ভারতের বিশাল ভূখণ্ডে রয়েছে বিচিত্র সব গ্রাম, গল্প-সংস্কৃতি-বৈচিত্র্যে একেবারে রোমাঞ্চে ভরা
ভারতের রোমাঞ্চকর গ্রামের ইতিবৃত্ত বললেও অত্যুক্তি হয় না। এক একটা গ্রাম একটা একটা ইতিহাস। প্র্ত্যেক জায়গারই রয়েছে নিজস্ব একটা গল্প।
ভারতে এমন কিছু আকর্ষণীয় গ্রাম রয়েছে, যার বৈচিত্র্য আপনাকে বিস্মিত করবেই। গ্রাম বলতেই যা বোঝায়- দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ, হরিৎ ক্ষেত, শস্য-শ্যামলা, মেঠো রাস্তা, তা তো থাকবেই। রাস্তাঘাটে অবশ্য উত্তরণও ঘটেছে বর্তমানে। এখানেই সেই গ্রামের কথা নিয়ে আলোচনা নয়। এখানে ভারতের এমন কিছু গ্রামের কথা বলা হচ্ছে, যার গল্প, সংস্কৃতি, বৈচিত্র্য একেবারে স্বতন্ত্র।
ভারতের রোমাঞ্চকর গ্রামের ইতিবৃত্ত বললেও অত্যুক্তি হয় না। এক একটা গ্রাম একটা একটা ইতিহাস। প্র্ত্যেক জায়গারই রয়েছে নিজস্ব একটা গল্প। ভারতের বিশাল ভূখণ্ডে বিচিত্র গ্রাম সম্পর্কে জানতে গেলে তা এক মহাভারত হয়ে যাবে। আসুন, সেই 'মহাভারত' থেকেই কিয়দংশের গল্প শুনি আমরা, জানি ভারতীয় ঐতিহ্যের বিচিত্র পরম্পরাকে।

আজব নামের গ্রাম ভদ্রপুর
দক্ষিণ ভারতের কর্নাটক রাজ্যের এই গ্রামে লোকেদের এমনই সব নাম, যা আপনাকে বিস্মিত করে তুলবে। কখনও শুনেছেন কি মানুষের নাম হয় সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, গুগল, ইত্যাদি। এমনই নানা নামের মানুষ রয়েছেন এই গ্রামে। শিশু জন্মের পর এমনই সব নামকরণ হয় এ গ্রামে।

৬০ কোটিপতির গ্রাম
মহারাষ্ট্রের হিওয়ার বাজার এমন একটা গ্রাম। যেখানে বাস করেন সব কোটিপতিরা। এই একটা গ্রামেই রয়েছে ৬০ জন কোটিপতির বাস। বর্তমানে এটি দারিদ্রমুক্ত গ্রাম। এবং বিরল গ্রাম। দেশের সবথেকে ধনী গ্রাম এটি। বর্তমানে এখানে জলের কোনো সমস্যা নেই। একটা সময় জলের সঙ্কটেই গ্রামটি ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছিল। তারপর বর্ষার জল ধরে আর পশুপালনে জোর দিয়ে হিওয়ার বাজার বর্তমানে ৬০ কোটিপতির গ্রাম বলে পরিচিত হয়েছে।

গ্রামের নামটি ‘স্ন্যাপডিল ডট কম’
ভারতে মুজাফ্ফরনগরে এক গ্রামের নামকরণ করা হয়েছিল শিবনগর নামে। তা আবার পরিচিত হয়েছে 'স্ন্যাপডিল ডট কম' নামে। এই গ্রামে স্ন্যাপডিল ১৫টি হ্যান্ডপাম্প স্থাপন করার পর শিবনগরের নাম বদলে যায়। স্ন্যাপডিলের সৌজন্যে জলের জোগান পেতেই গ্রামের নামেও আজব পরিবর্তন ঘটে।

গোখরো এ গ্রামে খেলার সাথী
মহারাষ্ট্রের শেতফল গ্রাম সোলাপুর জেলায় অবস্থিত। এই গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে রয়েছে সাপের বাস। মারাত্মত বিষধর কোবরাকে নিয়েই সহবাস করেন এ গ্রামের প্রতিটি পরিবার। গোখরো এখানে খেলার সাথী। শিশুরা দিনরাত গোখরোর সঙ্গেই খেলা করে। কোনো ক্ষতি করে না বিষধর সাপেরা। নিয়ম করে সাপের লালন-পালন এই গ্রামের রীতি।

বাড়ির ছাদে এরোপ্লেন, ট্রাক্টর, কামান
পাঞ্জাবের জলন্ধরের উপ্পালা গ্রাম। আর পাঁচটা গ্রামের থেকে আলাদা। প্রত্যেক বাড়িতে ছাদের মাথায় যে জলের ট্যাঙ্ক রয়েছে, তা একেবারে ভিন্ন প্রকৃতির। ঢালাই করা চৌকো ট্যাঙ্কের বদলে এ গ্রামে বাড়ির ছাদে দেখা যায় এরোপ্লেন, ট্রাক্টর, কামান, গাড়ি। আসলে এগুলো সবই জলের ট্যাঙ্ক।

দুগ্ধজাত জিনিস বিক্রি নিষিদ্ধ
গুজরাতের কচ্ছ জেলার এই গ্রাম সাদা বিপ্লবের জন্য বিখ্যাত। এই গ্রাম অন্য সকল গ্রামের থেকে ভিন্ন। এ গ্রামে কোনো দুগ্ধজাত দ্রব্য বিক্রি করা হয় না। যদি কোনও বাড়িতে গরু-মহিষ না থাকে, তাদের বসিন্দাদের বিনামূল্যে দুধ বা দুগ্ধজাত জিনিস দেওয়া হয়। ৫০০ বছর আগে পির সইদনা গ্রামে এসে থাকতে শুরু করেন। তিনি বলেন, গ্রামে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রাখতে দুগ্ধজাত জিনিস বিক্রি করা যাবে না। শেই রীতি আজ চলছে।

এ গ্রামে দু-জন মানুষকে একই দেখতে
কেরালার কোদিনাগি গ্রামে অন্তত দু-জন মানুষকে আপনি দেখতে পাবেন একইরকম দেখতে। এমনিতেই প্রচার আছে বিশ্বে নাকি একইরকম দখতে সাত জন মানুষ থাকেন। তার মধ্যে কমপক্ষে একই দেকতে দুজনকে আপনি পাবেন। এই গ্রামে ১০০০ জনের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন মহিলা যমজ সন্তানের জন্ম দেন। এই পরিসংখ্যান বিশ্বের নিরিখে ৭০০ শতাংশ বেশি।

দরজাহীন গ্রাম
মহারাষ্ট্রে শনি শিগনাপুর গ্রাম। এ গ্রামে কোনও বাড়িতে দরজা নেই। কোন দরজা বা তালা-চাবি ছাড়াই বাস করেন এ গ্রামের মানুষজন। এ গ্রামের মানুষ একে অপরকে এতটাই বিশ্বাস করেন যে কখনই কোনো কিছু হারানোর ভয় নেই। কোনো ক্ষতির ভয়ও নেই। তাই নিঃসঙ্কোচে এ গ্রামের বাড়িতে দরজা রাখা হয় না।

একমাত্র সৌরশক্তিচালিত গ্রাম
বিহারের ধরণী গ্রামে প্রায় ত্রিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে রয়েছে সৌরশক্তি। এটি একটি সম্পূর্ণ সৌরশক্তিচালিত গ্রাম। ২৪ ঘণ্টাই এখানে বিদ্যুৎ থাকে। কখনও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয় না এই গ্রামে। আর এই গ্রামটি ভারতের একমাত্র সৌরশক্তিচালিত গ্রাম।

ভারতের শেষ গ্রাম
গ্রামের প্রবেশদ্বারে লেখা- 'ভারতের শেষ গ্রাম'। অবস্থান উত্তরাখণ্ডে। আর এই গ্রামের নামটি- মানা। উত্তরাখণ্ডের এই মানা গ্রাম থেকে পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পেরিয়ে রাস্তা চলে যাচ্ছে 'স্বর্গ'-অভিমুখে। আসলে বদ্রীনাথ মন্দিরে যেতে গেলে এই গ্রাম পেরিয়েই যেতে হবে। এই গ্রাম পেরোলেই আপনি পাবেন পুণ্যের খোঁজ।

ভারতের সংস্কৃত গ্রাম
আধুনিক ভারতে এমন কিছু গ্রাম রয়েছে, যেখানে সংস্কৃত ভাষায় কথা বলেন মানুষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এখানকার মানুষ কথা বলেন সংস্কৃতে। শুধু স্কুলে বা টোলে নয়, বাড়িতেও তাঁরা কথা বলেন সংস্কৃত ভাষায়। এই গ্রামের অতিথি বা পর্যটকদেরও তাঁরা সংস্কৃত ভাষায় কথা বলতে অনুরোধ করেন। কর্নাটকের মাত্তুর, হোসাহাল্লি; মধ্যপ্রদেশের ঝিরি, মোহাদ; ওড়িশার সাসানা; মধ্যপ্রদেশের বাঘুয়ার; রাজস্থানের গণোডা।

সবথেকে ছোট গ্রাম
ভারতের সবথেকে ছোটো জায়গা বা ছোট গ্রাম হল ধনুষ্কোডি। বিশ্বেরও সবথেকে ছোটো গ্রাম এটি। ভারত ও শ্রীলঙ্কার সীমানায় ওই অঞ্চল বালির টিলার উপর অবস্থান করছে। দৈর্ঘ্যে মাত্র ৫০ গজ প্রসারিত। এই কারণে এটিকে বিশ্বের ক্ষুদ্রতম স্থান বলে বিবেচনা করা হয়। বিশ্বের সবথেকে ছোটো জায়গা বলে যে সমস্ত এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছ, এটি তার মধ্যে অন্যতম।
ছবি সৌ:পিটিআই ও পিক্সেলস












Click it and Unblock the Notifications