীকরণ রচনা হবে ২০২৪-এর নির্বাচনের জন্য। কী পরিকল্পনা নিয়ে হাঁটবে বিরোধীরা। এখন পর্যন্ত বিরোধী ঐক্য গড়ে ওঠেনি সেভাবে। বরং বিরোধী ঐক্যের মধ্যে ফাটল তৈরি হয়েছে ২০২১ পরবর্তী সময়ে।

তবে কি তৃণমূল নরম হচ্ছে কংগ্রেসের প্রতি
সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের প্রতি যে মনোভাব পোশণ করলেন, তাতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মনে হতেই পারে, তিনি এবং তাঁর তৃণমূল নরম হচ্ছে কংগ্রেসের প্রতি। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, কংগ্রেসকে দুর্বল করা তাদের উদ্দেশ্য নয়, কংগ্রেস যেখানে ক্ষমতায় সেখানে আমরা পা দিইনি। আমাদের লড়াই বিজেপির সঙ্গে, বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস যেখানে লড়াই করতে পারছে না, সেখানে আমরা প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে দাঁড়াচ্ছি।

কংগ্রেসকে ভেঙে জমি শক্ত করতে চাইছে তৃণমূলে
কিন্তু তৃণমূলের সাম্প্রতিক অবস্থান কিন্তু অন্য কথা বলছে। সম্প্রতি গোয়া এবং ত্রিপুরায় তৃণমূল পা রেখেই কংগ্রেসকে ভাঙতে শুরু করেছিল। কংগ্রেসকে ভেঙে তাঁরা পায়ের তলার জমি শক্ত করে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিল। তাতে কংগ্রেস বারবার গর্জে উঠে জানিয়েছে, বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই কংগ্রেসকে ভাঙার খেলায় নেমেছে তৃণমূল।

কেন এমন উল্টো সুর শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের কথায়?
বর্তমানে অবশ্য তৃণমূল অন্য সুর গাইছে। তাঁরা বলতে শুরু করেছে কংগ্রেসকে ভাঙা বা কংগ্রেসকে দুর্বল করা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য বিজেপিকে হারানো। কিন্তু কেন এমন উল্টো সুর শোনা যাচ্ছে তৃণমূলের কথায়? আসলে গোয়ায় তৃণমূল খানিক ধাক্কা খেয়েছে। গোয়ার কংগ্রেস বিধায়ক থেকে শুরু করে অনেক নেতা তৃণমূলে যোগ দিয়েও ফরে পুরনো দলে ফিরে যাচ্ছেন। ত্রিপুরাতেও অন্য সমীকরণ তৈরি হচ্ছে ভিতরে ভিতরে। তাই কি তৃণমূল মনে করছে কংগ্রেসের সঙ্গে সখ্যতা না রাখলে ভিনরাজ্যেও বাসা বাঁধা যাবে না?

তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে গিয়েছে অনেক
২০২১-এ বাংলায় নির্বাচন পরেই কিন্তু অন্য খাতে বইতে শুরু করেছিল জাতীয় রাজনীতি। মনে হচ্ছিল এবার বিরোধী ঐক্যে জমাট করার রাস্তায় হাঁটবে বিরোধীরা। অন্তত তৃণমূল কংগ্রেসের পদক্ষেপ দেখে মনে হয়েছিল, তারা এবার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে অন্য খাতে বইয়ে দিতে চাইবে জাতীয় রাজনীতির সমীকরণকে। বিরোধী ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে। কিন্তু তাল কাটল অচিরেই। তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকল।

কংগ্রেস-তৃণমূল জোট বাঁধলে বিরোধী ঐক্য মজবুত
২০২১-এ বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সদিচ্ছা নিয়ে দিল্লি সফরে গিয়েছিলেন। কংগ্রেস হাইকম্যান্ড সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন, সেই আবহ ধূলিসাৎ হয়ে গেল অচিরেই। বিজেপি মনে করেছিল, কংগ্রেস ও তৃণমূলের জোট বাঁধলে বিরোধী ঐক্য এতটাই মজবুত হবে যে তাদের আসন নড়বড়ে হয়ে যাবে। তাই যে করে হোক ফাটল তৈরি করতে হবে কংগ্রেস-তৃণমূলের ঐক্যে।

হঠাৎ সুর পাল্টে কংগ্রেস বিরোধিতা শুরু করে তৃণমূল
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেস ও তৃণমূলের ঐক্যকে ভাঙতে বিজেপি সক্রিয় করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে। তার ফলে তলব করা হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রীকেও। কাকতালীয় হলেও অভিষেক কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার মুখোমুখি হতেই সুর পাল্টে ফেলে তৃণমূল। প্রবল কংগ্রেস বিরোধিতা শুরু হয়ে যায়।

বিরোধীদের ফাটলে নয়া সমীকরণে অ্যাডভান্টেজ বিজেপি
তৃণমূল কংগ্রেস ভিনরাজ্যে সংগঠন বিস্তারের নামে কংগ্রেস ভাঙার খেলায় মেতে ওঠে। সুবল ভৌমিক, সুস্মিতা দেব শুরু করে লুইজিনহো ফেলেইরো, কীর্তি আজাদ, অশোক তানওয়ার-সহ প্রথম ও দ্বিতীয় সারির বহু কংগ্রেস নেতাকে দলে টেনে নেয়। এর ফলে বিজেপি উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। বিরোধীদের মধ্যে ফাটল ধরায় নয়া সমীকরণ অ্যাডভান্টেজ অবস্থানে চলে যায় বিজেপি।

কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলানো ছাড়া গতি নেই তৃণমূলের
এই অবস্থায় গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের মুখে তৃণমূল একটু সরে এসেছে কংগ্রেস বিরোধিতা থেকে। তৃণমূলের এই অবস্থান আবার জাতীয় রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ। সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় গিয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে ফের বিরোধী ঐক্য জমাট বাঁধার কিঞ্চিৎ লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে। বিজেপি বিরোধিতাই যদি তৃণমূলের এক ও একমাত্র লক্ষ্য হয়, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মেলানো ছাড়া গতি নেই।

কংগ্রেসকে দুর্বল করতে চাই না, বলছেন অভিষেক
অভিষেক বলেন, সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হচ্ছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। কংগ্রেসকে দুর্বল করা আমাদের লক্ষ্য নয়। আমরা তা করছিও না। তৃণমূল যে রাজ্যে যাচ্ছে, সেখানে বিজেপির সরকার। কংগ্রেসশাসিত রাজ্যে আমরা যাচ্ছি না। আমরা যদি কংগ্রেসকে দুর্বল করতে চাইতাম তবে আমরা পাঞ্জাবে যেতাম, ছত্তিশগড়ে যেতাম, রাজস্থানে যেতাম, মহারাষ্ট্র যেতাম। কিন্তু আমরা সেইসব রাজ্যে যাইনি। আমরা এখন পর্যন্ত ত্রিপুরায় পা রেখেছি, গোয়ায় গিয়েছি। দুই রাজ্যেই বিজেপির সরকার চলছে।

কংগ্রেসকে শীত ঘুম ভেঙে বেরনোর পরামর্শ
কংগ্রেসের প্রতি অভিষেক, কংগ্রেসের অনেক নেতা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। আমরা যদি কংগ্রেসকে দুর্বল করতে চাইতাম, তাহলে হিসেবটাই উল্টে যেত। আমরা যেমন পাঞ্জাবে যাইনি, আমরা উত্তরপ্রদেশেও যাব না। কিন্তু কংগ্রেসকে শীত ঘুম ভেঙে বেরোতে হবে। কংগ্রেসকে রাস্তায় নেমে বিজেপির বিরোধিতা করতে হবে। তবেই বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যের পথ মজবুত হবে।

কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপি বিরোধী ঐক্য মূল্যহীন
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস জাতীয় রাজনীতিতে বিরোধী ঐক্য গড়ার বার্তা দিয়েছিল কংগ্রেসকে ছাড়া। কিন্তু তৃণমূলের সেই আবেদনে কেউই সাড়া দেয়নি। মহারাষ্ট্রের শিবসেনা তো ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদন। উল্টে শিবসেনা পাল্টা জানিয়ে দিয়েছে, কংগ্রেসকে ছাড়া বিজেপি বিরোধী ঐক্য মূল্যহীন। কংগ্রেসকে নিয়েই বিজেপি বিরোধী লড়াউ করতে হবে।

বিরোধিতা ছেড়ে সখ্যতার রাস্তা খোলা রাখছে তৃণমূল
শুধু শিবসেনাই নয়, বিজেপি-বিরোধী অন্য দলদগুলিও একই সুর তুলেছে। সমাজবাদী পার্টি বা বহুজন সমাজ পার্টি কিংবা আম আদমি পার্টি তা নিয়ে মুখ না খুললেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জাতীয় রাজনীতির বন্ধুরাও কংগ্রেসের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছে এনসিপি থেকে শুরু করে ঝাড়খণ্ডের জেএমএম, বিহারের আরজেডি, তামিলনাড়ুর ডিএমকে-সহ অনেকেই। ফলে তৃণমূল কংগ্রেস বিরোধিতা ছেড়ে সখ্যতার রাস্তা খোলা রাখতে চাইছে।












Click it and Unblock the Notifications